শিল্পোন্নত ৩২ দেশের মধ্যে স্বাস্থ্যসেবায় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ব্যয় কানাডার

শিল্পোন্নত ৩২ দেশের মধ্যে স্বাস্থ্যসেবায় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ব্যয় কানাডার - the Bengali Times
গবেষণার তথ্য অনুযায়ী সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা রয়েছে এমন ৩২টি শিল্পোন্নত দেশের মধ্যে জনপ্রতি চিকিৎসকের সংখ্যার হিসাবে কানাডার অবস্থান ৩০তম

সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে বিপুল অর্থ ব্যয় করেও প্রত্যাশিত সাফল্য পাচ্ছে না কানাডা। শিল্পোন্নত দেশগুলোর মধ্যে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) অনুপাতে স্বাস্থ্য খাতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ব্যয় করলেও চিকিৎসক, মেডিকেল ইমেজিং সুবিধা এবং হাসপাতালের শয্যাসংখ্যার মতো গুরুত্বপূর্ণ সূচকে দেশটির অবস্থান বেশ নিচের দিকে। ভ্যানকুভারভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ফ্রেজার ইনস্টিটিউটের এক নতুন গবেষণায় এমন চিত্র উঠে এসেছে।

গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা রয়েছে এমন ৩২টি শিল্পোন্নত দেশের মধ্যে জনপ্রতি চিকিৎসকের সংখ্যার হিসাবে কানাডার অবস্থান ৩০তম। অর্থাৎ, স্বাস্থ্য খাতে বিপুল সরকারি বিনিয়োগ থাকা সত্ত্বেও দেশটিতে চিকিৎসকপ্রাপ্তির সুযোগ তুলনামূলকভাবে সীমিত। বিশেষ করে একজন পারিবারিক চিকিৎসক বা ফ্যামিলি ডাক্তারের সন্ধান পাওয়া অনেক কানাডীয় নাগরিকের জন্য এখনও বড় চ্যালেঞ্জ।

- Advertisement -

স্বাস্থ্যসেবার অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রেও কানাডার অবস্থান সন্তোষজনক নয়। গবেষণায় দেখা গেছে, এমআরআই ও সিটি স্ক্যানের মতো মেডিকেল ইমেজিং সুবিধার প্রাপ্যতায় ৩২টি দেশের মধ্যে কানাডা রয়েছে ২৮তম স্থানে। অন্যদিকে, অ্যাকিউট কেয়ার বা জরুরি ও স্বল্পমেয়াদি চিকিৎসার জন্য হাসপাতালের শয্যাসংখ্যার হিসাবে দেশটির অবস্থান ২৬তম।

এই পরিসংখ্যান স্বাস্থ্য খাতে অর্থ বরাদ্দের পাশাপাশি সেই অর্থ কীভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে এবং রোগীদের জন্য কতটা কার্যকর সেবা নিশ্চিত করা যাচ্ছে, সে প্রশ্ন সামনে নিয়ে এসেছে। কারণ, শুধু সরকারি ব্যয়ের পরিমাণ দিয়ে একটি দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার সক্ষমতা কিংবা সাফল্য পরিমাপ করা সম্ভব নয়। চিকিৎসক, হাসপাতালের অবকাঠামো, রোগ নির্ণয়ের সরঞ্জাম এবং সময়মতো চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

ফ্রান্স, জার্মানি ও সুইডেনসহ কয়েকটি পশ্চিমা দেশ স্বাস্থ্যসেবার বিভিন্ন সূচকে কানাডার তুলনায় এগিয়ে রয়েছে বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে। এসব দেশের সঙ্গে তুলনা করলে কানাডার স্বাস্থ্যব্যবস্থায় সম্পদের ব্যবহার ও সেবা প্রদানের সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে আলোচনার প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট হয়।

উল্লেখ্য, ফ্রেজার ইনস্টিটিউটের এই তুলনামূলক গবেষণায় যুক্তরাষ্ট্রকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এর কারণ, যুক্তরাষ্ট্রে কানাডার মতো সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা নেই। কানাডার ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য হলো নাগরিকদের আর্থিক সামর্থ্য নির্বিশেষে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করা।

গবেষণার ফলাফল কানাডার স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগের পরিমাণের চেয়ে সেবার প্রাপ্যতা, দক্ষতা এবং রোগীদের বাস্তব অভিজ্ঞতার ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে। বিপুল অর্থ ব্যয়ের পরও সাধারণ মানুষ যদি চিকিৎসক খুঁজে পেতে কিংবা প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করাতে দীর্ঘ অপেক্ষায় থাকতে বাধ্য হন, তাহলে স্বাস্থ্যব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles