লাম্বার কোম্পানিকে ফেডারেল সরকারের ১০ কোটি ডলার ঋণ

লাম্বার কোম্পানিকে ফেডারেল সরকারের ১০ কোটি ডলার ঋণ - the Bengali Times
যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত শুল্ক এবং বৈশ্বিক বাণিজ্য অনিশ্চয়তার কারণে চাপে পড়া কানাডার বনজ শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে বড় ধরনের আর্থিক সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে ফেডারেল সরকার

যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত শুল্ক এবং বৈশ্বিক বাণিজ্য অনিশ্চয়তার কারণে চাপে পড়া কানাডার বনজ শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে বড় ধরনের আর্থিক সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে ফেডারেল সরকার। ওয়েস্টার্ন কানাডাভিত্তিক লাম্বার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান মিলার ওয়েস্টার্ন লাম্বার প্রোডাক্টস-কে ১০ কোটি কানাডিয়ান ডলার ঋণ দেওয়া হচ্ছে, যাতে প্রতিষ্ঠানটি বর্তমান অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলা করে উৎপাদন ও কর্মসংস্থান ধরে রাখতে পারে। ফিন্যান্স কানাডা জানিয়েছে, এই ঋণের মূল উদ্দেশ্য হলো কোম্পানিটির স্বল্পমেয়াদি পুনর্গঠন কার্যক্রমে সহায়তা করা। বিশেষ করে কাঠের মজুদ পুনর্গঠন, উৎপাদন ব্যবস্থার স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং বাজারের পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে দ্রুত খাপ খাইয়ে নেওয়ার জন্য এই অর্থ ব্যবহার করা হবে।

বর্তমানে মিলার ওয়েস্টার্ন আলবার্টা ও ব্রিটিশ কলাম্বিয়ায় তিনটি লাম্বার মিল পরিচালনা করছে। প্রতিষ্ঠানটি মূলত রপ্তানিনির্ভর হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে শুল্ক বৃদ্ধি তাদের ব্যবসায় সরাসরি প্রভাব ফেলেছে। কোম্পানিটিতে প্রায় ৪২০ জন স্থায়ী কর্মী কাজ করলেও, রক্ষণাবেক্ষণ, পরিবহন, ঠিকাদারি এবং বিভিন্ন পরামর্শসেবার মাধ্যমে আরও কয়েকশ মানুষের জীবিকা এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত।

- Advertisement -

কানাডার সফটউড লাম্বার শিল্প দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যিক বিরোধের মুখোমুখি। মার্কিন শুল্ক আরোপের ফলে কানাডীয় কাঠের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা কমেছে, যার প্রভাব পড়েছে উৎপাদন, রপ্তানি এবং নতুন বিনিয়োগের ওপর। এর সঙ্গে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা যুক্ত হওয়ায় শিল্পটি আরও বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। ফিন্যান্স কানাডার মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে অনেক বনজ শিল্পপ্রতিষ্ঠান নগদ অর্থপ্রবাহের সংকট, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা ধরে রাখার লড়াইয়ে রয়েছে। ফলে সরকারি সহায়তা ছাড়া অনেক প্রতিষ্ঠানের জন্য কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখা কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

অটোয়া স্পষ্ট করেছে, এই ঋণ শুধুমাত্র একটি কোম্পানিকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নয়; বরং এর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের কর্মসংস্থান, স্থানীয় অর্থনীতি এবং বনজ শিল্পের সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। সরকারের আশা, এই তহবিলের মাধ্যমে মিলার ওয়েস্টার্ন বর্তমান সংকট কাটিয়ে উৎপাদন অব্যাহত রাখতে পারবে এবং শত শত কর্মীর চাকরি সুরক্ষিত থাকবে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি ভবিষ্যতের বাজার পরিস্থিতির সঙ্গে নিজেকে আরও কার্যকরভাবে মানিয়ে নেওয়ার সুযোগ পাবে।

এই অর্থায়ন করা হচ্ছে ফেডারেল সরকারের ১০০০ কোটি কানাডিয়ান ডলারের “লার্জ এন্টারপ্রাইজ ট্যারিফ লোন” কর্মসূচির আওতায়। যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে সহায়তা দেওয়ার উদ্দেশ্যে এই বিশেষ তহবিল গঠন করা হয়েছে। এ পর্যন্ত এই কর্মসূচি থেকে খুব অল্পসংখ্যক প্রতিষ্ঠান ঋণ পেয়েছে। মিলার ওয়েস্টার্ন তাদের মধ্যে অন্যতম। এর আগে অন্টারিওভিত্তিক ইস্পাত উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান অ্যালগোমা স্টিল-ও একই কর্মসূচির আওতায় আর্থিক সহায়তা পেয়েছিল।

কানাডার বনজ শিল্প দেশের রপ্তানি আয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত। ফলে এই শিল্পে দীর্ঘমেয়াদি সংকট শুধু কোম্পানিগুলোর নয়, বরং স্থানীয় অর্থনীতি, কর্মসংস্থান এবং সংশ্লিষ্ট সরবরাহ ব্যবস্থার ওপরও বড় প্রভাব ফেলতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে সরকারের এই ঋণ সহায়তা তাৎক্ষণিক আর্থিক স্বস্তি দিলেও, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শুল্ক বিরোধের স্থায়ী সমাধান না হলে শিল্পটির সামনে চ্যালেঞ্জ পুরোপুরি কাটবে না। তবে আপাতত অটোয়ার এই উদ্যোগ বনজ শিল্পে আস্থা ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি কর্মসংস্থান রক্ষা এবং রপ্তানিমুখী উৎপাদন বজায় রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেই মনে করছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা।

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles