
শুধু ভালোবাসা থাকলেই সুখী ও দীর্ঘস্থায়ী দাম্পত্য নিশ্চিত হয় না
শুধু ভালোবাসা থাকলেই সুখী ও দীর্ঘস্থায়ী দাম্পত্য নিশ্চিত হয় না। নতুন এক জরিপে উঠে এসেছে, একটি সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে ভালোবাসার পাশাপাশি প্রয়োজন পারস্পরিক বোঝাপড়া, সম্মান, খোলামেলা যোগাযোগ, দায়িত্ববোধ ও মানসিক পরিপক্বতা।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ম্যাচমেকিং অ্যাপ রিবাউন্স ২৮ থেকে ৪৫ বছর বয়সী ৯ হাজার ৬৮৪ জন বিবাহবিচ্ছেদ হওয়া বা আলাদা থাকা নারী-পুরুষের ওপর জরিপটি চালায়। তাদের অভিজ্ঞতায় বিয়ে ও ভালোবাসা নিয়ে প্রচলিত কিছু ধারণার সীমাবদ্ধতা উঠে এসেছে।
জরিপে অংশ নেওয়া নারীদের বড় একটি অংশ জানান, বিয়ের অনুষ্ঠান, পোশাক ও আয়োজন নিয়ে যতটা গুরুত্ব দেওয়া হয়, তার তুলনায় জীবনসঙ্গীর সঙ্গে মানসিক, আর্থিক ও মূল্যবোধের মিল নিয়ে আলোচনা করা হয় কম।
অন্যদিকে ৩০ থেকে ৪০ বছর বয়সী ৪৩ শতাংশ অংশগ্রহণকারী জানান, একসময় তারা মনে করেছিলেন সঙ্গীকে পুরোপুরি জেনে ফেলেছেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে মানুষের চিন্তা, স্বপ্ন ও প্রয়োজন বদলে যাওয়ায় এই ধারণা সম্পর্কের দূরত্ব বাড়াতে পারে।
এ ছাড়া ৩৯ শতাংশ অংশগ্রহণকারী মনে করেন, ভালোবাসার নামে একজন যদি বারবার নিজের ইচ্ছা ও প্রয়োজন বিসর্জন দেন, তাহলে সেই ত্যাগ একসময় ক্ষোভে পরিণত হতে পারে। তাই সুস্থ সম্পর্কের জন্য দুজনের সমান দায়িত্ব ও সমঝোতা জরুরি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিয়ের আগে অর্থনৈতিক পরিকল্পনা, সন্তান, ক্যারিয়ার, পারিবারিক দায়িত্ব ও ভবিষ্যৎ প্রত্যাশা নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করা উচিত। মতবিরোধ হলে দোষারোপ না করে সমাধানের চেষ্টা এবং একে অপরের ব্যক্তিগত পরিসরের প্রতি সম্মান দেখানোও গুরুত্বপূর্ণ।
রিবাউন্সের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী রবি মিত্তলের ভাষ্য, ভালোবাসা সম্পর্কের ভিত্তি হলেও শুধু ভালোবাসা দিয়ে সব সমস্যা সমাধান করা সম্ভব নয়। বিশ্বাস, দায়িত্ববোধ, শ্রদ্ধা ও নিয়মিত যোগাযোগের মাধ্যমেই সেই সম্পর্ককে শক্ত করা যায়।
সব মিলিয়ে জরিপটির মূল বার্তা হলো—ভালোবাসা সংসার শুরু করতে পারে, কিন্তু সংসার টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন যত্ন, বোঝাপড়া, সম্মান ও দুজনের সমান দায়িত্ব।

