পরকীয়া প্রেমিক ও তার বন্ধুকে ডেকে স্বামীকে হত্যা, পরিবার জানতো হৃদরোগে মৃত্যু

পরকীয়া প্রেমিক ও তার বন্ধুকে ডেকে স্বামীকে হত্যা, পরিবার জানতো হৃদরোগে মৃত্যু - the Bengali Times
হৃদরোগে মৃত্যু বলে দাফন মুঠোফোনের চ্যাটে বেরিয়ে এলো স্বামী হত্যার রহস্য

স্বামীর মৃত্যু হয়েছিল হৃদরোগে—পরিবারকে এমনটাই জানিয়েছিলেন স্ত্রী। স্বজনরাও কোনো সন্দেহ না করে মরদেহ দাফন করেন। কিন্তু দাফনের কয়েক দিন পর মৃতের মুঠোফোনে পাওয়া একটি চ্যাট পুরো ঘটনাকে ঘুরিয়ে দেয়। বেরিয়ে আসে পরকীয়া সম্পর্কের জেরে স্বামীকে হত্যার চাঞ্চল্যকর তথ্য।

ভারতের উত্তর প্রদেশের মিরাটের লোহিয়া নগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত তালিবের বয়স ৩০ বছর। চার বছর আগে বিউটিশিয়ান ইলমার সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তাদের তিন বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।

- Advertisement -

ঘটনার দিন ইলমা তার বড় ভাইকে জানান, কাজ থেকে ফেরার পর হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন তালিব। কিছুক্ষণের মধ্যেই বিছানায় ঢলে পড়ে তার মৃত্যু হয়। হৃদরোগে মৃত্যু হয়েছে মনে করে পরিবারের সদস্যরা ধর্মীয় রীতি মেনে তার দাফন সম্পন্ন করেন।

তবে কয়েক দিন পর পরিবারের সন্দেহ হয়। গত ১ অক্টোবর তালিবের চাচাতো ভাই রইস ইলমার বাড়িতে গিয়ে তার মুঠোফোন খুঁজতে থাকেন। একপর্যায়ে কাপড়ের স্তূপের নিচে লুকানো ফোনটি উদ্ধার করেন তিনি।

ফোনের বার্তা খতিয়ে দেখতে গিয়ে আমান নামের এক যুবকের সঙ্গে তালিবের কথোপকথন নজরে আসে। সেখানে আমানকে স্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ না করতে সতর্ক করেছিলেন তালিব। বিষয়টি সামনে আসার পর পরিবারের সদস্যরা ইলমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে একপর্যায়ে তিনি হত্যার কথা স্বীকার করেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।

ইলমার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, পারিবারিক বিরোধের জেরে গত ২৮ সেপ্টেম্বর তালিবের সঙ্গে তার ঝগড়া হয়। এরপর তিনি পরকীয়া প্রেমিক আমানকে বাড়িতে ডেকে আনেন। আমান এক বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে সেখানে পৌঁছানোর পর তারা তালিবকে মারধর করেন। একপর্যায়ে আমান ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে তাকে হত্যা করেন বলে অভিযোগ।

অভিযোগ রয়েছে, হত্যার পর ঘটনাটি স্বাভাবিক মৃত্যু হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এমনকি তালিবের মৃত্যুর পর ইলমাকে বিয়ের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলেন আমান।

পুলিশ জানিয়েছে, আদালতের নির্দেশে কবর থেকে তালিবের মরদেহ উত্তোলন করে ময়নাতদন্ত করা হবে। ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক প্রতিবেদনের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযুক্ত স্ত্রীকে পুলিশি নজরদারিতে রাখা হয়েছে।

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles