
ইসরায়েলগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি বিমানে ককপিটে হামলা চালিয়ে বিমান বিধ্বস্তের চেষ্টা করা সহকারী পাইলটকে ঘিরে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের অনুসন্ধান অনুযায়ী, ওই সহকারী পাইলটের নাম হামাম আল-হামামি। উগ্র মতাদর্শে জড়িয়ে পড়ার সন্দেহে ২০২৫ সালে ওমান এয়ারের পাইলট প্রশিক্ষণ থেকেও তাকে বাদ দেওয়া হয়েছিল বলে জানা গেছে।
বিভিন্ন সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ওমানি বাবা ও সিরীয় মায়ের সন্তান হামাম প্রায় সাত বছর ওমান এয়ারে কাজ করেন। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে সেখান থেকে বাদ পড়ার পর একই বছরের জুনে রয়্যাল এয়ার মারোকে যোগ দেন। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে সেখান থেকেও চলে যান। পরে ফ্লাইদুবাইয়ে যোগ দেন তিনি।
ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পর তার মুছে ফেলা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের হিসাব থেকে দুটি বিতর্কিত পোস্টের সন্ধান পাওয়া যায়। এর একটি ভিডিওতে বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্সের ককপিট থেকে দুবাই বিমানবন্দরে ইসরায়েলি বিমান ধারণ করতে দেখা যায় তাকে। ভিডিওর শেষাংশে আল-কায়েদার সাবেক নেতা আয়মান আল-জাওয়াহিরি ও আরেক আল-কায়েদা সদস্যের ছবি ব্যবহার করা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আরেকটি পোস্টে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় তৈরি একটি ছবিতে মক্কা, মদিনা ও জেরুজালেমের পবিত্র স্থানগুলোকে আলোর রেখায় যুক্ত করা হয়। এর সঙ্গে ছিল মৃত্যুভয় উপেক্ষা করে মর্যাদার লড়াইয়ের কথা বলা একটি ধর্মীয় সংগীত ও কবিতা।
তার মুছে ফেলা পুরোনো বার্তাগুলো পর্যালোচনা করে চরমপন্থী ও নারীবিদ্বেষী মনোভাবের ইঙ্গিত পাওয়ার দাবি করা হয়েছে। একটি পোস্টে স্ত্রীকে নিকাব পরা এবং বিয়ের পর চাকরি ছেড়ে দেওয়ার শর্তের কথা লিখেছিলেন তিনি। নারী-পুরুষের একসঙ্গে কাজের পরিবেশ নিয়েও নেতিবাচক মন্তব্য করেছিলেন বলে জানা গেছে।
এসব তথ্য সামনে আসার পর প্রশ্ন উঠেছে, এমন মতাদর্শের অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও কীভাবে তিনি একটি আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থায় পাইলটের দায়িত্ব পেলেন। বিশেষ করে ইসরায়েলগামী একটি বিমানের ককপিটে তার উপস্থিতি নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েও নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।
ঘটনাটি নিয়ে ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত করছে। একই সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাতের কর্তৃপক্ষও সম্ভাব্য সন্ত্রাসী যোগাযোগ ও পূর্বপরিকল্পনা খতিয়ে দেখছে। সৌদি আরবে আটক হামামকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তার উদ্দেশ্য, সম্ভাব্য সহযোগী কিংবা কোনো সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি।

