সন্ত্রাসবাদে অভিযুক্ত টরন্টোর এক ব্যক্তি

সন্ত্রাসবাদে অভিযুক্ত টরন্টোর এক ব্যক্তি - the Bengali Times
কানাডার টরন্টোর এক যুবকের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন আইসিসের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার পাশাপাশি একাধিক গুরুতর সহিংস অপরাধের অভিযোগ উঠেছে

কানাডার টরন্টোর এক যুবকের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন আইসিসের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার পাশাপাশি একাধিক গুরুতর সহিংস অপরাধের অভিযোগ উঠেছে। রয়্যাল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশ (আরসিএমপি) জানিয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি নারী ও ইহুদি কমিউনিটির সদস্যদের লক্ষ্য করে সহিংস কার্যকলাপে যুক্ত ছিলেন বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।

শুক্রবার প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরসিএমপি ওই সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে। অভিযুক্তের নাম ওয়ালিদ খান। বয়স ২৬ বছর, তিনি টরন্টোর বাসিন্দা। পুলিশের দাবি, চলতি বছরের ১৭ জুন থেকে ১৭ আগস্টের মধ্যে একাধিক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন খান।

- Advertisement -

আরসিএমপির ভাষ্য অনুযায়ী, ওয়ালিদ খানের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদ সংক্রান্ত মোট সাতটি অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে – নিজে বা অন্যদের মাধ্যমে একটি সন্ত্রাসী সংগঠনের নির্দেশনায় হত্যার ষড়যন্ত্র, একটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে সহযোগিতা করা, কানাডার বাইরে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপে সহায়তা করার উদ্দেশ্যে সম্পদ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট সরবরাহ।

আরসিএমপি জানিয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি জানতেন যে এসব অ্যাকাউন্ট আইসিসের মতো সন্ত্রাসী সংগঠন ব্যবহার করতে পারে, তবুও তিনি তা সরবরাহ করেছেন বলে অভিযোগ।

আরসিএমপির গ্রেপ্তারের ঘোষণার কিছুক্ষণ পরই টরন্টো পুলিশ সার্ভিস এবং পিল রিজিয়নাল পুলিশ পৃথক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। সেখানে একটি যৌথ তদন্তের বিস্তারিত তথ্য সামনে আনা হয়। পুলিশ জানায়, ওই তদন্তে উঠে এসেছে একাধিক ভয়াবহ অপরাধের অভিযোগ – অপহরণ, অস্ত্রের মুখে অপহরণের চেষ্টা, যৌন হয়রানির ষড়যন্ত্র।

এই যৌথ তদন্তে মোট তিনজন অভিযুক্ত, যাদের বিরুদ্ধে ৭৯টি ফৌজদারি অভিযোগ রয়েছে। ওয়ালিদ খান তাদের একজন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ওয়ালিদ খানকে প্রথমে ১৮ আগস্ট হেফাজতে নেওয়া হয়। তবে সন্ত্রাসবাদ সংক্রান্ত অভিযোগ আনুষ্ঠানিকভাবে দায়ের করা হয় পরে, ২৬ নভেম্বর। এই মামলার অন্য দুই অভিযুক্ত হলেন ১৮ বছর বয়সী ওসমান আজিজভ এবং ১৯ বছর বয়সী ফাহাদ সাদাত। তবে পুলিশ স্পষ্ট করেছে, এই দুই যুবকের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদ সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ নেই।

এই ঘটনায় কানাডার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিশেষভাবে উদ্বিগ্ন বলে জানিয়েছে। পুলিশের মতে, নারী ও সংখ্যালঘু ইহুদি কমিউনিটিকে লক্ষ্য করে পরিকল্পিত সহিংসতা এবং আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কের সঙ্গে সম্ভাব্য যোগাযোগ দু’দিক থেকেই বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর।

তদন্ত এখনও চলমান রয়েছে এবং ভবিষ্যতে এই মামলায় আরও তথ্য সামনে আসতে পারে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles