
অন্টারিওর গ্রিনবেল্টে জমি ফেরানো নিয়ে দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ে প্রাদেশিক সরকারের পক্ষেই রায় দিল অন্টারিও কোর্ট অব আপিল। মিনোটার হোল্ডিংস ইনকর্পোরেশনের সাংবিধানিক চ্যালেঞ্জ খারিজ করে নিম্ন আদালত যে সিদ্ধান্ত দিয়েছিল, ২-১ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় সেই রায়ই বহাল রেখেছে আপিল আদালত।
বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে ২০২৩ সালে পাস হওয়া একটি প্রাদেশিক আইন। ওই আইনের মাধ্যমে গ্রিনবেল্ট থেকে আগে সরিয়ে নেওয়া ১৫টি জমিখণ্ডকে ফের সংরক্ষিত এলাকার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। ডেভেলপার সংস্থার দাবি ছিল, এই আইন আদালতের কর্তৃত্ব এবং সংবিধানের অলিখিত নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
মিনোটার হোল্ডিংসের প্রায় ২১০ একর জমি গ্রিনবেল্টের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। সংস্থাটি দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছিল, জমিগুলি ভুলবশত সংরক্ষিত এলাকার মধ্যে ঢুকে পড়েছে। এই দাবিকে কেন্দ্র করে ২০১৭ সালে প্রাদেশিক সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করে মিনোটার। পরে ২০২২ সালে মামলাটি নিষ্পত্তির জন্য একটি সমঝোতায় পৌঁছয় দুই পক্ষ। সেই সমঝোতা অনুযায়ী, গ্রিনবেল্টের আওতা থেকে প্রায় ৩৭ একর জমি বাদ দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পরিস্থিতি বদলে যায় পরের বছর।
২০২২ সালে গ্রিনবেল্টের কিছু জমি উন্নয়নের জন্য খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল প্রিমিয়ার ডাগ ফোর্ডের সরকার। সেই সিদ্ধান্ত ঘিরে প্রবল রাজনৈতিক ও জনসমালোচনা শুরু হয়। এরপর ২০২৩ সালে প্রদেশ আগের সমঝোতা বাতিল করে দেয়। একই সঙ্গে নতুন আইনের মাধ্যমে গ্রিনবেল্ট থেকে আগে সরিয়ে নেওয়া ১৫টি জমিখণ্ডকে ফের সংরক্ষিত এলাকার আওতায় আনা হয়। এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধেই সাংবিধানিক চ্যালেঞ্জ জানায় মিনোটার হোল্ডিংস।
মিনোটারের আইনজীবীরা আদালতে যুক্তি দেন, প্রদেশ এমন আইন প্রণয়ন করতে পারে না, যার মাধ্যমে আদালতের মাধ্যমে ইতিমধ্যে নিষ্পত্তি হওয়া একটি আইনি সমঝোতার কার্যকারিতা বদলে দেওয়া যায়। তাঁদের বক্তব্য ছিল, এই ধরনের আইন সুপ্রিম কোর্টের কর্তৃত্ব এবং সংবিধানের অলিখিত সাংবিধানিক নীতিগুলোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তবে নিম্ন আদালত সেই যুক্তি গ্রহণ করেনি। আদালত ডেভেলপারের সাংবিধানিক চ্যালেঞ্জ খারিজ করে দেয়।
শুক্রবার প্রকাশিত রায়ে অন্টারিও কোর্ট অব আপিলও নিম্ন আদালতের সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত হয়েছে। ২-১ সংখ্যাগরিষ্ঠ রায়ে বিচারপতিরা জানিয়েছেন, প্রদেশের নেওয়া পদক্ষেপে সুপিরিয়র কোর্টের কর্তৃত্ব লঙ্ঘিত হয়নি। আদালতের সংখ্যাগরিষ্ঠ মত অনুযায়ী, মিনোটারের যুক্তি গ্রহণ করা হলে তা সাংবিধানিক ভারসাম্যের জন্য গুরুতর সমস্যা তৈরি করতে পারে। সেই কারণে ডেভেলপারের সাংবিধানিক চ্যালেঞ্জ খারিজ হওয়াই উচিত। ফলে আপাতত ২০২৩ সালের ওই আইন বহাল থাকল এবং গ্রিনবেল্টে সংশ্লিষ্ট জমিগুলি ফের সংরক্ষিত এলাকার অংশ হিসেবেই রয়ে গেল।
এই মামলার গুরুত্ব শুধু মিনোটার হোল্ডিংসের জমি নিয়ে নয়। আদালতের রায়ে মূলত প্রশ্ন উঠেছিল কোনও প্রাদেশিক আইনসভা কি আদালতে হওয়া পূর্ববর্তী নিষ্পত্তির পরিণতি আইন করে পরিবর্তন করতে পারে? অন্টারিও কোর্ট অব আপিলের সংখ্যাগরিষ্ঠ রায় সেই সাংবিধানিক প্রশ্নে প্রদেশের অবস্থানকেই সমর্থন করেছে। তবে ২-১ ব্যবধানে রায় হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে বিচারকদের মধ্যে মতপার্থক্যও স্পষ্ট হয়েছে।
২১০ একর জমি নিয়ে মিনোটারের দীর্ঘ আইনি লড়াই, ২০২২ সালের ৩৭ একর জমি নিয়ে সমঝোতা এবং ২০২৩ সালে গ্রিনবেল্টে ১৫টি জমিখণ্ড ফেরানোর আইন এই তিনটি বিষয়ই মামলার কেন্দ্রবিন্দু। আপিল আদালত এখন নিম্ন আদালতের রায় বহাল রাখায় প্রাদেশিক সরকারের সিদ্ধান্ত আপাতত আইনি স্বীকৃতি পেল।

