
আন্তর্জাতিক মাদক চোরাচালান নেটওয়ার্কের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি গুরুতর মামলায় অভিযুক্ত টরন্টোর এক আইনজীবী জামিন পেয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যার্পণ সংক্রান্ত শুনানির আগেই মঙ্গলবার ডাউনটাউন টরন্টোর একটি আদালত ৬২ বছর বয়সী আইনজীবী দীপক পারাদকারের জামিন মঞ্জুর করেন।
দীপক পারাদকারকে গত মাসে গ্রেপ্তার করা হয়, যখন যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যার্পণের উদ্দেশ্যে কয়েকজন কানাডীয় নাগরিককে আটক করা হয়েছিল। তিনি সেই অভিযুক্তদের অন্যতম। এই গ্রেপ্তার যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই)-এর একটি চলমান তদন্তের অংশ, যেখানে সাবেক অলিম্পিক স্নোবোর্ডার ও কানাডীয় মাদক কারবারি রায়ান ওয়েডিংকে কেন্দ্র করে একটি সহিংস অপরাধী চক্রের কার্যক্রম খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এফবিআইয়ের অভিযোগ অনুযায়ী, রায়ান ওয়েডিং উত্তর আমেরিকা জুড়ে সক্রিয় একটি মাদক চোরাচালান নেটওয়ার্কের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন এবং এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত একাধিক ব্যক্তি সহিংস অপরাধে জড়িত ছিলেন। দীপক পারাদকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি ওয়েডিংকে একজন ফেডারেল সাক্ষীকে হত্যা করার পরামর্শ দিয়েছিলেন। পাশাপাশি তিনি সাবেক এই অ্যাথলেটকে মাদক চোরাচালানকারীদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন, যা পরবর্তীতে একটি সংগঠিত অপরাধী নেটওয়ার্কে রূপ নেয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, অন্টারিওর থর্নহিল এলাকায় বসবাসকারী এই আইনজীবী তার পেশাগত অবস্থান ব্যবহার করে অপরাধী চক্রকে সহায়তা করেন। সংশ্লিষ্ট নেটওয়ার্কটি উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্য দিয়ে কোকেনসহ অন্যান্য মাদক পাচারের সঙ্গে যুক্ত ছিল।
মামলার শুনানিতে অন্টারিও সুপিরিয়র কোর্টের বিচারপতি পিটার বাউডেন বলেন, পারাদকার কানাডা ছেড়ে পালিয়ে যাবেন এমন আশঙ্কা তার কাছে যুক্তিসংগত বলে মনে হয়নি। বিচারপতির মতে, পারাদকারের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ ও বাস্তবসম্মত পথ হলো আদালতের মুখোমুখি হওয়া এবং জামিনের সব শর্ত মেনে চলা।
বিচারপতি বাউডেন তার রায়ে বলেন, “তার পালিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা নেই এই যুক্তির সবচেয়ে শক্তিশালী দিক হলো, পালিয়ে যাওয়া তার নিজের স্বার্থের বিরুদ্ধে যাবে। মামলাটি তার জন্য গুরুতর হতে পারে, তবে এর বড় একটি অংশ নির্ভর করছে সহযোগী সাক্ষীর বক্তব্যের ওপর।”
তিনি আরও বলেন, যদি পারাদকার জামিনে মুক্তির পর পালিয়ে যান এবং পরে ধরা পড়েন, তাহলে ভবিষ্যতে তার আর জামিন পাওয়ার কোনো সুযোগ থাকবে না।
আদালত ৫২ লাখ ৫০ হাজার কানাডিয়ান ডলার জামিন নির্ধারণ করে পারাদকারকে মুক্তির নির্দেশ দেন। জামিনের শর্ত অনুযায়ী তাকে নিয়মিত আদালতে হাজিরা দিতে হবে এবং কঠোর নজরদারির মধ্যে থাকতে হবে।
এদিকে মার্কিন কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, দীপক পারাদকার ‘কোকেন লইয়ার’ নামেও পরিচিত ছিলেন। তার আগের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টে দেওয়া বিভিন্ন পোস্ট ও যোগাযোগের কারণেই এই নামটি প্রচলিত হয়ে ওঠে বলে দাবি করা হয়েছে।
বর্তমানে তার যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যার্পণ সংক্রান্ত শুনানির দিন নির্ধারণের অপেক্ষা চলছে। এই মামলাটি কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্র উভয় দেশের আইন প্রয়োগকারী সংস্থার জন্যই একটি উচ্চপ্রোফাইল ও স্পর্শকাতর ইস্যু হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

