
কানাডায় আগস্ট মাসে মূল্যস্ফীতির হার অপরিবর্তিত রয়েছে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত মাসে দেশটির বার্ষিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৩ শতাংশ। অর্থনীতিবিদদের পূর্বাভাসের সঙ্গেও এই হার সামঞ্জস্যপূর্ণ। ফলে আপাতত সুদের হার বাড়ানোর জন্য ব্যাংক অব কানাডার ওপর চাপ কিছুটা কমেছে বলেই মনে করছেন অর্থনীতিবিদদের একাংশ। তবে জ্বালানির চড়া দাম আগামী দিনে সামগ্রিক মূল্যস্ফীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।
স্ট্যাটিস্টিকস কানাডা সোমবার প্রকাশিত ভোক্তা মূল্যসূচকের প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে। প্রতিবেদনে দেখা গেছে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাব এখনও জ্বালানির বাজারে স্পষ্ট। আগস্টে কানাডায় গ্যাসোলিনের দাম গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২২ দশমিক ৮ শতাংশ বেশি ছিল। যদিও জুলাইয়ে এই বৃদ্ধির হার ছিল আরও বেশি ২৫ দশমিক ৭ শতাংশ।
বিএমওর কানাডিয়ান রেটসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সামষ্টিক অর্থনীতি বিষয়ক কৌশলী বেঞ্জামিন রেইটজিসের মতে, মূল্যস্ফীতির ৩ শতাংশে স্থির থাকা অর্থনীতিবিদদের প্রত্যাশার মধ্যেই রয়েছে। তাঁর বক্তব্য, সর্বশেষ পরিসংখ্যানে এমন কোনও ইঙ্গিত নেই যে মূল্যস্ফীতির চাপে ব্যাংক অব কানাডাকে অবিলম্বে সুদের হার বাড়ানোর পথে যেতে হবে। তবে জ্বালানির দাম নিয়ে উদ্বেগ থেকেই যাচ্ছে। বর্তমানে এর প্রভাব সামগ্রিক মূল্যস্ফীতিতে সীমিত থাকলেও ভবিষ্যতে জ্বালানির উচ্চমূল্য অন্যান্য পণ্য ও পরিষেবার খরচ বাড়িয়ে দিতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।
গ্যাসোলিনের দাম বাদ দিলে আগস্টে কানাডার ভোক্তা মূল্য বেড়েছে ২ দশমিক ৪ শতাংশ। অর্থাৎ সামগ্রিক মূল্যস্ফীতির তুলনায় জ্বালানি খাতের মূল্যবৃদ্ধি এখনও উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছে। তবে সব খাতে একই প্রবণতা দেখা যায়নি। বাড়িভাড়া, ভ্রমণ এবং বিমানযাত্রার খরচ মূল্যস্ফীতির ওপর চাপ তৈরি করেছে। আগস্টে বাড়িভাড়া গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়েছে। জুলাইয়ের তুলনায়ও ভাড়ার খরচ ২ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি ছিল। ভ্রমণের ক্ষেত্রেও কানাডীয়দের খরচ বেড়েছে। জ্বালানি সারচার্জ বৃদ্ধির কারণে বিমান ভ্রমণের খরচে তার প্রভাব পড়েছে। একই সময়ে ২০২৫ সালে কানাডীয়দের যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণ কমে যাওয়ায় বিভিন্ন এয়ারলাইনকে ফ্লাইট পরিচালনায় পরিবর্তন আনতে হয়েছিল।
অন্যদিকে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের বাজারে তুলনামূলক স্বস্তির ছবি দেখা গেছে। আগস্টে খাদ্যের দাম গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়েছে। ২০২৪ সালের জুলাইয়ের পর এই প্রথম খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির হার সামগ্রিক মূল্যস্ফীতির নিচে রয়েছে। এ ক্ষেত্রে দুগ্ধজাত পণ্যের দাম কম হারে বাড়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। আগস্টে দুধ, পনির ও দইয়ের মতো দুগ্ধজাত পণ্যের দাম বছরে বেড়েছে মাত্র ০ দশমিক ৭ শতাংশ। জুলাইয়ে এই বৃদ্ধির হার ছিল ৩ দশমিক ১ শতাংশ।
আগস্টে পোশাকের বাজারেও ক্রেতাদের জন্য কিছুটা স্বস্তি ছিল। সামগ্রিকভাবে পোশাকের দাম গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১ দশমিক ১ শতাংশ কমেছে। পুরুষদের পোশাকের দাম কমেছে ২ দশমিক ৩ শতাংশ। শিশুদের পোশাকের দামও ১ দশমিক ৯ শতাংশ কমেছে। এই দুই ক্ষেত্রের মূল্যহ্রাস সামগ্রিক পোশাকের বাজারে দামের পতনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
প্রাদেশিক হিসাবেও মূল্যস্ফীতির হারে পার্থক্য দেখা গেছে। আগস্টে কানাডার আটলান্টিক প্রদেশগুলোতে মূল্যস্ফীতির হার তুলনামূলকভাবে বেশি ছিল। এই অঞ্চলের মধ্যে নোভা স্কশিয়ায় মূল্যস্ফীতি সবচেয়ে বেশি ছিল। এরপর ছিল প্রিন্স এডওয়ার্ড আইল্যান্ড এবং নিউফাউন্ডল্যান্ড অ্যান্ড ল্যাব্রাডর।
সব মিলিয়ে, আগস্টের পরিসংখ্যান কানাডার মূল্যস্ফীতির ক্ষেত্রে আপাতত স্থিতিশীলতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে গ্যাসোলিন ও অন্যান্য জ্বালানির দাম কতদিন উচ্চস্তরে থাকে, সেটিই আগামী মাসগুলোর মূল্যস্ফীতির গতিপথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে জ্বালানির খরচ পরিবহণ ও অন্যান্য পরিষেবার দামে ছড়িয়ে পড়লে সামগ্রিক মূল্যস্ফীতির ওপর নতুন করে চাপ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে।

