
ফরিদপুরের নগরকান্দায় ধুমধাম করে বিয়ের আয়োজনের দুদিন পর কিশোরী কনে ও তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে বিয়ে অস্বীকার করে অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে প্রায় দেড় মাস ধরে কারাগারে রয়েছেন রুমন খন্দকার (২১) নামে এক যুবক।
রুমন উপজেলার তালমা ইউনিয়নের মনোহরপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং পেশায় কাঠমিস্ত্রি। গত ২ জুলাই তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রাসুল সামদানি আজাদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয় সূত্র ও রুমনের পরিবারের দাবি, গত ২২ মে ডাঙ্গী ইউনিয়নের শংকরপাশা গ্রামের মিরাজ মাতুব্বরের মেয়ে মিলা আক্তারকে (১৫) ধর্মীয় ও সামাজিক রীতিতে বিয়ে করেন রুমন। বিয়েকে কেন্দ্র করে গায়েহলুদ, নাচ-গান, খাবারের আয়োজন ও বরযাত্রাসহ নানা আনুষ্ঠানিকতা হয়। প্রায় ৪০ জন বরযাত্রী কনের বাড়িতে যান। পরে দুই পরিবারের স্বজন ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।
কনের বয়স কম হওয়ায় বিয়েটি নিবন্ধন করা হয়নি বলে দাবি করেছে রুমনের পরিবার। প্রাপ্তবয়স্ক হলে নিবন্ধন করার কথা ছিল বলেও তারা জানায়। বিয়ের অনুষ্ঠান ও কনেকে বরের বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার বিভিন্ন ছবি ও ভিডিও পরিবারের পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের দেওয়া হয়েছে।
রুমনের মামা হাফিজুর রহমানের দাবি, বিয়ের পর থেকেই নবদম্পতির মধ্যে মনোমালিন্য শুরু হয়। দুই দিন পর সামাজিক আনুষ্ঠানিকতার জন্য কনের বাড়িতে গেলে মিলা আর রুমনের বাড়িতে ফিরতে চাননি। পরে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও তিনি আর ফিরে আসেননি।
তবে কিশোরী ও তাঁর পরিবারের দাবি, কোনো বিয়েই হয়নি। গত ২ জুলাই মিলার দাদি জহুরন খাতুন (৫২) নগরকান্দা থানায় অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, ১৯ জুন বিকেলে বাড়ির পাশ থেকে মাইলাকে একটি মাইক্রোবাসে করে অপহরণ করা হয়। পরে রুমনের বাড়িতে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ ও শারীরিক নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরদিন সেখান থেকে পালিয়ে এসে মিলা পরিবারকে বিষয়টি জানান। পরে তাঁকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
নগরকান্দা থানার ওসি রাসুল সামদানি আজাদ বলেন, অভিযোগের সঙ্গে চিকিৎসার কাগজপত্র দেওয়া হয়েছিল। লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করা হয় এবং তদন্তের পর রুমনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ওসি আরও জানান, মামলার এজাহারে বিয়ের কোনো বিষয় উল্লেখ করা হয়নি এবং পুলিশকেও বিয়ের বিষয়ে জানানো হয়নি।
ঘটনাটি নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র পাওয়া গেছে। রুমনের পরিবার বিয়ের ছবি ও ভিডিও দেখিয়ে সামাজিকভাবে বিয়ে হওয়ার দাবি করছে। অন্যদিকে কিশোরী ও তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে বিয়ে অস্বীকার করে ধর্ষণের অভিযোগ আনা হয়েছে।
এ অবস্থায় প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন রুমনের স্বজনেরা। মামলার অভিযোগের সত্যতা ও বিয়ের বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমেই স্পষ্ট হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

