ভাড়া ফেরত দেওয়ার দাবি ইস্ট ইয়র্ক অ্যাপার্টমেন্টের বাসিন্দাদের

ভাড়া ফেরত দেওয়ার দাবি ইস্ট ইয়র্ক অ্যাপার্টমেন্টের বাসিন্দাদের - the Bengali Times
কুখ্যাত ইস্ট ইয়র্ক এলাকার একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবনের কয়েক ডজন ভাড়াটিয়া ভবন মালিকের বিরুদ্ধে যৌথ আইনি পদক্ষেপ নিচ্ছেন

কুখ্যাত ইস্ট ইয়র্ক এলাকার একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবনের কয়েক ডজন ভাড়াটিয়া ভবন মালিকের বিরুদ্ধে যৌথ আইনি পদক্ষেপ নিচ্ছেন। দীর্ঘদিন ধরে চলা অব্যবস্থা, স্বাস্থ্যঝুঁকি ও অবহেলার অভিযোগে তারা পরিশোধিত ভাড়ার একটি বড় অংশ ফেরত দেওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে ভাড়া কমানোর দাবি জানিয়েছেন।

টরন্টোর ইস্ট ইয়র্ক এলাকায় ৫০০ ডসন রোডে অবস্থিত ভবনটির ভাড়াটিয়াদের অভিযোগ, ইঁদুরের মারাত্মক উপদ্রব, জরাজীর্ণ ছাদ এবং ঝুঁকিপূর্ণ ব্যালকনির মধ্যেই তাদের বসবাস করতে হচ্ছে। এসব সমস্যার সমাধানে বারবার অভিযোগ জানানো হলেও ভবন মালিকের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি ভাড়াটিয়াদের।

- Advertisement -

এই পরিস্থিতিতে আইনজীবীর সহায়তায় ভাড়াটিয়ারা এখন সংগঠিতভাবে পদক্ষেপ নিচ্ছেন। তারা ল্যান্ডলর্ড অ্যান্ড টেন্যান্ট বোর্ডে (LTB) দুটি মাল্টি-টেনান্ট আবেদন দাখিলের প্রস্তুতি নিচ্ছেন, যাতে একসঙ্গে একাধিক ভাড়াটিয়ার অভিযোগের বিচার হয়।

এই আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকা রায়ান এনডো জানান, “গত এক বছরে আমরা যে ভাড়া পরিশোধ করেছি, তার ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত অর্থ ফেরত চাই। একই সঙ্গে আগামী দিনগুলোতে ভাড়ার পরিমাণও ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ কমানোর দাবি জানাচ্ছি। এ ছাড়া ক্ষতিপূরণসহ আরও কিছু দাবি আমাদের আবেদনে অন্তর্ভুক্ত থাকবে।”

ভবন মালিক ক্যারোলিন ক্রেবের বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিকবার ব্যবস্থা নিয়েছে সিটি কর্তৃপক্ষ। সিটি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত এক দশকে আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে ৮০টিরও বেশি নির্দেশনা ও জরিমানা ইস্যু করা হয়েছে। তবে এত নির্দেশনার পরও ভবনের সামগ্রিক অবস্থার কোনো দৃশ্যমান উন্নতি হয়নি।

এ বিষয়ে সাবেক সিটি কাউন্সিলর জ্যানেট ডেভিস বলেন, “নিয়ম লঙ্ঘনের ঘটনায় দেওয়া নির্দেশনার মধ্যে অন্তত ৮৪টি এখনো অনিষ্পন্ন রয়ে গেছে। এটা স্পষ্ট করে যে প্রয়োগের ঘাটতি রয়েছে।”

গত গ্রীষ্মে টরন্টোর মেয়র অলিভিয়া চাউ নিজে ভবনটি পরিদর্শন করেন এবং ভাড়াটিয়াদের সঙ্গে কথা বলেন। সে সময় তিনি পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখে প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার অঙ্গীকার করেছিলেন। ভাড়াটিয়াদের মতে, প্রয়োজনে সিটি কর্তৃপক্ষ ভবন মালিকের করের অর্থ ব্যবহার করে সংস্কারের জন্য ঠিকাদার নিয়োগ দিতে পারত।

তবে রায়ান এনডো অভিযোগ করেন, “আমাদের বলা হয়েছিল চলতি বছরের শেষের দিকে আমরা এ বিষয়ে একটি স্পষ্ট হালনাগাদ পাব। এখন বলা হচ্ছে, সেটি ২০২৬ সালের দিকে গড়াতে পারে। এটা অত্যন্ত হতাশাজনক। এতে ভাড়াটিয়ারা আরও কঠিন অবস্থার মধ্যে পড়ে যাচ্ছেন।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা যা পারি তাই করছি। কিন্তু নীতি প্রণয়ন আর তার বাস্তবায়নের মধ্যে একটি পরিষ্কার বিচ্ছিন্নতা রয়েছে। এই ফাঁকটাই আমাদের মতো সাধারণ ভাড়াটিয়াদের সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করছে।”

ভাড়াটিয়ারা আশা করছেন, আইনি এই যৌথ পদক্ষেপের মাধ্যমে অবশেষে ভবনটির দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলোর একটি কার্যকর সমাধান মিলবে এবং তাদের ন্যায্য দাবিগুলো কর্তৃপক্ষের নজরে আসবে।

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles