দুই ভাইয়ের জীবনযাপনে সন্দেহ, বাড়ির মেঝে খুঁড়তেই মিলল কোটি কোটি রুপি

দুই ভাইয়ের জীবনযাপনে সন্দেহ, বাড়ির মেঝে খুঁড়তেই মিলল কোটি কোটি রুপি - the Bengali Times
সাধারণ চাকরি ছেড়ে গ্রামে ফেরার পর বদলে যায় দুই ভাইয়ের জীবনযাত্রা

সাধারণ চাকরি ছেড়ে গ্রামে ফেরার পর বদলে যায় দুই ভাইয়ের জীবনযাত্রা। অল্প সময়ের মধ্যে কেনেন একের পর এক জমি, কেনেন ট্রাক্টর, শুরু করেন বিলাসী জীবনযাপন। তাঁদের এমন সম্পদ অর্জনের উৎস নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয় গ্রামবাসীর মনে। শেষ পর্যন্ত পুলিশের অভিযানে বাড়ির মেঝে খুঁড়ে মেলে তিনটি ড্রাম। আর সেই ড্রাম খুলতেই বেরিয়ে আসে ৫০০ রুপির নোটে ভর্তি কোটি কোটি রুপি!

ভারতের উত্তর প্রদেশের প্রয়াগরাজের রামনগর গ্রামের বারাইপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (২৮ অক্টোবর) গোপন তথ্যের ভিত্তিতে নবাবগঞ্জ ও সোরাঁও থানার পুলিশের একটি যৌথ দল দুই ভাইয়ের বাড়িতে অভিযান চালায়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন সোরাঁও ও ফুলপুর এলাকার সহকারী পুলিশ কমিশনারেরা।

- Advertisement -

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বাড়িটির মালিক রাকেশ ও রাজেশ যাদব নামের দুই ভাই। তাঁরা আগে ভারতের পুনেতে চাকরি করতেন। ২০২০ সালে করোনাভাইরাস মহামারির সময় হঠাৎ চাকরি ছেড়ে গ্রামে ফিরে আসেন। এরপর অল্প সময়ের মধ্যেই তাঁদের আর্থিক অবস্থার উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটে।

সাধারণ পরিবার থেকে উঠে আসা দুই ভাই গ্রাম ও আশপাশের এলাকায় একের পর এক জমি কিনতে থাকেন। কেনেন একটি ট্রাক্টরও। তাঁদের বিলাসী জীবনযাপন দেখে বিস্মিত হন স্থানীয় বাসিন্দারা। স্বল্প বেতনের চাকরি ছেড়ে ফিরে আসার পর কীভাবে এত সম্পদের মালিক হলেন, তা নিয়ে গ্রামবাসীর মধ্যে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়।

সম্প্রতি দুই ভাইয়ের সঙ্গে স্থানীয়দের বিরোধের জেরে এক ব্যক্তি পুলিশের কাছে তাঁদের বিপুল পরিমাণ অবৈধ অর্থ থাকার অভিযোগ করেন। ওই অভিযোগের ভিত্তিতে বাড়িটিতে অভিযান চালায় পুলিশ।

প্রথমে বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে সন্দেহজনক কিছু পাওয়া যায়নি। পরে নির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে একটি কক্ষের মেঝে পরীক্ষা করে পুলিশ। সেখানে সম্প্রতি মাটি খোঁড়ার চিহ্ন দেখতে পান কর্মকর্তারা। এরপর শ্রমিক এনে খনন শুরু করলে মাটির নিচ থেকে বেরিয়ে আসে তিনটি ড্রাম।

কালো মোটা প্লাস্টিকের কয়েক স্তরে মোড়ানো ড্রামগুলো খুলতেই দেখা যায়, ভেতরে থরে থরে সাজানো ৫০০ রুপির নোটের বান্ডিল। প্রাথমিকভাবে উদ্ধার করা অর্থের পরিমাণ কয়েক কোটি রুপি বলে ধারণা করছে পুলিশ।

গঙ্গানগর জোনের উপপুলিশ কমিশনার সোনম কুমার জানান, বিপুল পরিমাণ অর্থ উদ্ধারের ঘটনায় আনুষ্ঠানিকভাবে গণনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত সঠিক অঙ্ক বলা সম্ভব নয়।

এদিকে পুলিশ বাড়িটি সিলগালা করেছে। অর্থের উৎস অনুসন্ধানে আয়কর বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট আর্থিক তদন্তকারী সংস্থাগুলোকে খবর দেওয়া হয়েছে। কর্মকর্তারা পৌঁছানোর পর অর্থ গণনার কাজ শুরু হবে।

এ ঘটনায় পরিবারের এক সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। কর্মকর্তাদের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে তিনি বারবার বক্তব্য পরিবর্তন করছেন এবং প্রশ্নের সরাসরি উত্তর এড়িয়ে যাচ্ছেন। উদ্ধার করা বিপুল অর্থের প্রকৃত উৎস জানতে তদন্ত চলছে।

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles