
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ডেটিং সাইট টানটান অ্যাপসের মাধ্যমে হানি ট্র্যাপে ফেলে বিত্তবানদের জিম্মি করে লাখ লাখ টাকা ও মূল্যবান সম্পদ হাতিয়ে নিচ্ছিলো একটি চক্র। আর এই চক্রের মাধ্যমে অপরাধের স্বর্গরাজ্য আশুলিয়ার জামগড়া-চিত্রশাইল এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে একাধিক ব্যক্তিকে হানি ট্র্যাপে ফেলে নিঃস্ব করার প্রমাণ পেয়েছে পুলিশ। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া এমন একটি ঘটনার অভিযোগ তদন্তে উঠে আসে এমন ভয়ঙ্কর অপরাধের চিত্র। এ চক্রের প্রধানসহ দু’জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাভার সার্কেল) শাহিনুর কবির।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলো, গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ার মুন্সিরচর গিমাডাঙ্গা গ্রামের মোতালেব শেখের ছেলে মোহাম্মদ ইয়াসিন শেখ (২৫) ও মাগুরা সদর থানার শিমুলিয়া গ্রামের ওলিয়ার রহমানের মেয়ে মোছা. সুমাইয়া জান্নাত ওরফে সুমি আক্তার (২৫)। তাদের বিরুদ্ধে এ সংক্রান্ত একাধিক মামলা রয়েছে। এর আগে গত ২০শে জুন চক্রটির খপ্পরে পড়েন রাজধানীর মিরপুরের বাসিন্দা পলাশ হোসেন (২৫)। তিনি মানিকগঞ্জ জেলার হরিরামপুর থানার পেচুয়া ধারা গ্রামের গিয়াস উদ্দিনের ছেলে। পরবর্তীতে ঘটনার চারদিন পর ২৫শে জুন দুপুরে তিনি বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন।
মামলা সূত্রে জানা যায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ডেটিং সাইট টানটান অ্যাপসের মাধ্যমে সুমাইয়ার সঙ্গে পরিচয় হয় পলাশের। তাদের মধ্যে কয়েকদিন মোবাইল ফোনে কথাবার্তা চলতে থাকে। একপর্যায়ে সুমাইয়া তাকে ফোন দিয়ে আশুলিয়ার জামগড়া আইডিএস ফ্যাক্টরির সামনে আসতে বলে। তিনি ওই স্থানে যাওয়ার পর মেয়েটি তাকে বাসায় যেতে বলে। প্রথমে আশুলিয়ার চিত্রশাইল এলাকার আমির মোহাম্মদ মাহবুবের বাড়ির নিচতলায় মোটরসাইকেল রাখে পলাশ। কৌশলে ওই বাড়িতে তিনতলার ছাদে তাকে নিয়ে আটক করা হয়। এরপর ওই চক্রের কয়েকজন তাকে বিভিন্ন কায়দায় মারধর করে এবং প্রাণনাশের ভয় দেখিয়ে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা দাবি করে। পরে তার কাছ থেকে কয়েক দফায় মুক্তিপণ বাবদ ১২ হাজার ৭০০ টাকা আদায় করে। তার ব্যবহৃত আইফোন, তার নামের ইস্টার্ন ব্যাংকের একটি এটিএম কার্ড এবং তার মোটরসাইকেলের চাবি হাতিয়ে নিয়ে অজ্ঞাতস্থানে তাকে ফেলে রেখে যায়।
বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করলে গোয়েন্দা তথ্য ও প্রযুক্তি ব্যবহার করে চক্রের প্রধানসহ দু’জনকে গ্রেপ্তারের পর বৃহস্পতিবার দুপুরে আদালতে প্রেরণ করে আশুলিয়া থানা পুলিশ। মামলার তদন্তের দায়িত্বে থাকা আশুলিয়া থানার এসআই সোহেল আল মামুন জানান, ইতিমধ্যে চক্রের প্রধানসহ ২ জনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
এ ব্যাপারে আশুলিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) সফিকুল ইসলাম সুমন মানবজমিনকে বলেন, মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি হানি ট্র্যাপ চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলমান রয়েছে।

