
আরও একবার প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের ম্যাচ জিতেছে আর্জেন্টিনা। শুধু ম্যাচই জেতেনি, ইংল্যান্ডের স্বপ্ন চূরমার করে দিয়ে টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপের ফাইনালেও উঠে গেছে লিওনেল মেসির দল।
আটলান্টায় দ্বিতীয় সেমি-ফাইনালের ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়েছে আর্জেন্টিনা। এই জয়ে ২০২২ বিশ্বকাপের পর আবারও ফাইনালে উঠেছে তিনবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। আর ম্যাচ শেষে নিজের প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে নিন্দুকদেরও এক হাত নিয়েছেন মেসি।
টিওয়াইসি স্পোর্টসে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আর্জেন্টিনার মহাতারকা বলেছেন, কেউ পছন্দ না করলেও যোগ্য দল হিসেবেই আবারও ফাইনালে আলবিসেলেস্তেরা।
“একটি বিশ্বকাপ জয়ের পর আবারও বিশ্বকাপের ফাইনালে পৌঁছানো। মানুষ যা-ই বলুক না কেন, তা পছন্দ করুক বা না করুক, গত চার বছর ধরে আমরাই সেরা ছিলাম। আজও আমরা বিশ্বের সেরা দুই দলের একটি।”
“এটি প্রমাণ করে যে আমরা যা কিছু অর্জন করেছি তা কোনো কাকতালীয় ব্যাপার নয় এবং কেউ আমাদের এমনিতেই কিছু দেয়নি। টানা দুটি বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠা এমন একটি অর্জন যা খুব কম দলই করতে পারে, আর এই দলটি তা করে দেখিয়েছে।”
ম্যাচের ৫৫ মিনিটে অ্যান্থনি গর্ডনের গোলে এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড। পরে ত্রিশ মিনিট এই লিড ধরে রাখে তারা। সেখান থেকে ৮৫ মিনিটে গিয়ে মেসির অ্যাসিস্টেই দূরপাল্লার শটে সমতা ফেরান এনজো ফার্নান্দেজ।
পরে ইনজুরি টাইমের দ্বিতীয় মিনিটে মেসির মাপা ক্রসে হেড করে আর্জেন্টিনার কামব্যাকের গল্প পূর্ণ করেন লাউতারো মার্তিনেজ। এই গোলের সৌজন্যেই নকআউটের টানা চতুর্থ ম্যাচে প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখে ফাইনাল নিশ্চিত করেন মেসি, মার্তিনেজরা।
এমন কামব্যাকের পর সতীর্থদের প্রশংসায় ভাসালেন মেসি।
“এটা সত্যিই অবিশ্বাস্য। এই দলটি অসাধারণ। আজও আমরা হাল ছাড়িনি। পিছিয়ে পড়ার পরও নিজেদের খেলাটা খেলেছি, বিশ্বাস হারাইনি। প্রতিপক্ষকে তাদের অর্ধেই আটকে রেখেছিলাম। এই জয়ের আনন্দ ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন।”
এসময় সমর্থকদের উদ্দেশে মেসির বার্তাও ছিল আবেগঘন। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের মতো এবারও তিনি সবাইকে মুহূর্তটি উপভোগ করার আহ্বান জানান।
“আমাদের মতো আপনারাও এই মুহূর্তটা উপভোগ করুন। আমরা আবারও বিশ্বকাপের ফাইনালে, আবার বিশ্বের সেরা দুই দলের একটি। চার বছর বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হিসেবে কাটিয়েছি, এখন আবারও শিরোপার লড়াইয়ে। শেষ ধাপে পৌঁছাতে পেরেছি, এটাই আমরা সবাই চেয়েছিলাম। বাকিটা ঈশ্বরের ইচ্ছা।”

