
প্রেমের মানুষ খুঁজে দিতে এবার সরাসরি মাঠে নেমেছে সরকার! শুধু সঙ্গী খুঁজে দেওয়াই নয়, পছন্দের মানুষের সঙ্গে প্রথমবার দেখা করার খরচও বহন করবে রাষ্ট্র। শুনতে অবাক লাগলেও এমন অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে এশিয়ার দেশ সিঙ্গাপুর।
তবে এর পেছনে প্রেম করানোর চেয়ে বড় কারণ হলো দেশটির দ্রুত কমে যাওয়া জন্মহার।
সিঙ্গাপুরের বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে কর্মরত ২১ থেকে ৩৫ বছর বয়সী তরুণদের জন্য চালু করা হয়েছে বিশেষ একটি ডেটিং অ্যাপ—‘ফার্স্ট ডেট’। আপাতত শুধু সরকারি কর্মীরাই এই অ্যাপে নিবন্ধন করতে পারবেন। দেশটির সরকারি প্রযুক্তি সংস্থার উদ্যোগে ও সরকারি অর্থায়নে তৈরি হয়েছে অ্যাপটি।
অ্যাপে নিবন্ধনের সময় কর্মীদের জীবনযাপন, মূল্যবোধ, পছন্দ-অপছন্দসহ বিভিন্ন বিষয়ে তথ্য দিতে হবে। এসব তথ্য বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য উপযুক্ত সঙ্গী খুঁজে দেবে অ্যাপটি।
দুই ব্যক্তির প্রোফাইলে সামঞ্জস্য পাওয়া গেলে দুজনের কাছেই বার্তা পাঠানো হবে। এরপর ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তাদের জানাতে হবে, তারা একে অপরের সঙ্গে দেখা করতে আগ্রহী কি না।
প্রথম দেখায় অস্বস্তি কিংবা সংকোচ থাকলেও তা দূর করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে এই উদ্যোগে। শুধু তাই নয়, অ্যাপের মাধ্যমে পরিচয়ের পর সম্ভাব্য সঙ্গীর সঙ্গে প্রথমবার দেখা করতে গেলে সেই সাক্ষাতের খরচও সরকার বহন করবে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
কেন এমন উদ্যোগ?
সিঙ্গাপুরে জন্মহার দ্রুত কমে যাওয়াই সরকারের এই উদ্যোগের মূল কারণ। ২০২৫ সালে দেশটিতে ৩০ হাজারেরও কম শিশুর জন্ম হয়েছে। প্রায় ছয় দশকের মধ্যে এটিই দেশটির সর্বনিম্ন জন্মসংখ্যা বলে পরিসংখ্যানে উঠে এসেছে।
জন্মহার কমতে থাকলে ভবিষ্যতে কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা কমে যাওয়ার পাশাপাশি বয়স্ক জনগোষ্ঠীর অনুপাত বেড়ে যেতে পারে। এর প্রভাব পড়তে পারে দেশের অর্থনীতি ও জনসংখ্যাগত ভারসাম্যে।
এই সংকট মোকাবিলায় তরুণদের মধ্যে সম্পর্ক, বিয়ে এবং সন্তান নেওয়ার আগ্রহ বাড়াতে নানা উদ্যোগ নিচ্ছে সিঙ্গাপুর সরকার। সরকারি কর্মীদের জন্য ‘ফার্স্ট ডেট’ অ্যাপ চালু করাও সেই পরিকল্পনার অংশ।
সাধারণ মানুষের জন্যও আসতে পারে
বর্তমানে উদ্যোগটি শুধু সরকারি কর্মীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ। তবে ভবিষ্যতে সাধারণ নাগরিকদের জন্যও এ ধরনের ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
লক্ষ্য হলো তরুণদের নতুন মানুষের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ তৈরি করা, সম্পর্ক ও বিয়েতে উৎসাহ দেওয়া এবং দীর্ঘমেয়াদে দেশের জন্মহার বাড়াতে সহায়তা করা।
কমে যাওয়া জন্মহার ঠেকাতে অবশ্য সিঙ্গাপুরই একমাত্র দেশ নয়। জাপানের টোকিও প্রশাসনও তরুণদের সম্পর্ক ও বিয়েতে উৎসাহিত করতে নানা উদ্যোগ নিয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়াতেও জন্মহার বাড়াতে বিভিন্ন সময়ে গণবিবাহ ও ঘটকালির আয়োজন করা হয়েছে।
অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ একটি দেশকে তরুণদের জন্য সরকারি অর্থে সঙ্গী খুঁজে দিতে নামতে হওয়া তাই শুধু অভিনব কোনো ঘটনা নয়; বরং বিশ্বজুড়ে দ্রুত বদলে যাওয়া জনসংখ্যাগত বাস্তবতারও একটি বড় উদাহরণ।

