৭৫ বছরের বেশি বয়সী সবাইকে বিনামূল্যে আরএসভি ভ্যাকসিন দেবে অন্টারিও

৭৫ বছরের বেশি বয়সী সবাইকে বিনামূল্যে আরএসভি ভ্যাকসিন দেবে অন্টারিও - the Bengali Times
অন্টারিওর স্বাস্থ্যমন্ত্রী সিলভিয়া জোন্স বলেন আসন্ন শ্বাসতন্ত্রের অসুস্থতার মৌসুমের আগেই সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত ভ্যাকসিনেশন কর্মসূচিতে এই ভ্যাকসিন পাওয়া যাবে

অন্টারিও সরকার ঘোষণা করেছে, প্রদেশের ৭৫ বছরের বেশি বয়সী সব বাসিন্দা শিগগিরই বিনামূল্যে পাবেন আরএসভি (Respiratory Syncytial Virus) ভ্যাকসিন। এই পদক্ষেপটি মূলত শ্বাসযন্ত্রজনিত অসুস্থতার ঝুঁকি কমাতে এবং আসন্ন শীতকালীন ভাইরাস মৌসুমে বয়স্ক নাগরিকদের সুরক্ষিত রাখতে নেওয়া হয়েছে।

অন্টারিওর স্বাস্থ্যমন্ত্রী সিলভিয়া জোন্স এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেন, “আমরা জানি যে, আরএসভি ভাইরাস বয়স্ক এবং দুর্বল রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন মানুষের জন্য মারাত্মক হতে পারে। তাই সরকার এখন থেকে বিনামূল্যে এই ভ্যাকসিন প্রদান করবে, যাতে তারা সুরক্ষিত থাকতে পারেন।” তিনি আরও জানান, আসন্ন শ্বাসযন্ত্রের রোগের মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই প্রদেশব্যাপী সরকারি অর্থায়নে এই ভ্যাকসিনেশন কর্মসূচি চালু করা হবে। প্রদেশের বিভিন্ন কমিউনিটি হেলথ সেন্টার, ক্লিনিক এবং নির্বাচিত ফার্মেসির মাধ্যমে নাগরিকরা এই টিকা নিতে পারবেন।

- Advertisement -

সরকার ইতিমধ্যেই উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা ৬০ থেকে ৭৪ বছর বয়সী নাগরিক, আট মাস বয়সী শিশু এবং দুই বছর বয়স পর্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ শিশুদের মধ্যে আরএসভি ভ্যাকসিন প্রদান শুরু করেছে। এছাড়া, নবজাতকের সুরক্ষার জন্য গর্ভবতী মায়েদেরও এই ভ্যাকসিন নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে, যাতে গর্ভের শিশুরা জন্মের পর প্রথম কয়েক মাস ভাইরাস থেকে প্রাকৃতিকভাবে কিছুটা সুরক্ষা পায়।

আরএসভি ভাইরাস সাধারণত ঠান্ডা-কাশির মতো উপসর্গ দিয়ে শুরু হয়, তবে এটি দ্রুত জটিল শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণে রূপ নিতে পারে। শিশুদের মধ্যে এটি ব্রঙ্কিওলাইটিস ও নিউমোনিয়ার মতো গুরুতর অবস্থার সৃষ্টি করতে পারে, আর বয়স্কদের ক্ষেত্রে এটি হাঁপানি, শ্বাসকষ্ট বা নিউমোনিয়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ৭৫ বছরের বেশি বয়সীদের মধ্যে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা স্বাভাবিকভাবেই দুর্বল থাকে, তাই তারা আরএসভির জটিলতায় বেশি আক্রান্ত হন। এই কারণেই সরকার তাদের জন্য টিকাদান বাধ্যতামূলক না হলেও বিনামূল্যে উন্মুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জোন্স জানিয়েছেন, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই কোথায় ও কীভাবে নাগরিকরা এই ভ্যাকসিন নিতে পারবেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে। তিনি বলেন, “আমাদের লক্ষ্য হলো, পরিবারগুলো যেন সহজে এই সেবা পায় এবং বিশেষ করে বয়স্ক ও নবজাতকেরা যেন সুরক্ষিত থাকে।”

বিশেষজ্ঞরা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং মনে করছেন, এটি অন্টারিওর জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থায় এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। আরএসভি সংক্রমণের হার কমাতে এবং হাসপাতালগুলোর ওপর চাপ হ্রাসে এই কর্মসূচি কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

This article was written by Sohely Ahmed Sweety as part of the LJI.

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles