
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান বাণিজ্য আলোচনায় বড় ধরনের ছাড় দেওয়ার কথা ভাবছে কানাডা। এর অংশ হিসেবে বিভিন্ন প্রদেশে মার্কিন অ্যালকোহল বিক্রির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। মূল লক্ষ্য, আগামী দুই সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে কার্যকর হতে যাওয়া নতুন দফার মার্কিন শুল্ক থেকে কানাডার পণ্যকে রক্ষা করা। আলোচনার সঙ্গে যুক্ত একটি সূত্র জানিয়েছে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে দর-কষাকষিতে এই প্রস্তাবটি গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে বিষয়টি প্রকাশ্যে বলার অনুমতি না থাকায় সূত্রটির পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।
কানাডার বিপুল পরিমাণ পণ্যের ওপর নতুন করে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সম্ভাব্য এই শুল্কের আওতায় হকি স্টিক, ওয়াইন, সিমেন্টসহ বিভিন্ন কানাডীয় পণ্য রয়েছে। আগামী ৯ আগস্ট থেকে বর্ধিত শুল্ক কার্যকর হওয়ার কথা। তবে কানাডা-যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো বাণিজ্য চুক্তির আওতাভুক্ত পণ্য এই নতুন শুল্ক থেকে বাদ থাকবে বলে জানিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।
দর-কষাকষির সঙ্গে যুক্ত সূত্রটির দাবি, কানাডা যদি যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজ রপ্তানি সীমিত রাখার অবস্থান থেকে সরে আসে এবং মার্কিন অ্যালকোহলের ওপর প্রাদেশিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়, তাহলে ওয়াশিংটন নতুন শুল্ক প্রত্যাহার করতে পারে। পাশাপাশি কানাডার লাম্বার, অ্যালুমিনিয়াম ও ইস্পাতের ওপর আরোপিত শুল্ক কমানোর বিষয়েও আলোচনা হতে পারে।
বর্তমানে আলবার্টা ও সাসকেচুয়ান ছাড়া কানাডার বাকি সব প্রদেশে মার্কিন অ্যালকোহলের ওপর কোনো না কোনো ধরনের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। ট্রাম্প ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেওয়ার পর কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি অবশ্য স্পষ্ট করেছিলেন, মার্কিন অ্যালকোহলের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা মূলত প্রাদেশিক সরকারগুলোর হাতে। এদিকে অন্টারিওর প্রিমিয়ার ডাগ ফোর্ড অতীতে মার্কিন বাণিজ্যনীতির সমালোচনা করেছেন। ট্রাম্প প্রশাসনের চাপ তৈরির কৌশল নিয়ে হতাশা প্রকাশের পাশাপাশি তিনি মার্কিন অ্যালকোহলের ওপর অন্টারিওর নিষেধাজ্ঞার পক্ষেও সওয়াল করেছেন।
ট্রাম্প নতুন করে ৫০ শতাংশ শুল্কের হুমকি দেওয়ার পর গত মাসের শেষ দিকে ফোর্ড তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান। তাঁর বক্তব্য ছিল, এই ধরনের চাপের সামনে কানাডাকে দৃঢ় অবস্থান নিতে হবে। তাঁর মতে, যুক্তরাষ্ট্রের এমন নীতির কাছে নতি স্বীকার করলে শেষ পর্যন্ত কানাডার অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের ওপর তার প্রভাব পড়তে পারে।
অন্যদিকে কুইবেক সরকার জানিয়েছে, বাণিজ্য চুক্তিকে ন্যায্য বলে মনে না করা পর্যন্ত মার্কিন অ্যালকোহলের ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে। শুক্রবার কুইবেকের অর্থমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রদেশটির অ্যালকোহল বিক্রির বাজারে ইতিমধ্যেই বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে এবং এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার একমাত্র অধিকার কুইবেক সরকারের।
ফলে ওয়াশিংটনের সঙ্গে কানাডার বাণিজ্য আলোচনায় এখন প্রাদেশিক সরকারের সিদ্ধান্তই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। নতুন শুল্ক কার্যকর হওয়ার সময় যত এগিয়ে আসছে, ততই চাপ বাড়ছে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছনোর জন্য। মার্কিন অ্যালকোহল নিয়ে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার শেষ পর্যন্ত সেই সমঝোতার অংশ হবে কি না, এখন সেটিই বড় প্রশ্ন।

