
কানাডার ১০টি প্রদেশ ও তিনটি অঞ্চলে গত এক বছরে খাদ্যমূল্য জাতীয়ভাবে গড়ে বেড়েছে ৩ দশমিক ৪ শতাংশ। স্ট্যাটিস্টিকস কানাডার প্রকাশিত নতুন প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। সরকারি হিসাবে মূল্যস্ফীতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসার ইঙ্গিত মিললেও বাস্তবে বাজারের অভিজ্ঞতা অনেক ভোক্তার জন্য ভিন্ন কথা বলছে।
চার সন্তানের বাবা ও নিয়মিত বাজার করা ব্যস্ত ক্রেতা জাঁ মার্ক লাব্লাঁর অভিজ্ঞতা সেই বাস্তবতারই প্রতিফলন। নিজের খরচের হিসাব টেনে তিনি বলেন, আগে যে পরিমাণ পণ্য ৬ ডলারে পাওয়া যেত, এখন একই অর্থ ব্যয় করেও প্রায় ৩৩ শতাংশ কম জিনিস হাতে আসে। খরচ সামাল দিতে গিয়ে পণ্যের পরিমাণ কমিয়ে আনা তার কাছে এখন নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।
লাব্লাঁর নিজ প্রদেশ নোভা স্কশিয়ায় খাদ্যমূল্য বৃদ্ধির হার দেশজুড়ে সবচেয়ে কম বছরওয়ারি ২ দশমিক ৭ শতাংশ। তবে এই তথ্য জেনে তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেন। তার ভাষায়, “আমাদের জন্য এটা বিশ্বাস করা কঠিন। কারণ আমরা তো ধারাবাহিকভাবে দাম বাড়তেই দেখেছি।” অর্থাৎ পরিসংখ্যান ও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার মধ্যে স্পষ্ট এক ফারাক রয়ে গেছে।
ডালহৌসি ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ও খাদ্য বিতরণ গবেষক সিলভেইন চার্লিবোয়িসের মতে, নোভা স্কশিয়ার মতো প্রত্যন্ত অঞ্চলে সাম্প্রতিক সময়ে গ্যাসের মূল্য কিছুটা কমে যাওয়ায় সীমিত হলেও আর্থিক স্বস্তি এসেছে। এর ফলে খাদ্য পরিবহনের খরচ কমেছে। তিনি বলেন, “গত দুই বছরে জ্বালানি তেমন বড় সমস্যা হয়ে ওঠেনি।” তবে এখানেই চ্যালেঞ্জ শেষ নয়।
চার্লিবোয়িসের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, আটলান্টিক কানাডার মতো অঞ্চলের জন্য সবচেয়ে বড় বাধা আন্তঃপ্রদেশ বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতা। এসব প্রতিবন্ধকতা পণ্য পরিবহনকে ব্যয়বহুল ও জটিল করে তোলে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ে ভোক্তা পর্যায়ের দামে। ফলে জ্বালানি খরচ কিছুটা কমলেও সামগ্রিকভাবে খাদ্যমূল্যের চাপ কমছে না।
স্ট্যাটিস্টিকস কানাডার প্রতিবেদনে আরও দেখা যায়, আঙুর, বেরি, কফি ও গরুর মাংসের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় ও জনপ্রিয় খাদ্যপণ্যের দাম প্রায় সব প্রদেশেই মাসওয়ারি বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে মূল্যস্ফীতি নিয়ে ইতিবাচক সরকারি বার্তা অনেক ক্রেতার মধ্যেই সন্দেহ তৈরি করছে। মাইক ফিফিল্ডের মতো ভোক্তারা প্রশ্ন তুলছেন, “এই সময়ে কি আদৌ কোনো কিছুর ওপর বিশ্বাস রাখা যায়?”
প্রাদেশিক হিসাবে ২০২৪ সালের মে থেকে ২০২৫ সালের মে পর্যন্ত খাদ্যমূল্য বৃদ্ধির চিত্রও বৈচিত্র্যময়। নিউ ব্রান্সইউকে দাম বেড়েছে ৩ দশমিক ৭ শতাংশ, নিউফাউন্ডল্যান্ড অ্যান্ড ল্যাব্রাডরে ৩ দশমিক ৬ শতাংশ, অন্টারিওতে ৩ দশমিক ৬ শতাংশ, সাস্কেচুয়ানে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ, প্রিন্স এডওয়ার্ড আইল্যান্ডে ৩ দশমিক ৪ শতাংশ, আলবার্টায় ৩ দশমিক ৩ শতাংশ, ব্রিটিশ কলাম্বিয়ায় ৩ দশমিক ২ শতাংশ, কুইবেকে ৩ দশমিক ১ শতাংশ, ম্যানিটোবায় ৩ শতাংশ এবং নোভা স্কশিয়ায় ২ দশমিক ৭ শতাংশ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিসংখ্যান দেখায় যে খাদ্যমূল্যের গতি কিছুটা ধীর হলেও তা এখনো সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় চাপ সৃষ্টি করছে। আয় না বাড়লেও খাদ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়তে থাকায় পরিবারগুলোকে বাধ্য হয়ে খরচের ধরন বদলাতে হচ্ছে। ফলে খাদ্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও আন্তঃপ্রদেশ বাণিজ্য সহজ করার মতো নীতিগত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা আগের চেয়ে আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

