মে মাসের কানাডায় খুচরা বিক্রি বেড়েছে

মে মাসের কানাডায় খুচরা বিক্রি বেড়েছে - the Bengali Times
সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী খুচরা বিক্রির যে নয়টি প্রধান উপখাত নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হয় মে মাসে প্রতিটি ক্ষেত্রেই বিক্রয় বৃদ্ধি পেয়েছে

কানাডার খুচরা বাজারে আবারও ইতিবাচক প্রবণতার দেখা মিলেছে। চলতি বছরের মে মাসে দেশটির মোট খুচরা বিক্রয় আগের মাসের তুলনায় ১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় ৭৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন কানাডিয়ান ডলারে (৭ হাজার ৩৭০ কোটি ডলার) পৌঁছেছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রবৃদ্ধির সবচেয়ে বড় চালিকাশক্তি ছিল জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি, যার ফলে গ্যাসোলিন স্টেশন ও জ্বালানি বিক্রেতাদের আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত স্ট্যাটিস্টিকস কানাডা-র সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুধু জ্বালানি খাত নয়, খুচরা বাজারের প্রায় সব প্রধান খাতেই মে মাসে বিক্রির উন্নতি হয়েছে। ফলে দ্বিতীয় প্রান্তিকে কানাডার ভোক্তা ব্যয় এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি ফিরে আসার ইঙ্গিত মিলছে।

সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, খুচরা বিক্রির যে নয়টি প্রধান উপখাত নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হয়, মে মাসে প্রতিটি ক্ষেত্রেই বিক্রয় বৃদ্ধি পেয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছে গ্যাসোলিন স্টেশন ও জ্বালানি বিক্রেতারা, যেখানে বিক্রি বেড়েছে ৩.১ শতাংশ। তবে অর্থনীতিবিদরা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও তুলে ধরেছেন। বিক্রির আর্থিক মূল্য বাড়লেও প্রকৃত বিক্রির পরিমাণ বা ভলিউম ২.৭ শতাংশ কমেছে। অর্থাৎ, মানুষ আগের তুলনায় বেশি পরিমাণ জ্বালানি কেনেনি; বরং দাম বেড়ে যাওয়ায় বিক্রির মোট মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে মূল্যস্ফীতির প্রভাব বাদ দিয়ে হিসাব করলে, মে মাসে মোট খুচরা বিক্রির প্রকৃত পরিমাণ ০.৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ভোক্তা চাহিদা কিছুটা শক্তিশালী হওয়ার ইঙ্গিত দেয়।

- Advertisement -

শুধু জ্বালানির উচ্চমূল্যের কারণেই পুরো বাজারে প্রবৃদ্ধি হয়েছে এমন ধারণা পুরোপুরি সঠিক নয়। গ্যাসোলিন স্টেশন, জ্বালানি বিক্রেতা এবং মোটরগাড়ি ও যন্ত্রাংশ ডিলারদের বাদ দিয়ে হিসাব করা মূল খুচরা বিক্রয় মে মাসে ০.৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। অর্থাৎ অন্যান্য পণ্য ও সেবার ক্ষেত্রেও ভোক্তারা আগের তুলনায় বেশি ব্যয় করেছেন।

বিএমওর জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ শেলি কৌশিক মনে করেন, মে মাসের খুচরা বিক্রির এই প্রবৃদ্ধি কানাডার অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করছে। তার মতে, দ্বিতীয় প্রান্তিকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি ফিরে আসার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। তবে এই ইতিবাচক ধারা ধরে রাখা সহজ হবে না। কারণ বছরের দ্বিতীয়ার্ধে কয়েকটি বড় চ্যালেঞ্জ অর্থনীতিকে চাপের মুখে ফেলতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বাড়তি শুল্ক, চরম আবহাওয়ার সম্ভাব্য প্রভাব এবং জ্বালানির দামে নতুন করে অস্থিরতা এই তিনটি বিষয় আগামী মাসগুলোতে ভোক্তা ব্যয় ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

টিডি ব্যাংকের অর্থনীতিবিদ মারিয়া সোলোভিয়েভা বলেন, টানা দুই মাস পতনের পর মূল খুচরা বিক্রিতে প্রবৃদ্ধি অবশ্যই ইতিবাচক খবর। তবে এই প্রবৃদ্ধি দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকবে কি না, তা নিয়ে এখনও যথেষ্ট অনিশ্চয়তা রয়েছে। তার মতে, সাময়িক কিছু ইতিবাচক তথ্য পাওয়া গেলেও উচ্চ সুদের হার, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ভবিষ্যতে ভোক্তাদের ব্যয় করার প্রবণতা কমিয়ে দিতে পারে।

মে মাসে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ খাতে বিক্রি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সাধারণ পণ্য বিক্রেতাদের বিক্রি গত তিন মাসের মধ্যে প্রথমবারের মতো ১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। খেলাধুলার সামগ্রী, শখের পণ্য, সংগীত যন্ত্র, বই এবং অন্যান্য বিশেষায়িত খুচরা বিক্রেতাদের বিক্রি ১.৮ শতাংশ বেড়েছে, যা গত তিন মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। খাদ্য ও পানীয় পণ্যের খুচরা বিক্রিও ০.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা দৈনন্দিন ভোগ্যপণ্যের চাহিদা স্থিতিশীল থাকার ইঙ্গিত দেয়। স্ট্যাটিস্টিকস কানাডা জানিয়েছে, তাদের প্রাথমিক মূল্যায়ন অনুযায়ী জুন মাসেও খুচরা বিক্রিতে ০.৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হতে পারে। তবে এটি প্রাথমিক হিসাব হওয়ায় চূড়ান্ত তথ্য প্রকাশের সময় এতে পরিবর্তন আসতে পারে বলেও সংস্থাটি সতর্ক করেছে।

মে মাসের খুচরা বিক্রির পরিসংখ্যান থেকে বোঝা যায়, কানাডার ভোক্তা বাজার এখনও স্থিতিশীল রয়েছে এবং অর্থনীতিতে ধীরে ধীরে গতি ফিরছে। তবে এই প্রবৃদ্ধির একটি বড় অংশ এসেছে জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধির কারণে, যা দীর্ঘমেয়াদে টেকসই প্রবৃদ্ধির নিশ্চয়তা দেয় না। আগামী কয়েক মাসে মূল্যস্ফীতি, বাণিজ্যনীতি, জ্বালানির দাম এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে কানাডার খুচরা বাজার এই ইতিবাচক ধারা ধরে রাখতে পারে কি না।

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles