
‘ফিফটি শেডস অব গ্রে’ দিয়ে রাতারাতি বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পেয়েছিলেন ডাকোটা জনসন। ছবিটির সাহসী ও অন্তরঙ্গ দৃশ্য নিয়ে যেমন ব্যাপক আলোচনা হয়েছিল, তেমনি সমালোচনার মুখেও পড়েছিলেন এই হলিউড অভিনেত্রী। তবে সেই বিতর্ককে পেছনে ফেলে এক দশকের বেশি সময় ধরে নিজেকে ভিন্নধর্মী অভিনেত্রী ও প্রযোজক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন তিনি।
১৯৮৯ সালের ৪ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের অস্টিনে জন্ম ডাকোটা মাইয়া জনসনের। বাবা অভিনেতা ডন জনসন, মা অভিনেত্রী মেলানি গ্রিফিথ। তার নানি টিপ্পি হেড্রেনও ছিলেন খ্যাতিমান অভিনেত্রী। ফলে অভিনয় জগতের সঙ্গে তার সম্পর্কটা শৈশব থেকেই।
মাত্র ৯ বছর বয়সে মায়ের অভিনীত ‘ক্রেজি ইন আলাবামা’ ছবিতে অভিনয়ের মাধ্যমে পর্দায় অভিষেক হয় ডাকোটার। পরে ‘দ্য সোশ্যাল নেটওয়ার্ক’, ‘২১ জাম্প স্ট্রিট’সহ বেশ কিছু ছবিতে ছোট চরিত্রে কাজ করেন। তবে বড় সুযোগ আসে ২০১৫ সালে।
ই এল জেমসের বহুল আলোচিত উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত ‘ফিফটি শেডস অব গ্রে’ ছবিতে আনাস্তাসিয়া স্টিল চরিত্রে অভিনয় করেন ডাকোটা। তার বিপরীতে ছিলেন জেমি ডরনান। যৌনতা, নগ্নতা ও প্রাপ্তবয়স্ক সম্পর্কের নানা উপস্থাপনার কারণে মুক্তির আগেই ছবিটি নিয়ে তুমুল আলোচনা তৈরি হয়েছিল।
অন্তরঙ্গ দৃশ্যের কারণে ডাকোটাকেও কম সমালোচনা শুনতে হয়নি। তবে অভিনেত্রী জানিয়েছিলেন, চরিত্রটির প্রয়োজনেই তিনি এসব দৃশ্যে অভিনয় করেছেন। শুটিংয়ের সময় সীমিতসংখ্যক কলাকুশলী উপস্থিত থাকতেন, যাতে অভিনেতাদের ব্যক্তিগত পরিসর বজায় থাকে।
‘ফিফটি শেডস অব গ্রে’ বক্স অফিসে ব্যাপক সাফল্য পায়। প্রায় ৪ কোটি ডলার বাজেটের ছবিটি বিশ্বজুড়ে আয় করে প্রায় ৫৬ কোটি ৯৬ লাখ ডলার। এরপর একই সিরিজের আরও দুটি ছবিতে অভিনয় করেন ডাকোটা। তিনটি ছবিই তাকে হলিউডের পরিচিত বাণিজ্যিক তারকায় পরিণত করে।
প্রথম ছবির জন্য ডাকোটার পারিশ্রমিক ছিল প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। ছবির সাফল্যের পর পরবর্তী দুটি কিস্তিতে তার পারিশ্রমিক সাত অঙ্কে পৌঁছায় বলে দাবি করা হয়।
তবে ‘ফিফটি শেডস’ দিয়েই নিজের পরিচয় আটকে রাখেননি ডাকোটা। ‘আ বিগার স্প্ল্যাশ’, ‘ব্যাড টাইমস অ্যাট দ্য এল রয়্যাল’, ‘সাসপিরিয়া’সহ ভিন্নধর্মী ছবিতে অভিনয় করে নিজের অভিনয়ক্ষমতার অন্য দিক তুলে ধরেন তিনি। বিশেষ করে ‘সাসপিরিয়া’তে তার চরিত্র ছিল আগের পরিচিত রোমান্টিক ভাবমূর্তির সম্পূর্ণ বিপরীত।
অভিনয়ের পাশাপাশি প্রযোজনাতেও নিজের জায়গা তৈরি করেছেন ডাকোটা। টি টাইম পিকচার্স নামে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে ‘চা চা রিয়েল স্মুথ’, ‘অ্যাম আই ওকে?’ ও ‘ড্যাডিও’র মতো প্রকল্পে প্রযোজকের দায়িত্ব পালন করেছেন। ‘ড্যাডিও’তে অভিনয়ের পাশাপাশি প্রযোজনাও করেন তিনি।
অবশ্য সব কাজ সফল হয়নি। ২০২৪ সালের ‘ম্যাডাম ওয়েব’ ছবিটি ডাকোটার ক্যারিয়ারে বড় ধাক্কা হয়ে আসে। ছবিটি সমালোচকদের কাছ থেকে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া পায় এবং বক্স অফিসেও প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি।
ব্যক্তিজীবন নিয়েও নিয়মিত আলোচনায় থাকেন ডাকোটা। সম্প্রতি এমজিকে’র সঙ্গে তাকে দেখা যাওয়ার পর নতুন করে প্রেমের গুঞ্জন ছড়িয়েছে। তবে সম্পর্কের বিষয়টি নিশ্চিত করেননি তিনি। বরং ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে গুঞ্জনে প্রতিক্রিয়া না দেওয়ার অবস্থানই বজায় রেখেছেন।
বর্তমানে কোলিন হুভারের জনপ্রিয় উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত ‘ভেরিটি’ নিয়েও আলোচনায় রয়েছেন ডাকোটা। ছবিটিতে তার সঙ্গে অভিনয় করেছেন অ্যান হ্যাথাওয়ে ও জশ হার্টনেট।
সেলিব্রিটি নেট ওয়ার্থের হিসাবে ডাকোটা জনসনের আনুমানিক সম্পদের পরিমাণ ১ কোটি ৪০ লাখ ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৬৫ কোটি টাকা। অভিনয়ের পাশাপাশি প্রযোজনা, সিনেমার পারিশ্রমিক ও বিভিন্ন বাণিজ্যিক কাজ থেকেই গড়ে উঠেছে তার এই সম্পদ।
‘ফিফটি শেডস’ তাকে পরিচিতি দিয়েছিল ঠিকই, কিন্তু সেই পরিচয়ের মধ্যে আটকে থাকেননি ডাকোটা। বিতর্ক, সমালোচনা ও ব্যর্থতা পেরিয়ে ভিন্ন চরিত্রে নিজেকে বারবার নতুন করে তুলে ধরেছেন তিনি। আর সেই কারণেই আজও হলিউডে তার নামটি কেবল সাহসী দৃশ্যের সঙ্গে নয়, নিজের ক্যারিয়ার নিজের মতো করে গড়ে তোলার গল্পের সঙ্গেও জড়িয়ে আছে।

