
টেনিস কোর্টের এক প্রান্তে সারি সারি দর্শক। ছোট্ট প্র্যাক্টিস কোর্টের বাইরে ছয়-সাত সারিতে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছেন তাঁরা এক ঝলক দেখবেন ২১ বছরের সেই তরুণীকে, যিনি এখন ফিলিপিনোদের কাছে নতুন স্বপ্নের নাম। তিনি আলেক্সান্দ্রা ইয়ালা।
বুধবার টরন্টোর ন্যাশনাল ব্যাংক ওপেন ঘিরে এমনই উন্মাদনার ছবি দেখা গেল। ইয়ালার প্রি-ম্যাচ প্র্যাক্টিস দেখতে বিপুল সংখ্যক ফিলিপিনো সমর্থক জড়ো হয়েছিলেন সবিস স্টেডিয়ামে। কয়েক সপ্তাহ ধরেই গ্রেটার টরন্টো এরিয়ার বিশাল ফিলিপিনো কমিউনিটির মধ্যে তৈরি হয়েছে ‘ইয়ালা-ম্যানিয়া’।
কানাডা সফররত ফিলিপিনো সাংবাদিক এবং সাবেক টেনিস খেলোয়াড় ডায়ান কাস্টিলেয়োও ছিলেন সেখানে। ছোট দর্শক গ্যালারিতে দাঁড়িয়ে তিনি ভক্তদের অটোগ্রাফ দেন, ছবি তোলেন এবং পুরো পরিবেশের সাক্ষী হন। তাঁর কথায়, এতটা উন্মাদনা তিনি আগে কখনও দেখেননি। মনে হচ্ছিল যেন টরন্টো নয়, তিনি দাঁড়িয়ে আছেন ফিলিপিন্সেই। ইয়ালাকে ঘিরে এই উচ্ছ্বাসের পিছনে শুধু টেনিস নয়, কাজ করছে এক ধরনের আবেগ ও গর্ব। ফিলিপিনো কমিউনিটির অনেকেই তাঁকে দেশের পরবর্তী বড় ক্রীড়া তারকা হিসেবে দেখতে শুরু করেছেন।
আগামী সপ্তাহে টরন্টোতে আয়োজিত ‘টেস্ট অব ম্যানিলা’ অনুষ্ঠানের নির্বাহী পরিচালক ড্যানিলো বালুয়োত মনে করেন, ইয়ালার মধ্যে ম্যানি প্যাকুইয়াওয়ের মতোই বড় তারকা হয়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে। তাঁর কথায়, ইয়ালা তরুণ, প্রতিভাবান এবং তাঁকে ঘিরে মানুষের আগ্রহ ইতিমধ্যেই বিপুল। ফলে গোটা কমিউনিটির জন্য তিনি এক নতুন আনন্দ ও গর্বের অনুভূতি তৈরি করেছেন।
বুধবারের দৃশ্যটিও ছিল তারই প্রমাণ। বিশ্বকাপ ফুটবলের সময় যেমন বহুসংস্কৃতির টরন্টো একসঙ্গে উৎসবে মেতে ওঠে, ইয়ালাকে ঘিরেও তেমনই এক মিলনমেলার আবহ তৈরি হয়েছিল। ম্যানি প্যাকুইয়াওয়ের পর ফিলিপিন্সের সবচেয়ে বড় ক্রীড়া তারকা হিসেবে ইয়ালাকে ঘিরে প্রত্যাশা ক্রমেই বাড়ছে।
সেই প্রত্যাশায় আরও জোর দিয়েছেন খোদ প্যাকুইয়াও। চলতি সপ্তাহে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ এক পোস্টে তিনি ইয়ালাকে ‘নতুন চ্যাম্পিয়ন’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ফলে টরন্টোর টেনিস কোর্টে ইয়ালার প্রতিটি পদক্ষেপ এখন শুধু একটি ম্যাচের অংশ নয় তা হয়ে উঠেছে গোটা ফিলিপিনো কমিউনিটির গর্ব, আবেগ এবং নতুন স্বপ্নের প্রতীক।

