পরীক্ষা থেকে এমসিকিউ বাতিলের পরামর্শ
দ্য বেঙ্গলি টাইমস ডটকম
অ+ অ-প্রিন্ট
পাবলিক পরীক্ষা থেকে বহু নির্বাচনী প্রশ্ন (এমসিকিউ) পদ্ধতি বাতিলের পরামর্শ দিয়েছেন দেশের শিক্ষাবিদরা। একইসঙ্গে নোট ও গাইডবই বন্ধের সুপারিশ করেছেন তারা। বৃহস্পতিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে শিক্ষা মন্ত্রণালয় আয়োজিত মাধ্যমিক শিক্ষার মান উন্নয়নে করণীয় শীর্ষক মতবিনিময় সভায় এসব পরামর্শ দেন শিক্ষাবিদরা।

শিক্ষাবিদ অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ বলেন, শিক্ষকরা সৃজনশীল পদ্ধতিতে প্রশ্ন করতে পারছেন না। ফলে তারাই গাইডবই অনুসরণ করছেন। অর্থাৎ নোট ও গাইডবইয়ের যুগে ফেরানো হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। কেন্দ্রীয়ভাবে প্রশ্নব্যাংক তৈরি পরীক্ষার ব্যবস্থা করলে গাইডবই প্রবনতা কমবে।

তিনি বলেন, শিক্ষাক্রম সংশোধন করে বইগুলো সহজভাবে তৈরি করতে হবে। সেইসঙ্গে প্রশ্নব্যাংক তৈরি করে সেখান থেকে পরীক্ষা নিলে শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নতি হবে। শিক্ষার সোনার খাঁচা তৈরি হলো। কিন্তু গানের পাখিটি না আসলে কোনো লাভ হবে না। বর্তমানে বিপুল পরিমাণে পাসের কারণে সম্পূর্ণ শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে; শিক্ষাব্যবস্থায় মানুষের আস্থা কমে গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন বলেন, এমসিকিউ প্রশ্ন শূন্যে নামানো উচিত। কোচিং ও প্রাইভেট টিউশনের রমরমা ব্যবসা এবং গাইডবই বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা এখন সময়ের দাবি। সাত থেকে ১০ দিনের মধ্যে পাবলিক পরীক্ষা শেষ করার পরামর্শ দেন তিনি।

অধ্যাপক মুহাম্মদ জাফর ইকবাল বলেন, এমনভাবে বই লেখা উচিত যাতে শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট পড়তে না হয়।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা রাশেদা কে. চৌধুরী বলেন, প্রাথমিক শিক্ষা অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত করা হলো। ফলে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষা বাধ্যতামূলক ও অবৈতনিক হবে।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোহাম্মদ কায়কোবাদ বলেন, চমৎকার পাঠ্যবই তৈরি করতে হবে। এতে পড়ার প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বাড়বে। ভালো প্রশ্ন করতে হবে। মূল্যায়ন ব্যবস্থা আরও ভালো করতে হবে।

শিক্ষাবিদদের পরামর্শের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, এসব পরামর্শ অনুযায়ী এখন কর্মপন্থা ঠিক করবে শিক্ষামন্ত্রণালয়। ইতোমধ্যে মন্ত্রণালয় কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছে, শিক্ষাবিদদের এসব পরামর্শ আমাদের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সাহস জোগাবে।

শিক্ষাসচিব সোহরাব হোসাইনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন অর্থনীতিবিদ কাজী খলিকুজ্জমান আহমদ, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা সুলতানা কামাল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সিদ্দিকুর রহমান, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ফাহিমা খাতুন, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ইমেরিটাস মনজুর আহমেদ, শিক্ষক শ্যামলী নাসরীন চৌধুরী প্রমুখ।

প্রসঙ্গত, বর্তমানে ১০০ নম্বরের পরীক্ষায় ৪০ নম্বর এমসিকিউ এবং ৬০ নম্বর সৃজনশীল প্রশ্ন থাকে। আগামী বছর থেকে এমসিকিউতে আরও ১০ নম্বর কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

২৭ মে, ২০১৬ ০১:২৩:০০