
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) মডেল তৈরিতে সংবাদমাধ্যমের কনটেন্ট অনুমতি ছাড়াই ব্যবহারের অভিযোগে অ্যান্থ্রোপিকের বিরুদ্ধে মামলা করেছে কানাডার শীর্ষস্থানীয় কয়েকটি সংবাদপ্রতিষ্ঠানের একটি জোট। অন্টারিওর আদালতে দায়ের করা এ মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, সংবাদমাধ্যমগুলোর কপিরাইট সুরক্ষিত লেখা ব্যবহার করে নিজেদের এআই মডেল ক্লড উন্নত করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
মামলাকারীদের মধ্যে রয়েছে কানাডার বৃহৎ সংবাদমাধ্যম পোস্টমিডিয়া, টরস্টার, দ্য গ্লোব অ্যান্ড মেইল এবং দ্য কানাডিয়ান প্রেস। তাদের অভিযোগ, কোনো সংবাদপ্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে বৈধ লাইসেন্স না নিয়েই অ্যান্থ্রোপিক তাদের প্রকাশিত কনটেন্ট ব্যবহার করে বাণিজ্যিক সুবিধা অর্জন করেছে।
এক যৌথ বিবৃতিতে সংবাদমাধ্যমগুলো বলেছে, অন্যের কনটেন্টের ওপর নির্ভর করে অ্যান্থ্রোপিক শুধু তাদের এআই মডেলের সক্ষমতা বাড়ায়নি, বরং নিজেদের সেবা সম্প্রসারণ এবং বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ সংগ্রহেও সুবিধা পেয়েছে। এর ফলে সংবাদপ্রতিষ্ঠানগুলো আর্থিকভাবে উল্লেখযোগ্য ও অন্যায্য ক্ষতির মুখে পড়েছে বলে দাবি করেছে তারা।
গত ৬ অক্টোবর মামলাটি দায়ের করা হয়। এ বিষয়ে প্রথম প্রতিবেদন প্রকাশ করে সংবাদ ওয়েবসাইট কার্টডটসিএ। মামলার বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাওয়া হলেও অ্যান্থ্রোপিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে আদালতে অভিযোগগুলোর সত্যতা এখনো প্রমাণিত হয়নি। মামলার বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অ্যান্থ্রোপিক সংবাদমাধ্যমগুলোর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ব্যবহারের শর্তাবলি লঙ্ঘন করেছে। একই সঙ্গে প্রকাশকদের কনটেন্ট অননুমোদিতভাবে সংগ্রহ ও নকল করা ঠেকাতে নেওয়া প্রযুক্তিগত সুরক্ষাব্যবস্থাও এড়িয়ে গেছে প্রতিষ্ঠানটি।
মামলাকারীদের দাবি, কানাডার সাংবাদিকতাভিত্তিক কনটেন্টের বড় একটি অংশ তাদের প্রতিষ্ঠানগুলো তৈরি করে। সম্মিলিতভাবে এসব সংবাদমাধ্যমের পাঠকসংখ্যাও বিপুল। অভিযোগ অনুযায়ী, অ্যান্থ্রোপিক ইন্টারনেট এবং মামলাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ওয়েবসাইট থেকে বিপুল পরিমাণ লেখা সংগ্রহ ও নকল করেছে। পরে সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমগুলোর অনুমতি বা সম্মতি ছাড়াই এসব উপাদান নিজেদের এআই মডেল ও বিভিন্ন সেবা উন্নয়নে ব্যবহার করেছে।
কপিরাইট সুরক্ষিত কনটেন্ট এআই প্রশিক্ষণে ব্যবহারের বৈধতা নিয়ে বিশ্বজুড়েই বিতর্ক চলছে। সংবাদ প্রকাশকদের উদ্বেগ, অনুমতি ছাড়া তাদের প্রতিবেদন ও অন্যান্য লেখা ব্যবহার করে এআই কোম্পানিগুলো লাভবান হলেও মূল কনটেন্ট নির্মাতারা যথাযথ স্বীকৃতি বা আর্থিক সুবিধা পাচ্ছেন না। এ ধরনের ব্যবহার সংবাদমাধ্যমের ব্যবসায়িক স্বার্থ এবং সাংবাদিকতার ভবিষ্যতের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।
অ্যান্থ্রোপিকের বিরুদ্ধে মামলাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কয়েকটি ২০২৪ সালে এআই কোম্পানি ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধেও মামলা করেছিল। সেই মামলার নিষ্পত্তি এখনো হয়নি। এদিকে, কানাডা সরকারের জাতীয় এআই কৌশল সংবাদমাধ্যমের কপিরাইট-সংক্রান্ত উদ্বেগের সমাধান করতে পারেনি বলে অভিযোগ প্রকাশকদের। এ পরিস্থিতিতে এআই সিস্টেমের প্রশিক্ষণ ও উন্নয়নে কপিরাইট সুরক্ষিত কনটেন্ট ব্যবহারের নিয়ম স্পষ্ট করতে ফেডারেল সরকারের কাছে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছে তারা।
নতুন এই মামলার মধ্য দিয়ে এআই প্রযুক্তির বিকাশ এবং সংবাদমাধ্যমের মেধাস্বত্ব সুরক্ষার মধ্যে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার প্রশ্নটি আবারও সামনে এসেছে। মামলার পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করবে, কানাডায় সংবাদমাধ্যমের কনটেন্ট এআই প্রশিক্ষণে ব্যবহারের ক্ষেত্রে কী ধরনের আইনি সীমারেখা প্রতিষ্ঠিত হয়।

