
কানাডার কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যাংক অব কানাডা চলমান নিরাপত্তাকর্মীদের ধর্মঘটের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো শ্রম আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ধাক্কা খেল। দেশটির শ্রম-সম্পর্ক বিষয়ক নিয়ন্ত্রক সংস্থা কানাডা ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিলেশন্স বোর্ড (সিআইআরবি) রায় দিয়েছে, ধর্মঘট চলাকালে চুক্তিভিত্তিক নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগের মাধ্যমে ব্যাংকটি কানাডার শ্রম বিধি লঙ্ঘন করেছে।
বুধবার দেওয়া সিআইআরবির সর্বশেষ সিদ্ধান্তে বলা হয়েছে, ধর্মঘটরত নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনের জন্য পিঙ্কারটন কনসাল্টিং অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশনস-এর ঠিকাদারদের কাজে লাগানো আইনসঙ্গত হয়নি। ফলে ব্যাংক অব কানাডাকে ওই সেবা গ্রহণ বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এটি চলতি মাসে দ্বিতীয়বারের মতো এমন নির্দেশনা। এর আগে মাসের শুরুতে বোর্ড আরেকটি পৃথক রায়ে জানিয়েছিল, গার্ডা কানাডা সিকিউরিটি কর্পোরেশন-এর মাধ্যমে চুক্তিভিত্তিক নিরাপত্তাসেবা গ্রহণ করেও কেন্দ্রীয় ব্যাংক একই শ্রম আইন লঙ্ঘন করেছে।
ব্যাংক অব কানাডার নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের প্রতিনিধিত্বকারী ইউনিয়নের সঙ্গে নতুন যৌথ দর-কষাকষি চুক্তি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চলছিল। তবে উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতা না হওয়ায় চলতি বছরের জুন মাস থেকে নিরাপত্তা কর্মকর্তারা ধর্মঘটে রয়েছেন। ধর্মঘটের কারণে ব্যাংকের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হয়। সেই পরিস্থিতি মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিকল্প নিরাপত্তা ব্যবস্থা হিসেবে চুক্তিভিত্তিক নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগের পথ বেছে নেয়। কিন্তু ইউনিয়নের অভিযোগ ছিল, ধর্মঘট চলাকালে এ ধরনের নিয়োগ শ্রমিকদের অধিকার খর্ব করে এবং এটি কানাডা লেবার কোডের পরিপন্থী। সিআইআরবি সেই অভিযোগের সঙ্গে একমত হয়ে পরপর দুটি সিদ্ধান্তে ব্যাংকের পদক্ষেপকে আইনবিরোধী বলে অভিহিত করেছে।
গত সপ্তাহে এক ইমেইল বিবৃতিতে ব্যাংক অব কানাডা জানিয়েছিল, তারা বোর্ডের আগের সিদ্ধান্ত পুরোপুরি মেনে চলছে এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রস্তুতি নিয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করবে না। তবে সর্বশেষ রায়ের পর বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক হতাশা প্রকাশ করেছে। ব্যাংকের দাবি, তারা সবসময় কানাডা লেবার কোড এবং সিআইআরবির পূর্ববর্তী নির্দেশনা অনুসরণ করেছে। ব্যাংকের বক্তব্য অনুযায়ী, আগের রায়ের পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা বা কারণ এখনও তাদের হাতে পৌঁছায়নি। তবুও প্রথম সিদ্ধান্তের পর তারা তাদের স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নতুন বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, সর্বশেষ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ের পথ খোলা রাখছে তারা এবং প্রয়োজন হলে আইনগত সব ধরনের বিকল্প বিবেচনা করবে।
কানাডায় সাম্প্রতিক সময়ে ধর্মঘট চলাকালে নিয়োগকর্তাদের বিকল্প কর্মী ব্যবহারের বিষয়ে আইন আরও কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে। বিশেষ করে ফেডারেল শ্রম আইনের আওতাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে ধর্মঘট ভাঙতে চুক্তিভিত্তিক কর্মী ব্যবহার করলে তা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ব্যাংক অব কানাডার বিরুদ্ধে পরপর দুটি সিদ্ধান্ত সেই কঠোর অবস্থানেরই প্রতিফলন বলে মনে করা হচ্ছে।
বর্তমানে নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের ধর্মঘট অব্যাহত রয়েছে। অন্যদিকে, সিআইআরবির নির্দেশনা এবং সম্ভাব্য আইনি চ্যালেঞ্জের কারণে ব্যাংক অব কানাডাকে নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় নতুন করে পরিকল্পনা করতে হতে পারে। শ্রম বিরোধ দ্রুত সমাধান না হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কার্যক্রমে সরাসরি প্রভাব না পড়লেও নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা ও শ্রম সম্পর্কের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি জটিলতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে এই ঘটনা কানাডার অন্যান্য ফেডারেল প্রতিষ্ঠানের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির হয়ে থাকতে পারে, যেখানে ধর্মঘট চলাকালে বিকল্প কর্মী ব্যবহারের বিষয়ে আরও সতর্ক অবস্থান নিতে হবে।

