
পড়ার জন্য আমার রেফারেন্স বইগুলো যাঁরা নিয়েছেন, কিন্তু এখনো ফেরত দেননি, তাঁদের অনুরোধ করছি একবার দায়িত্ব নিয়ে খুঁজে দেখবেন। বইগুলো পাওয়া গেলে আমাকে ফোন দিলেই হবে। আমি গিয়ে নিয়ে আসতে পারি।
এখন অনেকের সঙ্গে তেমন নিয়মিত দেখা হয় না, কিংবা ফোনেও কথা হয় না। কিছু ক্ষেত্রে সম্পর্কের টানেও ভাটা পড়েছে। তাই এই পন্থা বেছে নিলাম।
গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ, কবিতা বা নাটকের বই যাঁরা নিয়ে রেখেছেন, সেগুলো চাইছি না। রেখে দিন, অসুবিধা নেই। কিন্তু বাংলাদেশ ও মুক্তিযুদ্ধের রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করি, এমন কিছু বই খুঁজে পাচ্ছি না।
মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসভিত্তিক উপন্যাস ‘মিস্টার প্রেসিডেন্ট’ লিখতে গিয়ে আমাকে কয়েক বছরের প্রস্তুতি নিতে হয়েছিল। সেই প্রস্তুতির সময় সংগৃহীত বইগুলোর মধ্যে উপন্যাসে সূত্র হিসেবে যেসব বই ব্যবহার করেছি, সেগুলোর ছবি তুলে একটি বিশেষ স্থানে জমা দিতে হবে। তাই বিষয়টি জরুরি।
খুঁজতে গিয়ে দেখছি, প্রায় ৬–৭টি বই পাওয়া যাচ্ছে না। নিচের ছবিতে যে বইগুলো দেখা যাচ্ছে, শুধু এগুলোই এখন আমার কাছে অবশিষ্ট রয়েছে। এর কোনো কপি আপনার কাছে থাকলে ধরে নেবেন সেটি ডুপ্লিকেট সেটাও ফেরত দিতে হবে না। কিন্তু বাকি বইগুলো আমার প্রয়োজন।
এমন নয় যে দোকান থেকে কিনে বা অন্য কারও কাছ থেকে বই নিয়ে ছবি তুলে পাঠালেও চলবে। আমার দরকার আমার নিজের বই, কারণ বইগুলোর ভেতরে আমার লেখা বিশেষ নোট রয়েছে।
সবার সঙ্গে সম্পর্ক গড়িয়ে আবার কবে আগের জায়গায় যাবে, সে পর্যন্ত অপেক্ষা করা সম্ভব নয়। হয়তো হারানো বই ফেরত পেলে মন গলে যেতে পারে। সম্পর্ক বহমান। বিষয়টা ভেবে দেখবেন।

অন্য এক মোনালিসা
আমার বুকের মাপ আর জামার মাপ এক নয়। সে কারণে মাঝে মাঝে ঢিলেঢালা দেখা যায় ব্র্যান্ডের নামি-দামি শার্ট। কথাটি ভেঙেই বলি। বুকটা আসলে অন্যের দখলে। জামার নিচে আছে অন্য তাঁতশিল্প। পাঁচ ফুট তিন ইঞ্চির একটি ছায়া অনেকদিন থেকে সেটে আছে সেখানে। মানুষটা এমন সুবিধাজনক স্থান করে নিয়েছে, যেন এই বুকটা তার খোলা ছাদ। আমি শুধু ছাতি ধরে রাখি, বলি, চিন্তার কিছু নেই। থাকো অন্তর-বাহিরে। যেমন থাকে যমজ মানুষ। জোড়া হৃদপিণ্ড। একজনের বুকে অন্য কারও লুকিয়ে থাকা গুহা। আমি এখন তাই। কাজেই সম্পূর্ণ আমি নেই সেই কবে থেকে।
লোকচক্ষু দেখুক ঢিলেঢালা। তবুও না জানুক কীভাবে চলছে আমাদের কথার হাট। শ্রাবণধারা, খিলখিল হাসি। সবই জামার নিচে। যেমন ফরাসি ল্যুভর মিউজিয়ামের বুলেটপ্রুফ কাচের পেছনে সুরক্ষিত আছে একটি চিত্রশিল্প। আদতে তিনি আছেন মোনালিসা থেকে আরেকটুকু বিলাসী হয়ে। নড়ে-চড়ে যান শপিং প্লাজা, রেস্তোরাঁ কিংবা কখনো নাগরদোলায় চড়ে বাতাস স্পর্শ করে পেতে চান আর্দ্রতা। আমি শুধু দিব্যি বয়ে চলি দুজনের ভার। এমন জীবন কজন পায়?

