
টেইলর সুইফটের বহুল আলোচিত দ্য এরাস ট্যুর-এর শেষ ধাপে টরন্টোতে অনুষ্ঠিত ছয় রাতের কনসার্ট আয়োজন করতে গিয়ে সিটি কর্তৃপক্ষের ব্যয় হয়েছে ৩৬ লাখ মার্কিন ডলারেরও বেশি। তবে এই বিপুল ব্যয়ের বিপরীতে শহরটির অর্থনৈতিক লাভ যে উল্লেখযোগ্য তা উঠে এসেছে সিটি কাউন্সিলের অনুরোধে প্রণীত এক বিশদ প্রতিবেদনে।
‘সুইফটোনমিক্স’ শিরোনামে প্রস্তুত করা ওই ব্রিফিং নোটে টরন্টো সিটির অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সংস্কৃতি বিষয়ক মহা-ব্যবস্থাপক কনসার্ট আয়োজনের পেছনে সিটি কর্তৃপক্ষের মোট ব্যয় এবং এর বিনিময়ে প্রাপ্ত আর্থিক ও অর্থনৈতিক সুফলের একটি স্পষ্ট চিত্র তুলে ধরেছেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, কনসার্ট আয়োজনের সবচেয়ে বড় ব্যয়ের খাত ছিল পুলিশিং। এ খাতে ব্যয় হয়েছে প্রায় ২৬ লাখ ডলার। এর মধ্যে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, কনসার্ট-পূর্ব পণ্য ক্রয়-বিক্রয় তদারকি, কনসার্ট চলাকালীন নিরাপত্তা ও সার্বিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার ব্যয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এ ছাড়া পেইড ডিউটি অফিসারদের বেতন বাবদ টরন্টো পুলিশ সার্ভিস রজার্স সেন্টারের কাছ থেকে পেয়েছে ৬ লাখ ৮০ হাজার ডলার। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, এই কর্মকর্তাদের মধ্যে দুজনকে বিলাসবহুল রিজ-কার্লেটন হোটেলে মোতায়েন করা হয়েছিল।
প্রথম ও দ্বিতীয় কিস্তির কনসার্টের আগে পপস্টার টেইলর সুইফট টরন্টোতে পৌঁছালে তাকে নিরাপদ চলাচলের জন্য একটি মোটর বহরও সরবরাহ করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কনসার্ট ঘিরে পুলিশিং বাবদ যে অর্থ ব্যয় হয়েছে, তা মূলত বড় কোনো প্লে-অফ ম্যাচে নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার জন্য যে ব্যয় হয়ে থাকে, তার সঙ্গে তুলনীয়।
পুলিশিংয়ের পর সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ব্যয় হয়েছে টরন্টো ট্রানজিট কমিশন (টিটিসি)–এর সেবা সম্প্রসারণে। ছয়দিন ধরে বাড়তি পরিবহন সুবিধা দিতে গিয়ে ব্যয় হয়েছে প্রায় ১৭ লাখ ডলার। তবে সিটি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কনসার্ট চলাকালীন সময়ে টিটিসির রাজস্ব আগের সপ্তাহগুলোর তুলনায় ৫ লাখ ৮৮ হাজার ডলার বেড়েছে।
এ ছাড়া পরিবহন বিভাগে ব্যয় হয়েছে কমপক্ষে ৩ লাখ ৩৩ হাজার ডলার। এর মধ্যে সড়ক পরিচালনা, ট্রাফিক সাইন ও ক্যামেরা স্থাপন, ট্রাফিক এজেন্ট মোতায়েন, সিগন্যাল সমন্বয় এবং অতিরিক্ত কর্মী নিয়োগের খরচ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
টরন্টোর জরুরি ব্যবস্থাপনা কর্মী সংস্থানে ব্যয় হয়েছে মোট ১ লাখ ৩৪ হাজার ডলার। তবে কনসার্ট আয়োজনের জন্য যে দীর্ঘ পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি সময় ব্যয় হয়েছে, তা এই হিসাবের মধ্যে ধরা হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া সিটির অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক খাতে অতিরিক্ত ব্যয় হিসেবে আরও ১ লাখ ৩১ হাজার ডলার খরচ হয়েছে।
কনসার্টের আগে পর্যটন সংস্থা ‘ডেস্টিনেশন টরন্টো’ এক প্রাক্কলনে জানিয়েছিল, টেইলর সুইফটের ছয় রাতের কনসার্ট থেকে শহরের অর্থনীতিতে প্রায় ২৮ লাখ ২০ হাজার ডলারের প্রভাব পড়তে পারে। এই হিসাব করা হয়েছিল আনুমানিক ২ লাখ ৪০ হাজার দর্শকের উপস্থিতি ধরে।
প্রতিবেদনটি বলছে, হোটেল, রেস্তোরাঁ, পরিবহন, খুচরা ব্যবসা ও পর্যটন সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন খাতে এই কনসার্টের ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। ফলে সিটি কর্তৃপক্ষের ব্যয় তুলনামূলকভাবে বেশি হলেও, এর বিনিময়ে টরন্টো যে আর্থিক ও অর্থনৈতিক সুফল পেয়েছে, তা সেই ব্যয়কে অনেকাংশে ন্যায্যতা দেয়।
সব মিলিয়ে, টেইলর সুইফটের এরাস ট্যুর শুধু সংগীতপ্রেমীদের জন্যই নয়, বরং টরন্টো শহরের অর্থনীতির জন্যও এক বড় মাপের লাভজনক আয়োজন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

