
ছেলের ভিডিও গেমের আসক্তি ছাড়াতে একসময় ইন্টারনেট ক্যাফেতে ছুটে বেড়াতেন মা। সেই ছেলেকেই একদিন শিক্ষক বানিয়ে নিজেই হাতে তুলে নিলেন গেমের নিয়ন্ত্রণ। বয়স তখন ৬০। শুরুতে গেমের চরিত্রকে সোজা হাঁটাতেই হিমশিম খাওয়া সেই নারী এখন অনলাইন গেমিং জগতের পরিচিত মুখ।
দক্ষিণ চীনের গুয়াংডং প্রদেশের মেইঝৌ শহরের ঝোং জুয়ানজুয়ান এখন সামাজিক মাধ্যমে পরিচিত ‘আন্টি জুয়ান’ নামে। প্রতিদিন তার গেম খেলার সরাসরি সম্প্রচার দেখতে জড়ো হন হাজারো দর্শক।
ঝোংয়ের ছেলে সোদে মাধ্যমিক স্কুলে পড়ার সময় ভিডিও গেমে আসক্ত হয়ে পড়েছিলেন। গেমের নেশায় পড়াশোনায়ও ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছিল। ছেলেকে ফিরিয়ে আনতে তখন প্রায়ই স্থানীয় ইন্টারনেট ক্যাফেতে ছুটে যেতেন ঝোং।
প্রায় দুই দশক পর পরিস্থিতি বদলে যায়। অবসর নেওয়ার পরও ছেলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা গেম খেলতে থাকলে গেমের প্রতি তরুণদের এত আগ্রহের কারণ বুঝতে নিজেই গেম খেলার সিদ্ধান্ত নেন ঝোং।
শুরুটা অবশ্য মোটেও সহজ ছিল না। বয়সের কারণে চোখ ও হাতের সমন্বয়ে সমস্যা হচ্ছিল। গেমের চরিত্রকে সোজা হাঁটানো, দেয়াল এড়িয়ে চলা কিংবা সিঁড়ি দিয়ে ওঠার মতো সাধারণ কাজও তার কাছে কঠিন হয়ে উঠেছিল।
তবে হাল ছাড়েননি ঝোং। ছেলের কাছ থেকে নিয়ম শিখে নিয়মিত অনুশীলন করতে থাকেন। ২০২২ সাল থেকে সামাজিক মাধ্যমে নিজের গেম খেলার দৃশ্য সরাসরি সম্প্রচার শুরু করেন। সাধারণ কম্পিউটার ও সরঞ্জাম ব্যবহার করেও তার দক্ষতা নজর কাড়ে দর্শকদের।
এ পর্যন্ত আট হাজার ঘণ্টারও বেশি সময় গেম খেলেছেন এই প্রবীণ নারী। কৌশলভিত্তিক গুলির খেলাই তার সবচেয়ে পছন্দের। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও পরিচিতি পান তিনি। জনপ্রিয় ‘কাউন্টার-স্ট্রাইক: গ্লোবাল অফেন্সিভ’-এর একটি বিশেষ প্রদর্শনী ম্যাচে খেলার আমন্ত্রণ পান ঝোং।
যে মা একসময় ছেলের গেমের নেশা নিয়ে চিন্তিত ছিলেন, তিনিই এখন হাজারো তরুণের প্রিয় গেমার। বয়স যে ইচ্ছাশক্তির পথে বাধা নয়—নিজের গল্প দিয়েই যেন তার প্রমাণ হয়ে উঠেছেন ৬০ বছরের ‘আন্টি জুয়ান’।

