
একের পর এক ঘটনায় জীবন যখন অস্থির ,বিষন্ন ,ক্লান্তিতে ভরপুর তখন মনে হচ্ছিল খোলা আকাশের নীচে দাঁড়িয়ে প্রান ভরে নিশ্বাস নিতে।দুহাত মেলে আকাশের দিকে তাঁকিয়ে বলতে ‘হে ইশ্বর আমার ক্লান্তি দুর করো,আলোয়- আলোয় ভরিয়ে দাও আমার হৃদয় হোক বা সেটা ক্ষনিকের। ঈশ্বর চোখ মেলে তাঁকালেন আমার দিকে ,মন্জুর করলেন আমার প্রার্থনা।
দিনটি ছিলো ২০শে সেপ্টেম্বর রবিবার।
অনেকেই এক সাথে মিলিত হয়েছিলাম ৫৮১ ডিয়ার ভেলি ড্রাইভের বাড়ির পেছনের খুব সুন্দর আংগীনায়। দিনটি ছিলো রোদ মাখানো ঝলমলে একটি দিন। না শীত না গরম একবারে নাতিশীতোষ্ণ আনন্দে ভরপুর একটি দিন।সাথে ছিলো হালকা হাওয়া ,পাতা ঝরার দিন কাছাকাছি এসে গেছে তাই আংগীনার বড় গাছ গুলো থেকে ঝরা পাতায় ভরে যাচ্ছিল আংগীনাটি এযেনো ছিলো ভালো লাগার বাড়তি পাওনা।
আমাদের এই মনোরম দিনে এক সাথে হওয়ার উপলক্ষ ছিলো মাহফুজুল হকের প্রথম কবিতার বই”মন খোলা দিনের কবিতা ” বইটির প্রকাশিত হওয়ার আনন্দে আনন্দ উচ্ছ্বাস করা।বইটির প্রচ্ছদ অসাধারন সুন্দর ,কবির নিজের মুখের ছবি দিয়ে তৈরী করা হয়েছে প্রচ্ছদটি।উন্নত মানের কাগজে ছাপানো হয়েছে বইটি। মনোমুগ্ধকর সহজ ভাষায় লিখা মোট ২৬ টি কবিতা দিয়ে কবি মাহফুজুল হক বইটি প্রকাশ করেছেন। প্রতিটি কবিতার নীচে দেয়া হয়েছে কবিতার সাথে মিলিয়ে অংকন চিত্র। কবি মাহফুজুল হকের পোশাকি নামটির সাথে আরেকটি নাম জড়িত আছে ,সেটি হলো “পাপুল “।আমাদের কাছে কবি পাপুল নামেই পরিচিত এবং সেটাই আমাদের কাছে ভালোলাগার নাম।
অনুষ্ঠানের সুন্দর ব্যনারটি বানিয়েছেন মুনীর বাবু।ব্যনারের উপরে লেখা ছিলো কবির কবিতার শ্লোগান,”ভালোবাসা সেতো দেবার বাসনা নেই তাতে কোন ঋন একে অপরের সুখের মাঝে বেঁচে থাকে চিরকাল “। অসাধারন শ্লোগান যা কিনা ব্যনারটি আরো আআকর্ষণীয় করে তুলেছিলো।
কবি,লেখক,নাট্যকার,গায়ক,বাচিক শিল্পী সবার উপস্থিতি ও পরিবেশনায় দিনটি হয়ে উঠেছিলো মুখরিত। কবি মাহফুজুল হক ও তার স্ত্রী কামরুন নাহার বীথির আতিথীয়েতা ছিলো মনে রাখার মতো। বিথীর নিজের হাতে বানানো বিভিন্ন রকমের মজাদার খাবার আমাদের মুগ্ধ করেছে।রান্নায় কবির ও নাকি সসহযোগিতা ছিলো বলে কবি দাবি করেন।
কবির জন্য অভিনন্দন ,শুভেচ্ছা,ভালোবাসা আমাদের সকলের। আমাদের বিশ্বাস কবি এমন আরো বেশ কিছু বই প্রকাশ করে আমাদের মুগ্ধ করবেন। পরিশেষে বলতে হবে পাপুল ও বিথীর মতো হাস্যরসে ভরপুর আন্তরিকতায় ভরা জুটিটি সবাইকে মুগ্ধ করতে বাধ্য।

