দুই আসামিকে দেখামাত্র গুলি করার নির্দেশ
দ্য বেঙ্গলি টাইমস ডটকম ডেস্ক
অ+ অ-প্রিন্ট
গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলার অন্যতম দুই পরিকল্পনাকারিকে পুলিশ গ্রেফতার করতে না পারায় তাদের দেখামাত্র গুলি করার নির্দেশ (হুলিয়া) দেওয়াসহ তাদের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোকের আদেশ জারি করা হয়েছে। পলাতকরা হলেন শরিফুল ইসলাম ও মামুনুর রশিদ। গতকাল বুধবার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মজিবুর রহমান ওই আদেশ দেন। একইসঙ্গে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর জারি করা আদেশ তামিল সংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য করেন। ওই ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর (রাষ্ট্রপক্ষের কৌশলি) গোলাম সারোয়ার খান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আদালতের জারি করা গ্রেফতারি পরোয়ানা তামিল করতে না পারায় পুলিশ প্রতিবেদন দাখিল করে। এর প্রেক্ষিতে ওই আদেশ দিয়েছেন বিচারক। 

গতকাল বুধবার মামলার চার্জশিটভুক্ত কারাগারে থাকা ছয় আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়েছে। এরা হলেন, হামলার মূল সমন্বয়ক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কানাডার নাগরিক তামিম চৌধুরীর সহযোগী আসলাম হোসেন ওরফে রাশেদ ওরফে আবু জাররা ওরফে র‌্যাশ, অস্ত্র ও বিস্ফোরক সরবরাহকারী নব্য জেএমবি নেতা হাদিসুর রহমান সাগর, নব্য জেএমবির অস্ত্র ও বিস্ফোরক শাখার প্রধান মিজানুর রহমান ওরফে বড় মিজান, জঙ্গি রাকিবুল হাসান রিগ্যান, জাহাঙ্গীর আলম ওরফে রাজীব ওরফে রাজীব গান্ধী, হামলার অন্যতম পরিকল্পনাকারি আব্দুস সবুর খান (হাসান) ওরফে সোহেল মাহফুজ।

গত ৮ আগষ্ট ওই আট আসামির বিরুদ্ধে চার্জশিট গ্রহণ করে পলাতক থাকা দুইজনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়। একইসঙ্গে চার্জশিট থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয় নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির প্রাক্তন শিক্ষক হাসনাত রেজা করিমকে। চলতি বছরের গত ২৩ জুলাই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কাউন্টার টেররিজম বিভাগের পরিদর্শক হুমায়ূন কবির মামলাটিতে চার্জশিট দাখিল করেন। ওই ঘটনার সাথে সম্পৃক্ততার কোন তথ্য উপাত্ত না পাওয়ায় হাসনাত করিমকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করা হয়।

২০১৬ সালের ১ জুলাই রাত পৌনে ৯টার দিকে হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলা চালায় বন্দুকধারীরা। হামলার পর রাতেই তারা ২০ জনকে হত্যা করে। সেদিনই উদ্ধার অভিযানের সময় বন্দুকধারীদের বোমার আঘাতে নিহত হন পুলিশের দুই কর্মকর্তা। পরের দিন সকালে সেনা কমান্ডোদের অভিযানে নিহত হয় পাঁচ হামলাকারী। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরেকজনের মৃত্যু হয়। জীবিত উদ্ধার করা হয় ১৩ জিম্মিকে। ওই ঘটনার তিনিদন পর ৪ জুলাই নিহত ৫ জঙ্গিসহ অজ্ঞাতদের আসামি করে গুলশান থানায় সন্ত্রাস দমন আইনে মামলা দায়ের করা হয়।

 

 

 

 

৩০ আগস্ট, ২০১৮ ১০:০৮:২১