জার্মান বধের নায়ক, একসময় সন্তানকে বাঁচাতে বিক্রি করেছিলেন ‘সবকিছু’

জার্মান বধের নায়ক, একসময় সন্তানকে বাঁচাতে বিক্রি করেছিলেন ‘সবকিছু’ - the Bengali Times
জার্মানিকে হারানোর পর অরল্যান্ডোসহ প্যারাগুয়ে ফুটবলারদের উচ্ছ্বাস ছবি সংগৃহীত

একসময় সন্তানের চিকিৎসার খরচ জোগাতে নিজের ফুটবল বুট, জার্সি ও ট্রেনিং সরঞ্জাম বিক্রি করতে হয়েছিল প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক অরল্যান্ডো গিলকে। সেই কঠিন সময় পেরিয়ে আজ বিশ্বকাপের মঞ্চে তিনিই হয়ে উঠেছেন প্যারাগুয়ের সবচেয়ে বড় নায়ক।

ফিফা বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ৩২-এ শক্তিশালী জার্মানির বিপক্ষে টাইব্রেকারে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে প্যারাগুয়েকে শেষ ষোলোয় তুলেছেন ২৬ বছর বয়সী এই গোলরক্ষক। ম্যাচসেরার পুরস্কারও উঠেছে তাঁর হাতে।

- Advertisement -

জার্মানি ও প্যারাগুয়ের ম্যাচটি নির্ধারিত সময় ও অতিরিক্ত সময় শেষে ১-১ গোলে ড্র হয়। ৪২তম মিনিটে হুলিও এনসিসোর গোলে এগিয়ে যায় প্যারাগুয়ে। তবে ৫৪তম মিনিটে কাই হাভার্টজ জার্মানির হয়ে সমতা ফেরান। এরপর আর কোনো গোল না হলে ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে।

সেখানে প্যারাগুয়ে ৪-৩ ব্যবধানে জয় তুলে নেয়। জার্মানির একের পর এক আক্রমণ ঠেকিয়ে এবং টাইব্রেকারে ঠাণ্ডা মাথায় সেভ করে গিল হয়ে ওঠেন ম্যাচের নায়ক।

তবে মাঠের বাইরের গিলের গল্প আরও বেশি সংগ্রামের। সন্তানের জন্মের সময় জটিল চিকিৎসা ব্যয় সামলাতে গিয়ে একসময় আর্থিক সংকটে পড়েছিলেন তিনি। বাধ্য হয়ে নিজের ফুটবল বুট, ট্রেনিং কিট এমনকি অনূর্ধ্ব-২০ জাতীয় দলের জার্সিও বিক্রি করেছিলেন।

গিলের স্ত্রী মেলিসা অ্যাভালোস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছিলেন, তাঁদের সন্তানের জন্মের সময় পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত কঠিন। চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে গিল নিজের কাছে থাকা প্রায় সবকিছুই বিক্রি করে দিয়েছিলেন।

পেশাদার ফুটবলে গিলের পথও ছিল দীর্ঘ সংগ্রামের। আর্জেন্টিনার ক্লাব San Lorenzo de Almagro-এর হয়ে খেলছেন তিনি। জাতীয় দলের হয়ে এটি ছিল তাঁর দশম ম্যাচ।

অল্প অভিজ্ঞতা নিয়েই বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে এসে গিল দেখিয়ে দিয়েছেন মানসিক শক্তি ও আত্মবিশ্বাস কতটা গুরুত্বপূর্ণ। যে মানুষটি একদিন সন্তানের জীবন বাঁচাতে নিজের স্বপ্নের জিনিসগুলো বিক্রি করেছিলেন, সেই মানুষটিই এখন প্যারাগুয়ের কোটি মানুষের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রেখেছেন।

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles