মধুবন

মধুবন - the Bengali Times
প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা দেবার দায়িত্ব রাষ্ট্রের রাষ্ট্র কি ব্যর্থ হচ্ছে সে নিরাপত্তা প্রদানে কোথাও কোনো শান্তি নেই পৃথিবী পরিণত হয়েছে নষ্ট পৃথিবীতে

কেমন আছিস্? আজ অনেকদিন পর তোকে লিখতে বসলাম। ইচ্ছে করে অনেক চিঠি তোকে লিখবো, কিন্তু জানিস তো উত্তর আমেরিকার জীবন। ব্যস্ত জীবনের মাঝে কখন যে সময় পালিয়ে যায় বুঝতে পারি না। তারপরও চেষ্টা করি দেশ বিদেশের খবর রাখার জন্য। যদিও ভালো খবরগুলো অলিগলি দিয়ে আসলেও খারাপ খবর নিশংসতার খবর, বর্বরতার খবরগুলি প্রশস্থ রাস্তা জুড়ে থাকে। পৃথিবীটা ভরে গেছে নোংরা পচা গন্ধে। সেই পচা গন্ধে যেন সুন্দর সুগন্ধ লজ্জায় নিজেদের লুকাবার জায়গা খুঁজে বেড়াচ্ছে। আমরা সব সময়ই জানি ফুল আর শিশুকে ভালোবাসে না এমন মানুষ পৃথিবীতে নাই। একটি শিশুর চেহারা দেখলে একজন পাষণ্ডরে মনেও কোমলতা আসে। দেখ এখন নিষ্পাপ সুন্দর ফুলের মতো শিশুদের উপর চলছে পাশবিক নির্যাতন। ধর্ষণ করা হচ্ছে শিশুকে। আমরা যেন বর্বরযুগকেও হার মানিয়েছি। এসব পাপিষ্টদের কী রকম সাজা হওয়া উচিত বলে তোর মনে হয়? এমন কেন সাজা দেওয়া হয় না সে সব নরপশুদের, তাদের সাজা দেখে সব পাপীরা আতঙ্কে শিউরে ওঠে। প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা দেবার দায়িত্ব রাষ্ট্রের, রাষ্ট্র কি ব্যর্থ হচ্ছে সে নিরাপত্তা প্রদানে? কোথাও কোনো শান্তি নেই। পৃথিবী পরিণত হয়েছে নষ্ট পৃথিবীতে। ভীষণ কঠিন রোগে আক্রান্ত এই পৃথিবী। জানি না এই অনিয়ম, র্ববরতা, নিলজ্জতা থেকে বের হয়ে আসার পথ কোথায়? যারা নারী শিশুদের প্রতি এমন পাশবিক নির্যাতন চালাচ্ছে, আমি আমার অন্তর থেকে তাদের অভিশাপ দিচ্ছি সৃষ্টিকর্তা যেন তাদের এমন শাস্তির ব্যবস্থা করে দেন যেন তারা নিজেরাই তাদের জন্মের জন্য আক্ষেপ প্রকাশ করে।

শুধু এই নরপশুদের কথা বলেই কি কথা শেষ হয় বল? সমাজটা কীভাবে নষ্ট হচ্ছে দেখছিস তো? মানুষের মাঝে লজ্জা নেই, ভয় নেই, শালীনতা নেই, নৈতিকতা বোধ নেই। স্বামীর সাথে বিবাহবিচ্ছেদ হচ্ছে সাথে সাথে অন্য পুরুষ জোগাড় করে নিচ্ছে, বিয়ে না করেই এক সাথে বসবাস করছে জড়াজড়ি করে বুক ফুলিয়ে ঘুড়ে বেড়াচ্ছে। পুরুষ সমাজকে আমরা যতই গালাগালি করি, ধিক্কার দেই, নোংরা কাজের জন্য, যত বড় শ্লোগান দেই না কেন নারী অধিকারের জন্য কিন্তু ক’জন নারী চলতে পারছে পুরুষ ছাড়া? এর নাম তুই কী দিবি? নারী স্বাধীনতা, নাকি নারী অশালীনতা? আজকাল আমরা যেন ছিঃ ছিঃ শব্দটা বলতেও ভুলে গেছি। এধরনের পিতা-মাতার কাছ থেকে সন্তানরা কী শিক্ষা লাভ করবে বলতো? সমাজ থেকে সরলতা শালীনতা হারিয়ে গেছে স্থান পেয়েছে জটিলতা আর নির্লজ্জতা। কোথাও কোনো স্বস্থি নেই।

- Advertisement -

সমাজ নিয়ে অনেক কথা বললাম। আরো অনেক কিছু বলার ছিল কিন্তু বেশি দীর্ঘ চিঠি পড়তে তোর বিরক্ত লাগবে। তাই আজ এখানেই শেষ করছি। পরের চিঠিতে আবার লিখবো। তুইও আমাকে জানাস তোর অভিজ্ঞতা, তোর চোখে দেখা অশোভন, নির্মম জিনিশগুলো। আমি ভালো আছি সব মিলিয়ে। তবে কিছুটা অশান্তিতে ভুগছি অসুস্থ পৃথিবীটাকে দেখে। ভালো থাকিস।

ইতি, তোর বন্ধু শিখা

ম্যাল্টন, কানাডা

- Advertisement -
পূর্ববর্তী খবর
পরবর্তী খবর

Related Articles

Latest Articles