যেভাবে হামমুক্ত দেশের মর্যাদা ফিরে পেতে পারে কানাডা

যেভাবে হামমুক্ত দেশের মর্যাদা ফিরে পেতে পারে কানাডা - the Bengali Times
ম্যাকমাস্টার ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ও সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ ডন বোডিশ বলেন হামের পুনরুত্থানের পেছনে একাধিক কাঠামোগত সমস্যা রয়েছে জনস্বাস্থ্য খাতে তহবিল হ্রাস কার্যকর ভ্যাকসিন রেজিস্ট্রির অভাব এবং পারিবারিক চিকিৎসকের ঘাটতি সবই এই সংকটকে ত্বরান্বিত করেছে

কানাডা দীর্ঘ ২৫ বছর পর হামমুক্ত দেশের মর্যাদা হারিয়েছে আর এই ঘটনাই দেশটির জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার গভীর দুর্বলতাগুলো নতুন করে সামনে এনে দিয়েছে। সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জনস্বাস্থ্য খাতে ধারাবাহিক বিনিয়োগের ঘাটতি, ভ্যাকসিন ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় সংকট সব মিলিয়েই হাম সংক্রমণ ফের বাড়ছে।

প্যান আমেরিকান হেলথ অর্গানাইজেশন (পিএএইচও) সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে কানাডার হামমুক্ত মর্যাদা প্রত্যাহার করে নেয়। ১৯৯৮ সাল থেকে কানাডা এই স্বীকৃতি ধরে রেখেছিল। তবে এক বছরের বেশি সময় ধরে একাধিক প্রদেশে হাম সংক্রমণ চলমান থাকায় সংস্থাটি এই সিদ্ধান্ত নেয়।

- Advertisement -

ম্যাকমাস্টার ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ও সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ ডন বোডিশ বলেন, “হামের পুনরুত্থানের পেছনে একাধিক কাঠামোগত সমস্যা রয়েছে। জনস্বাস্থ্য খাতে তহবিল হ্রাস, কার্যকর ভ্যাকসিন রেজিস্ট্রির অভাব এবং পারিবারিক চিকিৎসকের ঘাটতি সবই এই সংকটকে ত্বরান্বিত করেছে।” তার মতে, ভ্যাকসিন নিয়ে ভুল ধারণা ও বিভ্রান্তিও সংক্রমণ বাড়ার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রেখেছে। “এখানে কোনো দ্বিমত নেই এই সংকট কাটাতে অর্থের প্রয়োজন, অনেক অর্থ। পাশাপাশি প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছা,” বলেন তিনি।

ডন বোডিশ আরও জানান, জনস্বাস্থ্য কর্মীদের কাছে কমিউনিটির দোরগোড়ায় গিয়ে টিকাদান কার্যক্রম চালানোর মতো পর্যাপ্ত সরঞ্জাম ও জনবল নেই। দ্রুত রোগ শনাক্ত করা, সংক্রমণের চেইন ভাঙা এবং প্রয়োজনীয় নজরদারি চালানোর ব্যবস্থাও দুর্বল হয়ে পড়েছে। “যখন প্রাথমিক স্তরেই সংক্রমণ শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণ করা যায় না, তখন একটি প্রতিরোধযোগ্য রোগও বড় আকার ধারণ করে,” উল্লেখ করেন তিনি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কানাডায় একটি জাতীয় ভ্যাকসিন রেজিস্ট্রি না থাকাও পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। ফলে কেউ যদি এক প্রদেশে বা বিদেশে টিকা নিয়ে অন্য প্রদেশে বসবাস শুরু করেন, তার টিকাদানের হালনাগাদ তথ্য সহজে জানা যায় না।

ইনফেকশাস ডিজিজ রিসার্চের বৈজ্ঞানিক পরিচালক ম্যাথিউ মিলার বলেন, “একটি ন্যাশনাল ভ্যাকসিন রেজিস্ট্রি অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। তবে বাস্তবতার কথা চিন্তা করলে ইলেকট্রনিক প্রাদেশিক রেজিস্ট্রি ব্যবস্থা চালু করাই সবচেয়ে কার্যকর হতে পারে।” তার ব্যাখ্যা, প্রাদেশিক রেজিস্ট্রিগুলো যদি একে অন্যের সঙ্গে তথ্য বিনিময় করতে পারে, তাহলে জাতীয় পর্যায়ে একটি সমন্বিত চিত্র পাওয়া সম্ভব হবে যা রোগ প্রতিরোধে বড় ভূমিকা রাখবে।

হামমুক্ত মর্যাদা হারানো শুধু একটি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি হারানো নয় বরং এটি ভ্যাকসিনের প্রতি জনআস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার সক্ষমতা বাড়ানোর জরুরি বার্তা দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

তাদের ভাষায়, হাম একটি সম্পূর্ণ প্রতিরোধযোগ্য রোগ। কিন্তু জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থায় ফাঁকফোকর থাকলে এবং ভ্যাকসিন নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ালে এমন রোগও জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এখনই সমন্বিত পদক্ষেপ না নিলে শুধু হাম নয়, ভবিষ্যতে অন্যান্য প্রতিরোধযোগ্য রোগের ঝুঁকিও বাড়তে পারে যা কানাডার স্বাস্থ্যব্যবস্থার জন্য দীর্ঘমেয়াদে গুরুতর চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে।

This article was written by Sohely Ahmed Sweety as part of the LJI.

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles