
টরন্টোর পিয়ারসন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ২ কোটি ২৫ লাখ ডলারের বেশি মূল্যের স্বর্ণ ও নগদ অর্থ চুরির ঘটনায় নতুন তথ্য সামনে এসেছে। চুরির দিন এয়ার কানাডার কার্গো ওয়্যারহাউজের একটি গুরুত্বপূর্ণ সার্ভিল্যান্স ক্যামেরা অচল ছিল বলে আদালতে জানিয়েছেন মামলার তদন্তকারী এক গোয়েন্দা। ফলে স্বর্ণ চুরিতে সহায়তাকারী ব্যক্তিকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আদালতে দাখিল করা নথি ও শুনানিতে উঠে আসা তথ্য অনুযায়ী, এয়ার কানাডা কার্গোর সাবেক কর্মী ৫৬ বছর বয়সী পারমপাল সিধুর বিরুদ্ধে নিজের দায়িত্ব ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে এয়ারলাইনের অফিসিয়াল এয়ার ওয়েবিল প্রিন্ট করার সুযোগ ব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়েছে। ২০২৩ সালে বিমানবন্দর থেকে চুরি হওয়া স্বর্ণ সংগ্রহের জন্য একজন ট্রাকচালক ওই ওয়েবিল ব্যবহার করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে চুরি ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগ অস্বীকার করে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন সিধু।
মামলার শুনানিতে জানানো হয়, এয়ার কানাডার অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজে দেখা গেছে, পিয়ারসন বিমানবন্দরের বিশাল কার্গো ওয়্যারহাউজ থেকে স্বর্ণভর্তি ক্রেট সরিয়ে একটি ট্রাকে তোলা হচ্ছে। পরে ট্রাকটি সেখান থেকে চলে যায়। কিন্তু ফুটেজে এমন কোনো দৃশ্য পাওয়া যায়নি, যেখানে কাউকে এয়ার ওয়েবিল প্রিন্ট করতে কিংবা সেটি ট্রাকচালকের হাতে তুলে দিতে দেখা গেছে।
তদন্তকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ওয়্যারহাউজের ভেতরে থাকা এয়ার কানাডার একটি প্রিন্টার ব্যবহারের জন্য সিধুর পরিচয়পত্র ব্যবহার করা হয়েছিল। তবে পরিচয়পত্র ব্যবহার করলেই যে সিধু নিজে ওয়েবিলটি প্রিন্ট করেছিলেন, তা প্রমাণিত হয় না এমন প্রশ্নও উঠেছে আদালতে। বুধবার মামলার দ্বিতীয় দিনের শুনানিতে পিল রিজিওনাল পুলিশের গোয়েন্দা সারাহ অ্যাঙ্গেভিন সাক্ষ্য দেন। এ সময় সিধুর আইনজীবী শেল ওয়াগম্যান তদন্তের প্রমাণ নিয়ে তাকে একাধিক প্রশ্ন করেন।
আইনজীবী ওয়াগম্যান জানতে চান, চুরি হওয়া স্বর্ণ সংগ্রহের জন্য ব্যবহৃত এয়ার ওয়েবিলে সিধুর কোনো আঙুলের ছাপ পাওয়া গেছে কি না। জবাবে গোয়েন্দা অ্যাঙ্গেভিন বলেন, ওয়াগম্যানের বক্তব্য সঠিক ওই ওয়েবিলে সিধুর আঙুলের ছাপ পাওয়া যায়নি। এরপর আইনজীবী জানতে চান, এয়ার কানাডা কার্গো ওয়্যারহাউজে কোনো সার্ভিল্যান্স ক্যামেরা ছিল কি না এবং সেগুলোর ফুটেজ তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হয়েছিল কি না। জবাবে গোয়েন্দা অ্যাঙ্গেভিন বলেন, প্রিন্টারটি যেখানে রাখা ছিল, সেখানকার ক্যামেরাটি ঘটনার দিন চালু ছিল না বলে তার মনে আছে। ফলে কে ওই প্রিন্টার ব্যবহার করে এয়ার ওয়েবিলটি তৈরি করেছিলেন, তা ক্যামেরার ফুটেজ থেকে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
মামলার এই তথ্য তদন্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এনেছে সিধুর পরিচয়পত্র ব্যবহার করে ওয়েবিল প্রিন্ট করা হলেও, সেটি আসলে কে করেছিলেন? ক্যামেরা অচল থাকায় সেই প্রশ্নের সরাসরি উত্তর পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। আদালতে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, স্বর্ণ চুরির ঘটনায় সিধুর বিরুদ্ধে অভিযোগের পাশাপাশি ওয়েবিল প্রিন্ট, পরিচয়পত্রের ব্যবহার এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়েও তদন্তের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাচ্ছে। মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ায় এসব তথ্যের ভিত্তিতেই অভিযোগের সত্যতা নির্ধারিত হবে।

