
কানাডার উইনিপেগ শহরের ডাউনটাউন পুলিশ সদরদপ্তর নির্মাণ ও সংস্কার প্রকল্পে ৪৩.৩ মিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত ব্যয় এবং আর্থিক অনিয়মের তথ্য উঠে এসেছে তদন্ত কমিশনার গার্থ স্মোরাংয়ের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে। প্রতিবেদনে প্রকল্পটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন সাবেক নগর কর্মকর্তা ও নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের মালিকের বিরুদ্ধে স্বার্থের সংঘাত এবং অনৈতিক আচরণের বিষয়ও তুলে ধরা হয়েছে।
স্মোরাংয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুলিশ সদরদপ্তর প্রকল্পের জন্য সিটি অব উইনিপেগের কাছে অতিরিক্ত অর্থ চাওয়া হয়েছিল এবং শেষ পর্যন্ত ৪৩.৩ মিলিয়ন ডলার বেশি পরিশোধ করা হয়। প্রকল্পটির মোট ব্যয় দাঁড়ায় ২০৯ মিলিয়ন ডলারে। এর মধ্যে সাবেক কানাডা পোস্ট ভবন অধিগ্রহণ ও সংস্কারের খরচও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রকল্পটির আর্থিক ব্যবস্থাপনা খতিয়ে দেখতে গিয়ে কাস্পিয়ান কনস্ট্রাকশনের মালিক আরমিক বাবাখানিয়ান্স এবং তাঁর সাবকন্ট্রাক্টরদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আর্থিক অনিয়মের তথ্য পর্যালোচনা করা হয়েছে।
তদন্তে উইনিপেগের সাবেক মেয়র স্যাম কাটজ এবং সাবেক প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তা (সিএও) ফিল শিগলের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। স্মোরাংয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাঁদের বিরুদ্ধে স্বার্থের সংঘাতসংক্রান্ত আইন লঙ্ঘনের বিষয়টি উঠে এসেছে। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, কাস্পিয়ান কনস্ট্রাকশনের মালিক বাবাখানিয়ান্স শিগল ও কাটজকে মোট ৩২৭,০০০ ডলার পরিশোধ করেছিলেন। প্রতিবেদনে এই অর্থ লেনদেনের সময় এবং পুলিশ সদরদপ্তর প্রকল্পের বাজেট বৃদ্ধির বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের মধ্যে সম্পর্কের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রকল্পের বাজেট বাড়ানোর বিষয়ে ভোট দেওয়ার সময় এই অর্থ লেনদেনের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ ছিল। স্মোরাংয়ের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট অর্থ গ্রহণ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে শিগল ও কাটজের ভূমিকা স্বার্থের সংঘাতসংক্রান্ত আইন লঙ্ঘনের গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করে।
স্মোরাংয়ের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বাবাখানিয়ান্সের কাছ থেকে অর্থ গ্রহণের ঘটনাকে অনৈতিক আচরণ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। তদন্তের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, সাবেক মেয়র ও নগর প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তার সঙ্গে একজন নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের মালিকের এই আর্থিক সম্পর্ক তাঁদের সরকারি দায়িত্ব পালনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন সৃষ্টি করে।
উইনিপেগের ডাউনটাউন পুলিশ সদরদপ্তর প্রকল্পটি ঘিরে অতিরিক্ত ব্যয়, অর্থ লেনদেন এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়ে তদন্তে যে তথ্য উঠে এসেছে, তা নগর প্রশাসনের জবাবদিহি ও সরকারি প্রকল্পে স্বচ্ছতার গুরুত্বকে সামনে এনেছে। তবে প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রতিক্রিয়া, সম্ভাব্য আইনি পদক্ষেপ এবং অতিরিক্ত ব্যয়ের অর্থ কীভাবে নির্ধারিত হয়েছিল, সে বিষয়ে আরও তথ্য পাওয়া গেলে বিষয়টির পূর্ণাঙ্গ চিত্র স্পষ্ট হবে।

