
কানাডার বৃহত্তম শহর টরন্টোতে পুলিশের বিরুদ্ধে একের পর এক গুরুতর অভিযোগ সামনে আসায় নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জবাবদিহি ও জনআস্থাকে ঘিরে। এমন পরিস্থিতিতে টরন্টো পুলিশের প্রতি জনগণের আস্থা পুনর্গঠন করা এখন শহরের শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ বলে মন্তব্য করেছেন টরন্টোর মেয়র অলিভিয়া চাউ।
মঙ্গলবার এক জনসম্মুখ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখার সময় মেয়রের কাছে সম্প্রতি তিন টরন্টো পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ওঠা গুরুতর অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, দায়িত্বের বাইরে এবং স্পেনে ব্যক্তিগত ছুটি কাটানোর সময় ওই কর্মকর্তারা অনৈতিক ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন।
প্রতিক্রিয়ায় মেয়র অলিভিয়া চাউ বলেন, “কারও বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ প্রমাণিত হলে, বিশেষ করে যৌন হয়রানি বা সহিংসতার মতো ঘটনায় জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে অবশ্যই তার শাস্তি হওয়া উচিত।” তবে মামলাটি বর্তমানে আদালতের বিচারাধীন থাকায় বিস্তারিত মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকেন তিনি।
এদিকে, টরন্টো পুলিশ সার্ভিসের একজন মুখপাত্রও তদন্তাধীন ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। স্পেনের বার্সেলোনায় যৌন হয়রানি এবং এক যৌনকর্মীর ওপর নিপীড়নের অভিযোগে ওই তিন কানাডিয়ান পুলিশ কর্মকর্তাকে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ গ্রেপ্তার করে।
প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত কর্মকর্তারা ছুটিতে থাকাকালীন সময়েই এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে টরন্টো পুলিশ প্রশাসন ইতোমধ্যে কঠোর অবস্থান নিয়েছে।
টরন্টো পুলিশ সার্ভিসের মুখপাত্র জানিয়েছেন, অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের মধ্যে একজন কানাডায় ফেরার পরপরই তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। কমিউনিটি সেফটি অ্যান্ড পুলিশিং অ্যাক্ট অনুযায়ী পুলিশপ্রধানের ক্ষমতাবলে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এছাড়া বাকি দুই কর্মকর্তা দেশে ফিরলে তাদের বিরুদ্ধেও একই ধরনের প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
ঘটনাটি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন টরন্টো পুলিশ সার্ভিস বোর্ডের প্রধান কাউন্সিলর শেলি ক্যারোলও। তিনি বলেন, “পুলিশ কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালনকালীন হোক বা ব্যক্তিগত ছুটিতে থাকুন না কেন, জনগণ তাদের কাছ থেকে সর্বোচ্চ নৈতিক আচরণ প্রত্যাশা করে।”
তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো শুধু পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তিকেই ক্ষতিগ্রস্ত করেনি, বরং সাধারণ মানুষের মনে আস্থার সংকটও তৈরি করেছে। তাই দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে বিষয়টির নিষ্পত্তি হওয়া প্রয়োজন।
টরন্টো পুলিশের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক অভিযোগগুলো এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন কানাডাজুড়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জবাবদিহিতা এবং মানবাধিকার ইস্যু নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে পুলিশ সদস্যদের ব্যক্তিগত আচরণ ও বিদেশ সফরের সময় তাদের কর্মকাণ্ড নিয়েও নজরদারির দাবি উঠছে।
এই ঘটনায় রাজনৈতিক মহল থেকে শুরু করে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মধ্যেও প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, কেবল প্রশাসনিক বরখাস্ত নয়, বরং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অপরাধের অভিযোগ প্রমাণিত হলে কঠোর আইনি ব্যবস্থাও নিশ্চিত করতে হবে।
টরন্টো পুলিশের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো—জনগণের হারানো আস্থা পুনরুদ্ধার করা এবং প্রমাণ করা যে, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়; এমনকি আইন প্রয়োগকারী বাহিনীর সদস্যরাও নয়।
সোহেলি আহমেদ সুইটি : লোকাল জার্নালিজম ইনিশিয়েটিভ রিপোর্টার

