কারেকশনাল সার্ভিস কানাডার বিরুদ্ধে কয়েদীদের মামলা

কারেকশনাল সার্ভিস কানাডার বিরুদ্ধে কয়েদীদের মামলা - the Bengali Times
গত বছরের নভেম্বরে ঘটে যাওয়া ওই ঘটনায় একজন ২৮ বছর বয়সী পুরুষ কোনোভাবে কারাগারের ভেতরে প্রবেশ করতে সক্ষম হন

কানাডার অন্টারিও প্রদেশে অবস্থিত গ্র্যান্ড ভ্যালি ইনস্টিটিউশন ফর উইমেন মধ্যম মানের নিরাপত্তা সংবলিত একটি ফেডারেল কারাগারে একটি নজিরবিহীন নিরাপত্তা লঙ্ঘনের ঘটনায় কারেকশনাল সার্ভিস কানাডার (CSC) বিরুদ্ধে সিভিল মামলা দায়ের করেছেন দশজন নারী কয়েদী।

গত বছরের নভেম্বরে ঘটে যাওয়া ওই ঘটনায় একজন ২৮ বছর বয়সী পুরুষ কোনোভাবে কারাগারের ভেতরে প্রবেশ করতে সক্ষম হন। শুধু কীভাবে ওই ব্যক্তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভেঙে ভেতরে ঢুকতে পারলেন, তা নিয়েই নয় মামলায় কারাগারের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীদের প্রতিক্রিয়া ও পদক্ষেপ নিয়েও গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

- Advertisement -

মামলার বাদীদের একজন, যার প্রথম নাম লিসা, বলেন, “এটা খুবই ভয়ের ব্যাপার। সত্যিই খুব ভয়ংকর। আমরা কারাগারে আছি এবং এখানে অন্তত নিরাপদ থাকার প্রত্যাশা করতেই পারি।” কয়েদীদের অভিযোগ, একটি ফেডারেল কারাগারের মতো উচ্চ নিরাপত্তার জায়গায় একজন বহিরাগত ব্যক্তির প্রবেশ শুধু অবহেলার নয়, বরং কাঠামোগত নিরাপত্তা ব্যর্থতারই প্রমাণ।

দশ কয়েদীর পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করছে টরন্টোভিত্তিক আইনি প্রতিষ্ঠান লকার জাদুক জির। প্রতিষ্ঠানটির আইনজীবী জেফরি হার্টম্যান বলেন, “কেউ জেলখানায় ঢোকার চেষ্টা করতে পারে এটা তাত্ত্বিকভাবে সম্ভব। কিন্তু বাস্তবে একজন ব্যক্তি নিরাপত্তা ভেঙে ফেডারেল কারাগারের ভেতরে ঢুকে পড়ে এমন ঘটনার কথা আগে কখনো শোনা যায়নি।” তার ভাষায়, এটি স্বল্প সময়ের জন্য হলেও একটি “নজিরবিহীন” ঘটনা, যা পুরো কারা ব্যবস্থার নিরাপত্তা মান নিয়ে প্রশ্ন তোলে।

মামলার নথিতে ২ নভেম্বরের ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে – কীভাবে ওই ব্যক্তি মধ্যম মানের নিরাপত্তা সংবলিত কারাগারে প্রবেশ করতে সক্ষম হন, কীভাবে তিনি কয়েদীদের পিছু নেন এবং কয়েদীরা যে দুটি আবাসিক ইউনিটে থাকেন, সেখানে ঢোকার চেষ্টা করেন। এই ঘটনাগুলো কয়েদীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক সৃষ্টি করে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

ঘটনার পর ওয়াটারলু রিজিয়নাল পুলিশ সার্ভিস জানায়, ওই অনুপ্রবেশকারী দুইজন নারী কয়েদীর ওপর হামলা চালিয়েছেন। পরে কিচেনার এলাকার বাসিন্দা ওই ২৮ বছর বয়সী ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে সেগুলোর মধ্যে রয়েছে জেল ভেঙে ভেতরে প্রবেশ, দুই কাউন্ট হামলা এবং ৫ হাজার কানাডিয়ান ডলারের কম মূল্যের সম্পত্তি নষ্ট বা অনাচার।

এই ঘটনায় শুধু নির্দিষ্ট কারাগারের নিরাপত্তাই নয়, বরং কানাডার ফেডারেল কারাগার ব্যবস্থার সামগ্রিক নিরাপত্তা ও জবাবদিহিতা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। কয়েদীদের দাবি, তারা শাস্তি ভোগ করলেও নিরাপদ পরিবেশে থাকার অধিকার থেকে বঞ্চিত হতে পারেন না।

এখন দেখার বিষয়, এই মামলার মাধ্যমে কারেকশনাল সার্ভিস কানাডার নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কী ধরনের পরিবর্তন বা জবাবদিহিতা নিশ্চিত হয়।

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles