
উত্তর আমেরিকার প্রবাসী বাংলাদেশিদের অন্যতম বৃহৎ সাংস্কৃতিক সম্মেলন, ফোবানা-এর ৩৯তম আসর মন্ট্রিয়লে সফলভাবে শেষ হয়েছে। ২৯ থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত তিন দিনব্যাপী এই মহোৎসব মন্ট্রিয়লের প্রাণকেন্দ্র ইভো মন্ট্রিয়ল কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত হয়। আয়োজক কমিটির মতে, প্রায় ২,০০০ দর্শনার্থী এই উৎসবে যোগ দেন, যা ফোবানাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
এবারের ফোবানা সম্মেলন ছিল সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যে ভরপুর। বাংলাদেশ এবং উত্তর আমেরিকার প্রবাসী শিল্পীদের অংশগ্রহণে মঞ্চে প্রায় ৪০টিরও বেশি পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়। সংগীত, নৃত্য, নাটক, কবিতা আবৃত্তি এবং ফ্যাশন শো’র মতো বিভিন্ন আয়োজনে দর্শকরা মুগ্ধ হন। বিশেষ করে, বাংলাদেশ থেকে আগত জনপ্রিয় শিল্পীদের উপস্থিতি অনুষ্ঠানে এক বাড়তি মাত্রা যোগ করে। প্রবাসে থেকেও নিজেদের সংস্কৃতির প্রতি গভীর অনুরাগ এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

সম্মেলনস্থলে প্রায় ৩০টি স্টল বসেছিল, যেখানে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী পোশাক, গয়না, হস্তশিল্প, বই ও বিভিন্ন ধরনের খাবার প্রদর্শিত হয়। দেশীয় খাবারের কোর্ট ছিল অন্যতম আকর্ষণ, যেখানে ভোজনরসিকদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। ইলিশ ভাজা, বিরিয়ানি, ফুচকা ও নানা ধরনের মিষ্টান্ন যেন এক টুকরো বাংলাদেশকে মন্ট্রিয়লে নিয়ে এসেছিল। এর মাধ্যমে প্রবাসী বাঙালিরা নিজেদের ঐতিহ্যের সঙ্গে নতুন করে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পান।
সাংস্কৃতিক পরিবেশনার পাশাপাশি ফোবানার আলোচনা সভা ও সেমিনারগুলোও ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এতে প্রবাসী তরুণ প্রজন্মের চ্যালেঞ্জ, কানাডার মূলধারায় বাংলাদেশের ব্যবসা সম্পর্ক জোরদার করা এবং কমিউনিটি উন্নয়নের মতো নানা দিক নিয়ে গভীর আলোচনা হয়। প্রবাসী নেতৃবৃন্দ, উদ্যোক্তা, শিক্ষাবিদ ও গবেষকদের অংশগ্রহণে এই সেমিনারগুলো ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য দিকনির্দেশনা হিসেবে কাজ করেছে।
আয়োজক কমিটি জানিয়েছে, কোনো ধরনের বড় অঘটন ছাড়াই অনুষ্ঠানটি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। প্রায় ৫০ জন স্বেচ্ছাসেবক এবং স্থানীয় পুলিশের সহায়তায় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল। তাদের এই নিরলস পরিশ্রমের কারণেই হাজার হাজার মানুষের এই মিলনমেলা সফল হয়েছে।
মন্ট্রিয়লের এবারের ফোবানা সম্মেলন শুধু একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ছিল না, বরং এটি ছিল উত্তর আমেরিকার প্রবাসী বাংলাদেশিদের সংস্কৃতি ও ঐক্যের এক অনন্য প্রতিফলন। ছোট পরিসরে হলেও দর্শক, স্টল এবং পরিবেশনার দিক থেকে এটি ছিল এক সফল মিলনমেলা, যা প্রবাসে বাংলা সংস্কৃতিকে আরও শক্তিশালী করে তুলবে।
This article was written by Sohely Ahmed Sweety as part of the LJI.

