
চলতি ছুটির মৌসুমে উপহার কেনার ক্ষেত্রে আবারও পুরোনো ধাঁচে ফিরছেন কানাডিয়ানরা। অনলাইনের বদলে শপিং মল ও রাস্তার পাশের খুচরা দোকানে গিয়ে সরাসরি কেনাকাটার প্রবণতা স্পষ্টভাবে বেড়েছে। ভিসা কানাডার সদ্য প্রকাশিত এক উপাত্তে এমন চিত্রই উঠে এসেছে।
ভিসা কানাডার তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ নভেম্বর থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত ছুটির দিনের মোট কেনাকাটার ৮৮ শতাংশ অর্থ পরিশোধ করা হয়েছে ফিজিক্যাল স্টোরে। বিপরীতে, অনলাইনে কেনাকাটার অংশ মাত্র ১২ শতাংশ। এই পরিসংখ্যান বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গেও মিলছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মঙ্গলবার কার্লিংউড সেন্টারে দেখা যায়, শেষ মুহূর্তের উপহার কিনতে ভিড় জমিয়েছেন অসংখ্য মানুষ। দোকানগুলোতে ক্রেতাদের উপস্থিতি প্রমাণ করে যে, ভিসা কানাডার উপাত্ত বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
শেষ মুহূর্তের এক ক্রেতা বেন সিয়েবার্থ বলেন, “আমি সম্ভবত সব সময়ই শেষ সময়ের ক্রেতা। কাজের চাপ আর দৈনন্দিন ব্যস্ততার কারণে আগে কেনাকাটা করা হয়ে ওঠে না।”
আরেকজন ক্রেতা ডিয়োনি পাওয়ার জানান, “আমি সাধারণত সামনে কী ধরনের সুযোগ বা ছাড় আসছে, সেটা দেখতে চাই। আগামীকাল একটি গহনার দোকানে যাব, তারপর আমার কেনাকাটা শেষ করব।”
ভিসা কানাডার উপাত্তে আরও দেখা গেছে, চলতি ছুটির মৌসুমে গত বছরের তুলনায় কানাডিয়ানরা গড়ে ৪ দশমিক ৪ শতাংশ বেশি ব্যয় করছেন। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ব্যয় বৃদ্ধির পেছনে একাধিক কারণ কাজ করছে।
খুচরা বিক্রয় খাতের বিশেষজ্ঞ ব্রুস উইন্ডার বলেন, “আমার মতে এটি মূলত মূল্যস্ফীতির সমন্বিত ফল। মানুষ গত বছরের মতোই পরিমাণে খরচ করতে চাইলেও একই পণ্যের দাম এ বছর বেশি হওয়ায় মোট ব্যয়ের অঙ্ক বেড়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি বিপণন কৌশল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাবও বড় একটি কারণ। বিজ্ঞাপন ও প্রচারণা মানুষকে অতিরিক্ত কেনাকাটায় উৎসাহিত করছে।”
ছুটির মৌসুমে ক্রেতাদের চাপ সামলাতে কিছু শপিং সেন্টার তাদের খোলা রাখার সময় বাড়িয়েছে। বেশোর শপিং সেন্টার কেনাকাটার সময়সীমা বাড়িয়ে রাত ১০টা পর্যন্ত করেছে। তবে সিএফ রিডো এবং রসন্ট লরেন্ট শপিং সেন্টার তাদের আগের সময়সূচি বজায় রেখে রাত ৯টা পর্যন্তই খোলা রাখছে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, প্রযুক্তিনির্ভর অনলাইন কেনাকাটার যুগেও ছুটির মৌসুমে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, পণ্য সরাসরি দেখার সুযোগ এবং শেষ মুহূর্তের সিদ্ধান্তের কারণে কানাডিয়ানরা আবারও দোকানমুখী হচ্ছেন। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতি ও আগ্রাসী বিপণন কৌশল মিলিয়ে এবারের ছুটির কেনাকাটায় ব্যয়ের পরিমাণও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

