
চিত্রনায়িকা তানিন সুবহার মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার (১১ জুন) দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে মৃতদেহের ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে লাশ বুঝিয়ে দেয়া হয়। গত এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে মঙ্গলবার পরপারে পাড়ি জমান তিনি।
মর্গ সূত্রে জানা যায়, ময়নাতদন্তের সময় মরদেহ থেকে ভিসেরা আর হার্টের নমুনা নেয়া হয়েছে হিস্টোপ্যাথলজির জন্য। এগুলো ল্যাবে পাঠানো হবে। সেখান থেকে রিপোর্ট এলে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দেয়া হবে। আর মর্গ থেকে সুবহার ভাই রামীম মরদেহটি বুঝে নিয়েছেন।
চলচ্চিত্রের পর্দা ছেড়ে চিরবিদায় নিয়েছেন ঢালিউড অভিনেত্রী তানিন সুবহা। মঙ্গলবার (১০ জুন) সন্ধ্যা ৭টা ৫৭ মিনিটে ধানমণ্ডির একটি বেসরকারি হাসপাতালে তার লাইফ সাপোর্ট খুলে নেওয়া হয়। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, আগেই তাকে ‘ক্লিনিক্যালি ডেড’ ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে লাইফ সাপোর্ট সরাতে অপেক্ষা ছিল স্বামীর সম্মতির। সেই অনুমতি পাওয়ার পরই তানিনকে পৃথিবীর মায়া থেকে মুক্তি দেওয়া হয়।
তানিনের মৃত্যুর পর নতুন করে আলোচনায় এসেছে তার কিছুদিন আগের একটি ফেসবুক পোস্ট, যেটি তিনি লিখেছিলেন ১৯ মে। সেই পোস্টে তিনি উল্লেখ করেছিলেন, আগে কখনো তাবিজ কিংবা কুফরি বিদ্যায় বিশ্বাস করতেন না, কিন্তু অসুস্থতার ভয়াবহ অভিজ্ঞতা তাকে বিশ্বাসী করে তুলেছে।
অভিনেত্রীর ভাষ্য, কোনোদিন আমি তাবিজ বা কুফরিতে বিশ্বাস করতাম না। এখন করি। সুস্থ একটা মানুষকে এভাবে মেরে ফেলার চেষ্টা করে কি লাভ? ঘরের আনাচে কানাচে কত কি যে পেলাম। কেন এমন করছেন! আমি তো কারো ক্ষতি করিনি। ’
পোস্টের শেষদিকে তিনি আরও লেখেন, ‘শেষ চার মাস ধরে শুধু অসুস্থ আর অসুস্থ আমি। এসবের ফল পাবেন, চিন্তা কইরেন না। আল্লাহ ছাড় দেন, কিন্তু ছেড়ে দেন না।’
পোস্টটি এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘুরে বেড়াচ্ছে। অনেকেই মন্তব্য করছেন সেই সময়ের কথা ভেবে, অনেকেই ভাবছেন কোনো অশরীরী শক্তির ইঙ্গিত ছিল কিনা।
একজন অনুরাগী মন্তব্য করেছেন, ‘পোস্টের এক মাস না যেতেই চলে গেলেন। কতটা ভয়ঙ্কর ছিল পরিস্থিতি!’ অন্য একজন লিখেছেন, ‘মৃত্যুর আগে নিজের কষ্টের কথা বলে গেছেন—এটাই প্রমাণ করে কালো জাদু কতটা বিষাক্ত।’
গত ২ জুন হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তানিন সুবহাকে আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। এরপর থেকে তার শারীরিক অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি। বরং ধীরে ধীরে অবনতি ঘটতে থাকে। শেষপর্যন্ত চিকিৎসার সব চেষ্টা ব্যর্থ করে চলে গেলেন তানিন সুবহা।
একজন শিল্পীর এমন অকাল প্রস্থান, তার মৃত্যুর আগে লেখা আবেগময় পোস্ট এবং তাতে উঠে আসা অজানা আশঙ্কা—সব মিলিয়ে আলোচিত হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। বাস্তব জীবন কখন যে সিনেমার চেয়েও করুণ হয়ে ওঠে, তানিন সুবহার শেষ অধ্যায় যেন তারই এক নির্মম প্রমাণ।

