যাদের কারণে কলঙ্কিত বাংলাদেশ ক্রিকেট
দ্য বেঙ্গলি টাইমস ডটকম ডেস্ক
অ+ অ-প্রিন্ট
রুবেল হোসেনকে দিয়ে কলঙ্কের শুরু৷ হ্যাপি নামের এক মডেল-অভিনেত্রীর সঙ্গে যৌন সঙ্গমের অপরাধ আনার মধ্য দিয়ে কলঙ্ক লাগে টাইগার ক্রিকেটে। এরপর আরও বেশ কয়েকজন ক্রিকেটার নারী কেলেঙ্কারিসহ নানা কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে পড়েন। এর সর্বশেষ সংযোজন ২২ বছর বয়সি মোসাদ্দেক হোসেন৷ সম্প্রতি তাঁর বিরুদ্ধে নির্যাতন ও যৌতুক দাবির মামলা করেছেন তাঁর স্ত্রী৷ এই পর্যন্ত তিনজন ক্রিকেটার জেলও খেটেছেন৷

রুবেল হোসেন:

২০১৪ সালের ডিসেম্বরে এই পেসারের বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন চিত্রনায়িকা নাজনীন আক্তার হ্যাপী৷ অভিযোগ, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন৷ মামলার জের ধরে জেলে যেতে হয় রুবেলকে৷ ২০১৫ সালের বিশ্বকাপে অংশ নিতে দেশ ছাড়ার আগে তাঁকে আদালতের অনুমতি নিতে হয়েছিল৷ পরে নির্দোষ প্রমাণিত হয়ে মুক্তি পান রুবেল৷

আরাফাত সানি

নাসরিন সুলতানা নামে এক নারী ২০১৭ সালে আরাফাত সানির বিরুদ্ধে তথ্যপ্রযুক্তি আইনে মামলা করেন৷ ঐ তরুণীর দাবি, ২০১৪ সালে সানির সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়েছিল৷ পরবর্তীতে সানি আরেকজনের সঙ্গে সংসার শুরু করেন৷ একসময় সানি ভুয়া ফেসবুক আইডি খুলে নাসরিনের অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি তাঁকে পাঠান বলে অভিযোগ তাঁর৷ সেসব ছবি অন্তর্জালে ছড়িয়ে দেবারও নাকি হুমকি দিয়েছিলেন সানি৷ এই ঘটনায় সানি গ্রেফতার হয়ে ৫৩ দিন কারাগারে ছিলেন৷

শাহাদাত হোসেন:

শিশু গৃহকর্মী নির্যাতনের মামলায় ২০১৫ সালে প্রায় দুইমাস জেলে ছিলেন এই পেসার৷ পরে ঐ গৃহকর্মীর পরিবারের সঙ্গে সমঝোতা হলে মামলা থেকে মুক্তি পান তিনি৷ শাহাদাত ও তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা হলে প্রথমে তাঁরা আত্মগোপনে চলে গিয়েছিলেন৷ একমাস পর পুলিশ শাহাদাতের স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করলে পরদিন আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চেয়েছিলেন শাহাদাত৷ কিন্তু আদালত জামিন না দিয়ে তাঁকে কারাগারে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন৷

মোহাম্মদ শহীদ

জাতীয় দলে সুযোগ পেয়ে এই পেসার অন্য মেয়েদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেন বলে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে অভিযোগ করেছিলেন শহীদের স্ত্রী ফারজানা আক্তার৷ তিনি বলেন, শহীদ নাকি একবার তাঁকে ছাদে নিয়ে গিয়ে ধাক্কা মেরে ফেলে দিতেও চেয়েছিলেন৷ এসব ঘটনায় মামলা করার পরিকল্পনার কথা জানালে ভয়ে আবার সংসার শুরু করেছেন শহীদ৷

সাব্বির আহমেদ:

২০১৬ সালে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) চলার সময় চট্টগ্রামে নিজের হোটেল কক্ষে ‘নারী অতিথি’ নিয়ে রাত্রিযাপন করার অপরাধে সাব্বিরকে মোটা অঙ্কের জরিমানা করা হয়েছিল৷ এরপর গত বছরের ডিসেম্বরে জাতীয় লিগের ম্যাচ চলাকালীন এক কিশোর দর্শককে পিটিয়ে আবারও বোর্ডের আদালতে হাজির হতে হয়েছিল সাব্বিরকে৷ সবশেষ কিছুদিন আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ চলার সময় ফেসবুকে দুই সমর্থককে অকথ্য গালিগালাজ করেন তিনি৷

আল আমিন হোসেন:

চট্টগ্রামে হোটেল কক্ষে ‘নারী অতিথি’ নিয়ে যাওয়ায় আল আমিনকেও জরিমানা করা হয়েছিল৷ এছাড়া ‘গুরুতর শৃঙ্খলাবহির্ভূত কর্মকাণ্ডে’ জড়িয়ে পড়ায় ২০১৫ সালের বিশ্বকাপ থেকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছিল তাঁকে৷

নাসির হোসেন:

সম্প্রতি নাসির হোসেনের সঙ্গে এক তরুণীর ফোন কথোপকথনের অডিও ভাইরাল হয়ে গিয়েছিল৷ ঐ তরুণী নিজেকে নাসিরের বান্ধবী পরিচয় দিয়েছেন৷ এরপর সেই তরুণী ফেসবুক লাইভে এসেও নাসিরের বিরুদ্ধে নানান অভিযোগ আনেন৷

মোসাদ্দেক হোসেন:

সম্প্রতি তাঁর বিরুদ্ধে নির্যাতন ও ১০ লাখ টাকা যৌতুক দাবির মামলা করেন স্ত্রী সামিয়া শারমীন৷ এতে উল্লেখ করা হয়, ছয় বছর আগে তাঁদের বিয়ে হলেও সেটি গোপন রাখেন মোসাদ্দেক৷ জাতীয় দলে সুযোগ পাবার পর অন্য মেয়েদের সঙ্গে মোসাদ্দেক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন বলেও অভিযোগ তাঁর স্ত্রীর৷ তবে মোসাদ্দেকের দাবি, বনিবনা না হওয়ায় দিন দশেক আগেই সামিয়াকে তালাক দিয়েছেন তিনি৷

মোহাম্মদ আশরাফুল:

টাইগার ক্রিকেটকে যিনি অর্থের কাছে বিক্রি করে দিয়েছিলেন, তিনি আর কেউ নয়। টেস্ট ক্রিকেটের সর্বকনিষ্ঠ ক্রিকেটার মোহাম্মদ আশরাফুল। আর এই কেলেঙ্কারির ঘটনা নাড়িয়ে দিয়েছিল টাইগার ক্রিকেটকেও। বিশ্বে টাইগারদের সম্মানে কলঙ্ক লেপন করায় ক্রিকেট থেকে নির্বাসনেও যেতে হয়েছে তাকে। ৫ বছরের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে আবারও স্বপ্ন দেখছেন ফেরার। সূত্র: একুশে টিভি অনলাইন'র।

 

৩০ আগস্ট, ২০১৮ ২৩:১৯:৫১