
এই বছর প্রথম বাগান থেকে লালশাক তুলেছি। সঙ্গে বাগানে হওয়া ধনিয়ার পাতা।
কানাডায় বাজারে এমন ফ্রেশ লালশাক পাওয়া খুবই দুস্কর ও দামে অত্যন্ত চড়া।
লালশাক উৎপাদন করতে বরাবরই আমার husband বীজ কিনে এনে ছিটিয়ে দেন মাটিতে। তার আগে তিনি ভালোভাবে মাটি কু*পিয়ে বেডটা তৈরি করে নেন। তারপর লালশাকের বীজ ছিটিয়ে দিন।
আর আমি তাতে প্রতিনিয়ত পানি দিতে থাকি। একটু বড়ো হয়েছে বলে একদফা তুলতে পেরেছি। বাগান থেকে কষ্ট করে আমিই তুলে এনেছি গতকাল সন্ধ্যায়। মশার কামড় সহ্য করে। আজ এগুলো আবার ভালোভাবে ধুয়ে রান্না করব ইনশাআল্লাহ। পানি দেওয়া-তোলা-রান্না করার দায়িত্ব আমার।
লালশাক আমাদের পরিবারের সবার প্রিয়। রান্না করে ভাতের সঙ্গে আমার মেয়েদের দিলে খেয়ে ফেলবে। আলহামদুলিল্লাহ। আমার husband এর খুবই প্রিয় হলো লালশাক। তাই প্রতিবছর এর বীজ ছটাতে ওনার ভুল হয় না।
তবে হতাশার কথা হলো এই যে, এ বছর অন্যান্য সবজির ফলন তলানিতে। কেন যে এবার বাড়ল না ঠিক বোঝা না গেলেও মনে হচ্ছে ওয়েদারের কারণ হবে। তাছাড়া আমি চারা বানাতে একটু দেরি করে ফেলেছিলাম। ফলে লাউয়ের গাছগুলো একেবারেই আতুর ঘরেই আছে।
কিছু টমেটোর রূপ দেখা যেতে পারে। বাজার থেকে কিনে আনা টমেটোর চারাগুলো একটুখানি বড়ো হয়েছে আলহামদুলিল্লাহ।

নিজের হাতে লালশাক ফলিয়ে খাওয়ার মজা একটুখানি না, আর তাও যদি হয় কানাডার মাটিতে।
আমি মনে করি প্রত্যেকের বেলায় সব কাজ করার দক্ষতা তাদের গুণাবলী বাড়ায়। কিন্তু অনেকেই আবার মনে করেন কাজ বুঝে মানুষের গুণাবলী বাড়ে। এটা সত্য না।
আমি নিজেই অনেককিছুই নিজের হাতে করি। যেমন ধরেন, পেইন্ট করা, কাঠের কোনো কিছু তৈরি করা, মাটি কু*পিয়ে সবজির বেড তৈরি করা, কোনোকিছু মেরামত করা, বাচ্চাদের খেলনা বানানো, ছবি আঁকানো ও লেখালেখি করা এগুলো ধরেন বাদই দিলাম। আরো তো আছে। বাজারে গিয়ে গ্রোসারি করে আনি, এনে রান্না করি। বাড়ি-ঘর পরিস্কার করা তো আছেই। তারপর ধরেন আমাদের তো আবার চারজন ছেলেমেয়ে। চারজনের বিভিন্ন বিষয়ে সামলানো এতোটা সহজ মনে হলেও ততোটা সহজ আসলে না। তারপর আবার আমি ও আমার husband ফুল টাইম চাকরি করি। আলহামদুলিল্লাহ !
তাছাড়া আমি ও আমার husband দুইজনই সব কাজই করি। এমন না যে আমি ঘরের মধ্যে বসে জি সিনেমা দেখছি, আর আমার husband সবকিছু করছেন। আবার এমনও না যে, আমিই সবকিছু করছি উনি দিব্যি বসে আছেন।
শোনেন, আপনাদের আমি একটা খুবই সত্যি কথা বলতেছি।
কানাডায় আমরা প্রথম দুই হাজার সাত সালের মার্চে আসার পর এই ধরে আঠারো বছরের মতো হবে আলহামদুলিল্লাহ আল্লাহ অনেক ভালো রেখেছেন বলব। তার কারণ হলো দুইজনই সমানভাবে সবকিছু চেষ্টা করেছি।
দেখা যাচ্ছে যে অনেকেই আছেন আমাদের আরো আগে এসেছেন কিন্তু তারা হয়তো নিজেদের গুছিয়ে ওঠা নিয়ে সন্তুষ্ট না। বা ধরেন অনেকটাই struggle করতে হচ্ছে জীবনযাপনের ভারসম্য ঠিক করতে।
কারণটা কী? আমি মনে করি কানাডায় আসার ডে ওয়ান থেকে আমরা দুইজনই সমানভাবে প্রত্যেকটা কাজে ভূমিকা রেখেছি। যা একজনের পক্ষে হলে কখনোই সম্ভব হতো না। সবকিছুতেই। তার আগে আমি বলব, এর প্রথম কারণ হলো আল্লাহর রহমত।
আমাদের প্রত্যেকটা কাজে যেভাবে আল্লাহর সাহায্য পেয়েছি তা নাহলে কোনো কিছুই হতো না। যেকোনো একেকটা বিপদ থেকে আল্লাহ কীভাবে যে আমাদের রক্ষা করেছেন তা যদি আমি আপনাদের উদাহরণ দিই বুঝতে পারবেন।
সবসময়ই আল্লাহ রক্ষা করেছেন, সাহায্য করেছেন। তা নাহলে জীবন যে কতোটা কঠিন হতো তা হাড়ে-হাড়ে বোঝা যেত।
পরিবারে একজনের পক্ষে সবকিছু কুল রক্ষা করা মোটেও সম্ভব না। আরো আরেকটা বিষয় আছে। পরিবারে জীবনসঙ্গীর একে অন্যের মধ্যে বোঝাপড়া ও সম্মানবোধ থাকতেই হবে।
যে পরিবারে জীবনসঙ্গীর একে-অন্যের মধ্যে সম্মানবোধ নেই তারা যদি আর্থিকভাবে এগিয়েও যান, নৈতিকভাবে তলানিতে যাবেন কোনো সন্দেহ নেই।
আর মানব জীবনে নৈতিকতা খুবই দরকার। যা আপনার চরিত্রে একটা লজ্জা-শরমের মতো বিষয়গুলো মজুদ করে। লজ্জা-শরম বিবর্জিত মানুষ সমাজের জন্য খুবই ভয়ংকর।
আল্লাহ আপনাদের সুস্থ রাখুন।
টরন্টো, কানাডা

