বিলি বিশপ সম্প্রসারণ নিয়ে সমালোচনার মুখে ফোর্ড

বিলি বিশপ সম্প্রসারণ নিয়ে সমালোচনার মুখে ফোর্ড - the Bengali Times
বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন অন্টারিওর পরিবহনমন্ত্রী পাবমিত সরকারিয়া

টরন্টোর ব্যস্ত নগরজীবনের মাঝখানে অবস্থিত বিলি বিশপ বিমানবন্দরকে ঘিরে আবারও নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তুঙ্গে উঠেছে। রানওয়ে সম্প্রসারণ এবং জেট বিমান পরিচালনার পরিকল্পনা সামনে এনে অন্টারিওর ফোর্ড সরকার একদিকে যেমন অর্থনৈতিক উন্নয়নের স্বপ্ন দেখাচ্ছে, অন্যদিকে বিরোধীরা প্রশ্ন তুলছে প্রকল্পটির বাস্তবতা, পরিবেশগত প্রভাব এবং পরিকল্পনার স্বচ্ছতা নিয়ে।

এই প্রেক্ষাপটে “বিল্ডিং বিলি বিশপ এয়ারপোর্ট অ্যাক্ট, ২০২৬” বর্তমানে কুইন’স পার্কের হেরিটেজ, ইনফ্রাস্ট্রাকচার অ্যান্ড কালচারাল পলিসি বিষয়ক স্থায়ী কমিটির পর্যালোচনার অধীনে রয়েছে। দ্বিতীয় দফার পরীক্ষা-নিরীক্ষার সময় মঙ্গলবারের বৈঠকে সরকার ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় পরিস্থিতিকে আরও রাজনৈতিক রূপ দেয়।

- Advertisement -

বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন অন্টারিওর পরিবহনমন্ত্রী পাবমিত সরকারিয়া এবং এনডিপির স্পাদিনা–ফোর্ট ইয়র্ক আসনের এমপিপি ক্রিস গ্লোভার। গ্লোভার সরাসরি জানতে চান, সরকার যে দাবি করছে বিমানবন্দর সম্প্রসারণের ফলে টরন্টোর অর্থনীতিতে প্রায় ৮৫০ কোটি ডলারের ইতিবাচক প্রভাব পড়বে তার পক্ষে বাস্তবভিত্তিক কোনো সমীক্ষা বা তথ্য রয়েছে কি না।

সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, রানওয়ে সম্প্রসারণ এবং জেট পরিচালনার অনুমতি পেলে বিলি বিশপ বিমানবন্দরের যাত্রীসংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে। বর্তমানে বছরে প্রায় ২০ লাখ যাত্রী ব্যবহার করলেও ভবিষ্যতে তা এক কোটিতে পৌঁছাতে পারে বলে সরকারের ধারণা। সেই বাড়তি যাত্রী চলাচল, পর্যটন, ব্যবসা ও বিনিয়োগের মাধ্যমেই টরন্টোর অর্থনীতি লাভবান হবে বলে দাবি করা হয়।

তবে বিরোধীরা এই হিসাবকে অতিরঞ্জিত বলেই মনে করছে। ক্রিস গ্লোভার বৈঠকের সময় সরাসরি প্রশ্ন তোলেন বিমানবন্দরটিকে জেট পরিচালনার উপযোগী করতে আদৌ কোনো পূর্ণাঙ্গ সমীক্ষা করা হয়েছে কি না। তিনি মন্ত্রীর কাছে শুধু “হ্যাঁ” অথবা “না” উত্তর দাবি করেন। জবাবে পরিবহনমন্ত্রী পাবমিত সরকারিয়া বলেন, টরন্টো পোর্ট অথরিটি (টিপিএ) এ সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রতিবেদন তৈরি ও মূল্যায়নের কাজ করেছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রফেরত যাত্রীদের সুবিধার্থে ফেডারেল সরকারের আগেই অনুমোদিত বিনিয়োগের বিষয়টিও তিনি উল্লেখ করেন। কিন্তু মন্ত্রীর এই উত্তরে সন্তুষ্ট হননি গ্লোভার। তিনি মাঝপথেই সরকারিয়াকে থামিয়ে দিয়ে মন্তব্য করেন, “আমি এটাকে ‘না’ হিসেবেই ধরে নিচ্ছি। কারণ এখানে কোনো নির্দিষ্ট সমীক্ষার কথা আমি শুনিনি।”

এই মন্তব্যের পর কমিটির পরিবেশ আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, সরকার প্রথমে রাজনৈতিকভাবে জনপ্রিয় একটি উন্নয়ন প্রকল্পের প্রচার চালাচ্ছে, পরে প্রয়োজনীয় গবেষণা ও পরিবেশগত মূল্যায়নের বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিচ্ছে। বিশেষ করে বিলি বিশপ বিমানবন্দরটি টরন্টোর ডাউনটাউন এলাকার একেবারে কাছে হওয়ায় শব্দদূষণ, পরিবেশ দূষণ এবং বসবাসকারীদের জীবনযাত্রার ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

এই প্রকল্প কেবল একটি অবকাঠামোগত উন্নয়ন পরিকল্পনা নয়; এটি অন্টারিও সরকারের বৃহত্তর অর্থনৈতিক ও পরিবহন কৌশলের অংশ। ফোর্ড সরকার দীর্ঘদিন ধরেই পরিবহন অবকাঠামো সম্প্রসারণকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে তুলে ধরছে। কিন্তু বিলি বিশপের মতো ঘনবসতিপূর্ণ নগর অঞ্চলে অবস্থিত বিমানবন্দর সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে জনমত, পরিবেশগত ভারসাম্য এবং নগর পরিকল্পনার বিষয়গুলোও সমান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

ফলে আগামী দিনে এই বিলকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সরকার যেখানে এটিকে অর্থনৈতিক সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত হিসেবে তুলে ধরছে, বিরোধীরা সেখানে প্রকল্পটির বাস্তবতা ও জনস্বার্থ নিয়ে আরও কঠোর প্রশ্ন তুলতে প্রস্তুত।

সোহেলি আহমেদ সুইটি : লোকাল জার্নালিজম ইনিশিয়েটিভ রিপোর্টার

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles