
দীর্ঘ সময় কাজ এবং লন্ডনের ব্যস্ত জীবনযাত্রায় একসময় হাঁপিয়ে উঠেছিলেন লিজ। নিয়মিত রাত ৯টা বা ১০টায় বাড়ি ফিরতে হতো তাকে। এমন জীবন পরিবার গঠনের জন্য টেকসই নয় বলে মনে হতে থাকে। অতিরিক্ত কাজের চাপে মানসিক অবসাদে ভোগার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছিল তার মধ্যে।
এরই মধ্যে স্বামীর কুকুর হাঁটানো ও কুকুর দেখাশোনার ব্যবসা দেখে নতুনভাবে অনুপ্রাণিত হন লিজ। স্বামী নিজের কাজ উপভোগ করে করতে পারলে তিনি কেন ছুটির দিনেও কাজের চিন্তায় থাকবেন—এমন ভাবনা থেকেই পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেন।
নিজের ব্যবসা দাঁড় করানোর শুরুতে খরচ চালাতে স্থানীয় একটি পাবে চাকরি নেন লিজ। পাশাপাশি কুকুর হাঁটানোর কাজ শুরু করেন। মাত্র এক বছরের মধ্যেই তার ব্যবসা বড় আকার নেয়।
বর্তমানে প্রতিদিন চারটি দলে ভাগ করে প্রায় ২০ থেকে ৩০টি কুকুর হাঁটান তিনি। প্রতিটি কুকুরের জন্য ঘণ্টায় ১৪ পাউন্ড করে নেন। এতে প্রতিদিন তার আয় হয় প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০ পাউন্ড।
অনেকেই প্রশ্ন করেন, আইন বিষয়ে পড়াশোনা করে শেষ পর্যন্ত কেন কুকুর হাঁটানোর পেশা বেছে নিলেন লিজ। এর জবাবে তিনি বলেন, এই পেশায় আয় কম—এমন ধারণা ঠিক নয়। করপোরেট চাকরির তুলনায় এখন অর্ধেক সময় কাজ করেই তিনি বেশি আয় করছেন। আইন পড়ার সময়কে তিনি কখনোই বৃথা মনে করেন না, কারণ সেই সময়ের অভিজ্ঞতা এখনো বিভিন্ন কাজে কাজে লাগছে।
তবে শুধু অর্থ উপার্জনের জন্য এই পেশায় আসা উচিত নয় বলে মনে করেন লিজ। তার মতে, কুকুর ও প্রকৃতির প্রতি গভীর ভালোবাসা না থাকলে এই কাজ উপভোগ করা কঠিন।
লিজ জানান, তার আইন বিষয়ে ডিগ্রি ভবিষ্যতেও তার সঙ্গে থাকবে। প্রয়োজন হলে যেকোনো সময় আইন পেশায় ফিরতে পারবেন। তবে বর্তমান কাজকে এতটাই ভালোবাসেন যে আপাতত সেই পেশায় ফেরার প্রয়োজন দেখছেন না।

