
ফুটবল বিশ্বকাপের উন্মাদনার মধ্যেই এক অপ্রত্যাশিত ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ম্যাচ-পরবর্তী লাইভ সম্প্রচারের সময় দক্ষিণ কোরিয়ার এক সাংবাদিককে জড়িয়ে ধরে গালে চুমু দেন মেক্সিকোর এক নারী সমর্থক। ঘটনাটির ভিডিও দ্রুত ভাইরাল হয়ে পড়ে এবং শুরু হয় বিতর্ক।
ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, নিজ দলের জয় নিয়ে উচ্ছ্বসিত সমর্থকদের ভিড়ের মধ্যে দাঁড়িয়ে সরাসরি সম্প্রচার করছিলেন ওই কোরিয়ান সাংবাদিক। এ সময় হঠাৎ পেছন থেকে এসে এক নারী সমর্থক তাঁকে জড়িয়ে ধরেন। কিছু বুঝে ওঠার আগেই সাংবাদিকের গালে চুমু খান তিনি। ঘটনার আকস্মিকতায় সাংবাদিককে কিছুটা অপ্রস্তুত দেখা গেলেও তিনি সম্প্রচার চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।
ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, কোনো ব্যক্তির সম্মতি ছাড়া এমন আচরণ গ্রহণযোগ্য কি না। তাঁদের মতে, যদি একই ঘটনা উল্টোভাবে ঘটত—অর্থাৎ কোনো পুরুষ একজন নারী সাংবাদিককে এভাবে চুমু দিতেন—তাহলে বিষয়টি যৌন হয়রানি হিসেবে বিবেচিত হতে পারত।
অন্যদিকে কিছু সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারকারী ঘটনাটিকে বিশ্বকাপ-উৎসবের আবেগ ও উচ্ছ্বাসের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন। তাঁদের মতে, এটি পরিকল্পিত কোনো অসদাচরণ নয়; বরং বিজয়ের আনন্দে করা তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া।
ঘটনাটি এমন সময়ে ঘটল, যখন বিশ্বকাপের নিজেদের প্রথম ম্যাচে জয় পেয়েছে দুই দলই। মেক্সিকো ২-০ গোলে দক্ষিণ আফ্রিকাকে পরাজিত করেছে। অন্যদিকে দক্ষিণ কোরিয়া পিছিয়ে পড়েও দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে ২-১ গোলে চেক রিপাবলিককে হারিয়েছে।
তবে মাঠের লড়াইয়ের বাইরে এই ঘটনাই এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। ব্যক্তিগত সম্মতি, পেশাগত পরিবেশে আচরণ এবং জনসমক্ষে ব্যক্তিগত সীমারেখা—এসব বিষয় নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে।

