
থাইল্যান্ডের পর্যটননগরী পাতায়ার কাছে নোঙর করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন
থাইল্যান্ডের পর্যটননগরী পাতায়ার কাছে নোঙর করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন। টানা প্রায় ২৫০ দিন কোনো বন্দরে না থেমে সমুদ্রে থাকার পর এবার প্রথমবারের মতো স্থলে পা রাখার সুযোগ পাচ্ছেন রণতরীটির প্রায় ৫ হাজার মার্কিন সেনা ও ক্রু সদস্য।
দীর্ঘদিন সমুদ্রে দায়িত্ব পালনের ফলে সেনাদের মধ্যে মানসিক চাপ তৈরি হওয়া, টয়লেট ব্যবস্থায় সমস্যা এবং খাবারের ঘাটতির মতো নানা বিষয় সামনে আসার পর কয়েক দিনের বিশ্রাম ও বিনোদনের জন্য রণতরীটি থাইল্যান্ডে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
১৯৭৫ সালে সাইগন পতনের পর যুদ্ধক্ষেত্র থেকে এত বিপুলসংখ্যক মার্কিন সেনার একসঙ্গে পাতায়ায় আসার ঘটনা এবারই প্রথম বলে জানিয়েছে বিবিসি।
তবে সেনাদের অবকাশযাপন ঘিরে যাতে কোনো বিতর্ক তৈরি না হয়, সে জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও থাইল্যান্ডের পক্ষ থেকে বেশ কিছু কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। বিশেষ করে পাতায়ার যৌনপল্লি হিসেবে পরিচিত সই-সিক্স এলাকায় মার্কিন সেনাদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে শহরের গাঁজার দোকানগুলোতেও তাদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
পাতায়ার মেয়র পোরামাসে এনগাম্পিচেস বিবিসিকে বলেন, ‘এটা তাদের সিদ্ধান্ত, মার্কিন সামরিক বাহিনী তাদের হোমওয়ার্ক সেরে নিয়েছে।’
থাইল্যান্ডে পতিতাবৃত্তি আইনত নিষিদ্ধ হলেও পাতায়া দীর্ঘদিন ধরে যৌন পর্যটনের জন্য পরিচিত। শহরটিতে প্রায় ২৫ হাজার থেকে ৫০ হাজার যৌনকর্মী কাজ করেন বলে ধারণা করা হয়।
শুধু যৌনপল্লি বা গাঁজার দোকান নয়, সেনাদের ঝুঁকিপূর্ণ বিনোদন থেকেও দূরে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সাগরে প্যারাসেইলিং ও জলযান চালানোর মতো কর্মকাণ্ডও রয়েছে।
মার্কিন সেনাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পাতায়াজুড়ে শত শত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সতর্ক করা হয়েছে, যাতে সেনাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের চেষ্টা না করা হয়।
পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী ৬ সেপ্টেম্বর রণতরীটি পাতায়া ছেড়ে প্রশান্ত মহাসাগর পাড়ি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে রওনা হবে।

