‘আত্মহত্যার হুমকি দিয়ে শারমিনকে বিয়ে করেন মোসাদ্দেক’
দ্য বেঙ্গলি টাইমস ডটকম ডেস্ক
অ+ অ-প্রিন্ট
ক্রিকেটারদের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ উঠছে। রুবেল, আরাফাত সানি, শাহাদাত হোসেনের পর এবার গুরুত্বর অভিযোগ উঠেছে জাতীয় দলের তরুণ অলরাউন্ডার মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের বিরুদ্ধে। সৈকতের বিরুদ্ধে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগে মামলা করেছেন তার সাবেক স্ত্রী সামিয়া শারমিন। ময়মনসিংহের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে যৌতুক নিরোধ আইন ৩ ও ৪ ধারায় এ অভিযোগ করেন তিনি। খবর একুশে টিভি অনলাইন'র।

জানা গেছে, ২০১২ সালে মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের সঙ্গে তার আপন খালাতো বোন সামিয়া শারমিনের শারমিনের বিয়ে হয়। তখন মোসাদ্দেকের বয়স ছিল ১৬ বছর। মূলত প্রেম করে বিয়ে করেন মোসাদ্দেক। কৈশোরেই প্রেমে পড়েন খালাতো বোনের। পরে তাকে জীবনসঙ্গী করেন। এ বিষয়ে সৈকতের স্ত্রীর বড় ভাই মোজাম্মেল কবির জানান, সৈকত আমার খালাতো ভাই। তাদের পারিবারিক অবস্থা এক সময় খুব খারাপ ছিল। সে আমাদের বাসায় আসা-যাওয়া করতো। তখন আমার বোনের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক হয়। আমরা বোনের বিয়ের জন্য পাত্র ঠিক করি, সৈকত তখন অনূর্ধ্ব-১৯ দলের খেলোয়াড়। সৈকত তখন আত্মহত্যার হুমকি দেয়। ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইল করে। একসময় আমরা তাদের বিয়ে দিই।

সৈকতের স্ত্রী সামিয়া শারমিন বলেন, সৈকতের দুর্দিনে আমি তার পাশে ছিলাম। তার অর্থ-খ্যাতি হওয়ার পর সে আমার সাথে বাজে ব্যবহার শুরু করে। মানসিক নির্যাতনের পাশাপাশি শারীরিক নির্যাতনও শুরু করে। এপ্রিলে আমি কনসিভ করি। রোজার ঈদের আগে আমার বাচ্চাটা নষ্ট হয়ে যায়। ঈদে সৈকত বাড়ি আসে। আমি তাদের বাসায় ছিলাম। তার মা আমাকে বললো, বাপের বাড়ি চলে যেতে। কারণ আমার সেভাবে যত্ন হচ্ছিল না সেখানে। দু’মাস ধরে আমি বাসায়। তারা আমার সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ করেনি।

এ বিষয়ে সৈকত বলেন, আমি যখন খেলার কারণে ট্যুরে থাকতাম তখন শারমিন আমার মায়ের সঙ্গে ঝগড়া করত। মাকে একাধিকবার মেরেছেও। এসব কারণে আমি গত ১৬ আগস্ট তাকে কোর্টের মাধ্যমে ডিভোর্স দেই।

মোসাদ্দেক আরও বলেন, বিয়ের পর থেকেই ও আমাকে আলাদা সংসার গড়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করতে থাকে। কিন্তু আমার বাবা নেই, যে মায়ের কারণে আমি আজ ক্রিকেটার। সেই মাকে ছেড়ে কিভাবে আলাদা থাকি? এটা আমার পক্ষে সম্ভব ছিল না। আমি ওকে এটা নিয়ে অনেক বুঝিয়েছি। কিন্তু সে কিছুতেই বুঝতে চায় নি।

স্ত্রীর যৌতুকের অভিযোগ নিয়ে মোসাদ্দেক বলেন, ওকে আমি গত ১৬ আগস্ট তালাক দিয়েছি। তার আগে ও কিন্তু আমার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ করেনি। তালাক দেওয়ার পর ও নাটক শুরু করেছে। আমার ক্যারিয়ার ধ্বংসের চক্রান্ত করছে।

জাতীয় দলের এ অলরাউন্ডার বলেন, আমি মনে করি যে এত খারাপ সময় আমার আসেনি যে যৌতুক নিয়ে আমার চলতে হবে। আমি শুনেছি যে ডিভোর্স দিলে নাকি এমন নারী নির্যাতন বা যৌতুকের একটা মামলা করা হয়। তারাও হয়তো তাই করেছে।

 

 

২৭ আগস্ট, ২০১৮ ১৩:৩৪:০৮