
ঢালিউড অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন বরাবরই খোলামেলা ও সাহসী কথা বলে থাকেন। সামাজিক মাধ্যমে নেটিজেনদের মাঝে এ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার কেন্দ্রে থাকেন তিনি। শুধু অভিনয়ই নয়, দেশের রাজনৈতিক ময়দানে পক্ষে-বিপক্ষে সব জায়গায় আছেন অভিনেত্রী।
ছিলেন গত বছর ৫ আগস্ট আওয়ামী সরকারের শেখ হাসিনার পতনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে। আবার দেখা যায়, ১৫ আগস্টেও তিনি আছেন। মুজিবের মৃত্যুবার্ষিকীতে তাকে শ্রদ্ধা জানিয়ে কটাক্ষের মুখে পড়েন অভিনেত্রী। তার মাঝে দ্বিচারিতা আচরণ। কোথায় নেই বাঁধন— সব জায়গায় সক্রিয়ভাবে আছেন। তবে এবার অভিনেত্রী তার জীবনের আন্দোলনে দেখা পুরুষকে নিয়ে কথা বললেন।
তিনি স্পষ্ট করেছেন, পুরুষদের প্রতি তার কোনো ঘৃণা নেই, বরং ঘৃণা করছেন পিতৃতন্ত্রকে এবং সেইসব নারী-পুরুষকে, যারা এই ব্যবস্থা টিকিয়ে রাখে।
বাঁধন উল্লেখ করেন, তার জীবনের কিছু পুরুষের প্রভাব তার ব্যক্তিত্ব গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এদের মধ্যে তার বাবা অন্যতম, যিনি তাকে বিভিন্ন দিক থেকে গড়ে তুলেছেন। এছাড়া ‘রেহানা’ চলচ্চিত্রের পরিচালক সাদেরও প্রভাব তিনি গভীরভাবে অনুভব করেন।
তিনি তার দুই ভাইকেও বিশেষভাবে স্মরণ করেন। যদিও মাঝে মাঝে তাদের সঙ্গে মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে, তবু তারা সবসময় তার পাশে ছিলেন। বাঁধন জানান, শরিয়াহ আইনে নারীরা সম্পত্তির সমান ভাগ না পেলেও তার দুই ভাই নিজেদের অংশ সমানভাবে তার সঙ্গে ভাগ করেছেন। তিনি এটিকে তাদের ন্যায়পরায়ণতা এবং ভালোবাসা হিসেবে দেখেন।
জীবনের ইতিবাচক অভিজ্ঞতার পাশাপাশি বাঁধন কিছু নেতিবাচক ও নিষ্ঠুর পুরুষের কথাও অকপটে তুলে ধরেছেন। তাদের আচরণ ছিল অসম্মানজনক, সহিংস ও অমানবিক। তবু তাদের প্রতি বাঁধনের একটি বিশেষ কৃতজ্ঞতা রয়েছে। তিনি বলেন, “তারা যতই আমাকে ভাঙতে চেয়েছেন, তাঁদের নিষ্ঠুরতা আমাকে প্রেরণা দিয়েছে—অন্যায়ের বিরুদ্ধে আগ্নেয়গিরির মতো উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে। এভাবেই তারা আমাকে গড়ে তুলেছে।”
শেষে বাঁধন আবারও স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন, “ভুল বোঝবেন না, আমি পুরুষদের অপছন্দ করি না। আমি ঘৃণা করি পিতৃতন্ত্রকে। আর হ্যাঁ, আমি পুরুষদের ভালোবাসি।”

