‘সেরা মোটা’ পথকুকুর প্রতিযোগিতা!

‘সেরা মোটা’ পথকুকুর প্রতিযোগিতা! - the Bengali Times
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হওয়া ব্যতিক্রমী এক প্রতিযোগিতায় বেওয়ারিশ কুকুরদের নিয়ে চলছে ভোটযুদ্ধ

কে হবে দিল্লির সবচেয়ে মোটা পথকুকুর? প্রশ্নটি শুনতে অদ্ভুত লাগলেও এ নিয়েই এখন সরগরম ভারতের রাজধানী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হওয়া ব্যতিক্রমী এক প্রতিযোগিতায় বেওয়ারিশ কুকুরদের নিয়ে চলছে ভোটযুদ্ধ। পছন্দের কুকুরকে জেতাতে কেউ বানাচ্ছেন পোস্টার, কেউ ছড়াচ্ছেন ভিডিও, আবার কেউ তৈরি করছেন মজার মিম।

‘ফ্যাট ডগস অব দিল্লি’ নামের একটি ইনস্টাগ্রাম পেজ থেকে নিছক মজা ও মানুষের মধ্যে সুন্দর সংযোগ তৈরির উদ্দেশ্যে প্রতিযোগিতাটি শুরু হয়। কিন্তু অল্প সময়েই তা ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। কয়েক হাজার মানুষ এতে অংশ নেন।

- Advertisement -

প্রতিযোগিতার শুরুতে ৬৪টি কুকুরকে প্রার্থী করা হয়। গত ২৪ সেপ্টেম্বর শুরু হয় ভোটাভুটি। নকআউট পদ্ধতিতে একের পর এক ধাপ পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত আটটি কুকুর চূড়ান্ত পর্বে জায়গা করে নেয়। বুধবার চূড়ান্ত ফল ঘোষণার কথা রয়েছে।

প্রতিযোগীদের নামেও রয়েছে অভিনবত্ব। ‘দহি ভাল্লি’, ‘মহাকুট্টেশ্বর’, ‘গুগু’, ‘রামবাবু’ ও ‘কুট্টা সিং’—এমন নানা নামের কুকুর নিয়ে চলছে ভোটের লড়াই।

চূড়ান্ত প্রতিযোগীদের মধ্যে অন্যতম আলোচিত ‘গুগু’। সংকর জাতের এই কুকুরটির ওজন প্রায় ৪৬ কেজি। বর্তমানে সে একটি পশু সেবা কেন্দ্রে রয়েছে। তবে অতিরিক্ত ওজনের কারণে তার স্বাস্থ্যঝুঁকি থাকায় ওজন কমানোর চেষ্টা চলছে।

প্রতিযোগিতার অধিকাংশ কুকুরেরই নির্দিষ্ট কোনো মালিক নেই। দিল্লির বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা, দোকানদার ও পথচারীরাই এসব কুকুরকে খাবার দেন, দেখাশোনা করেন এবং নাম দিয়েছেন।

প্রতিযোগিতা চলাকালে দুটি কুকুরের মৃত্যু হলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনুসারীরা তাদের প্রতি শোক ও শ্রদ্ধা জানান। এমনকি দিল্লির বাইরেও ছড়িয়ে পড়ে এই আয়োজনের উত্তাপ। কলকাতা ও কেরালার মতো দূরবর্তী এলাকার মানুষও পছন্দের কুকুরের পক্ষে প্রচারণায় অংশ নেন।

আয়োজকও এতটা সাড়া পাবেন বলে ভাবেননি। তার ভাষ্য, নিছক আনন্দের জন্য শুরু হওয়া আয়োজনটি এখন একটি বড় সামাজিক যোগাযোগে পরিণত হয়েছে।

তবে জনপ্রিয়তার পাশাপাশি বিতর্কও তৈরি হয়েছে। সমালোচকদের একাংশের প্রশ্ন, কুকুরের স্থূলতাকে এভাবে উদ্‌যাপন করা হলে প্রাণীর স্বাস্থ্যের বিষয়ে ভুল বার্তা যেতে পারে। অতিরিক্ত ওজন কুকুরের জন্য নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে এবং আয়ু কমিয়ে দিতে পারে বলেও তারা সতর্ক করেছেন।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে অবশ্য বলা হয়েছে, প্রতিযোগিতার জনপ্রিয়তাকে এখন প্রাণীকল্যাণে কাজে লাগানো হচ্ছে। বিভিন্ন প্রাণী কল্যাণ সংস্থা ও অসহায় প্রাণীর জন্য অর্থ সংগ্রহের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

এর মধ্যেই দিল্লিতে পথকুকুর ব্যবস্থাপনা নিয়েও চলছে বিতর্ক। পৌরসভার তথ্য অনুযায়ী, দিল্লি ও আশপাশের এলাকায় আনুমানিক ১০ লাখ পথকুকুর রয়েছে। কোথাও এসব কুকুরকে পাড়ার প্রাণী হিসেবে ভালোবাসা হয়, আবার কোথাও কুকুরের কামড় ও জলাতঙ্কের আশঙ্কায় মানুষের মধ্যে রয়েছে আতঙ্ক।

সব বিতর্ক ছাপিয়ে আয়োজনে অংশ নেওয়া অনেকের বক্তব্য—এই প্রতিযোগিতা অন্তত দিল্লির পথকুকুরগুলোর প্রতি মানুষের মমতা, সহমর্মিতা ও দায়িত্ববোধের একটি ভিন্ন চিত্র সামনে এনেছে।

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles