কানাডার প্রশংসা করলেন আর্মেনিয়ার রাষ্ট্রদূত

কানাডার প্রশংসা করলেন আর্মেনিয়ার রাষ্ট্রদূত - the Bengali Times
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রদূত হাউরটিয়ুনিয়ান বলেন আমাদের কাছে গণতন্ত্র কেবল একটি রাজনৈতিক শ্লোগান নয়

ককেশীয় দেশ আর্মেনিয়ার গণতান্ত্রিক সংস্কার ও রাজনৈতিক পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে কানাডার ধারাবাহিক সহায়তার প্রশংসা করেছেন অটোয়ায় নিযুক্ত আর্মেনিয়ার রাষ্ট্রদূত আনাহিত হাউরটিয়ুনিয়ান। তবে একই সঙ্গে আর্মেনিয়া-কানাডিয়ান সম্প্রদায়ের একটি প্রভাবশালী সংগঠন অভিযোগ তুলেছে, দক্ষিণ ককেশাস অঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে কানাডার ফেডারেল সরকার যথেষ্ট সক্রিয় ভূমিকা নিচ্ছে না।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রদূত হাউরটিয়ুনিয়ান বলেন, “আমাদের কাছে গণতন্ত্র কেবল একটি রাজনৈতিক শ্লোগান নয়। অত্যন্ত জটিল ও কঠিন ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতায় এটি আমাদের সচেতন সিদ্ধান্ত। আর্মেনিয়ার প্রতিটি নাগরিক জানে, স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র রক্ষা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। আর সেই কারণেই আমরা কানাডার মতো দেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলেছি, যারা আমাদের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষাকে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে।”

- Advertisement -

তার এই মন্তব্য এসেছে এমন এক সময়ে, যখন আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের মধ্যকার সম্পর্ক আবারও আন্তর্জাতিক আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে। চলতি মাসের গোড়ার দিকে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি আর্মেনিয়ার রাজধানী ইয়েরেভান সফর করেন। ওই সফরকে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

দক্ষিণ ককেশাস অঞ্চলের বিতর্কিত এলাকা নগরনো-কারাবাখ নিয়ে কয়েক দশক ধরে বিরোধ চলছে আর্মেনিয়া এবং আজারবাইজানের মধ্যে। আন্তর্জাতিকভাবে অঞ্চলটি আজারবাইজানের অংশ হিসেবে স্বীকৃত হলেও, সেখানে দীর্ঘদিন ধরে সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠী ছিল জাতিগত আর্মেনীয়।

সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর থেকেই অঞ্চলটি নিয়ে একাধিক দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। বিশেষ করে ২০২০ সালের যুদ্ধ এবং তার পরবর্তী পরিস্থিতি দুই দেশের সম্পর্ককে আরও উত্তপ্ত করে তোলে। ২০২৩ সালে পরিস্থিতি নতুন মাত্রা পায়, যখন আজারবাইজান নগরনো-কারাবাখে প্রবেশের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে। এর ফলে এক লাখেরও বেশি আর্মেনীয় বাসিন্দা অঞ্চল ছেড়ে পালাতে বাধ্য হন।

কানাডা ওই ঘটনাকে “জোরপূর্বক আর্মেনীয়দের স্থানান্তর” হিসেবে উল্লেখ করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অনেকেও সেই সময় মানবিক সংকটের আশঙ্কা প্রকাশ করেছিল।

যদিও কানাডা আর্মেনিয়ার গণতান্ত্রিক সংস্কার ও মানবাধিকার ইস্যুতে প্রকাশ্যে সমর্থন দিয়ে আসছে, তবুও আর্মেনিয়া-কানাডিয়ান সংগঠনগুলোর একাংশ মনে করছে, আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় অটোয়ার আরও দৃঢ় কূটনৈতিক উদ্যোগ প্রয়োজন।

তাদের মতে, শুধুমাত্র মানবিক সহায়তা বা রাজনৈতিক সমর্থন যথেষ্ট নয়; বরং আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের মধ্যে টেকসই শান্তিচুক্তি প্রতিষ্ঠায় আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানো জরুরি। বিশেষজ্ঞদের একাংশও মনে করছেন, দক্ষিণ ককেশাস বর্তমানে রাশিয়া, তুরস্ক, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও পশ্চিমা শক্তিগুলোর ভূ-রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে। ফলে কানাডার মতো মধ্যম শক্তিধর দেশগুলোর অবস্থানও ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

রাষ্ট্রদূত হাউরটিয়ুনিয়ানের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে যে, আর্মেনিয়া এখন নিজেকে শুধু একটি নিরাপত্তা-সংকটে থাকা রাষ্ট্র হিসেবে নয়, বরং একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে আন্তর্জাতিক মহলে তুলে ধরতে চায়। তবে বাস্তবতা হলো, সীমান্ত উত্তেজনা, উদ্বাস্তু সংকট এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ এখনো দেশটির জন্য বড় বাধা হয়ে রয়েছে।

কানাডার সমর্থন আর্মেনিয়ার জন্য কূটনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হলেও, ভবিষ্যতে এই সমর্থন কতটা কার্যকর হবে তা নির্ভর করবে দক্ষিণ ককেশাসে শান্তি প্রক্রিয়া কতদূর এগোয় তার ওপর।

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles