
টরন্টোর অন্যতম বৃহৎ ফুড ব্যাংক সংস্থা ফিড স্কারবোরোর সঙ্গে সব ধরনের সম্পর্ক ছিন্ন করেছে ডেইলি ব্রেড ফুড ব্যাংক নেটওয়ার্ক। আর্থিক ও প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনার অভিযোগ ওঠার পর ৩১ জানুয়ারি থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে ডেইলি ব্রেড।
প্রতিবেদককে দেওয়া এক বিবৃতিতে ডেইলি ব্রেড জানায়, ফিড স্কারবোরোর অতীত ব্যয়ের ক্ষেত্রে গুরুতর অসংগতি ধরা পড়েছে। বিশেষ করে বিভিন্ন ইনভয়েস ও আর্থিক নথিতে অসামঞ্জস্যতার প্রমাণ পাওয়ার পর সংস্থাটির সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখা সম্ভব নয় বলে মনে করেছে ডেইলি ব্রেড কর্তৃপক্ষ।
ডেইলি ব্রেডের দাবি, এসব অনিয়মের বিষয়টি তারা ইতোমধ্যে টরন্টো পুলিশ সার্ভিসসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছে। টরন্টো পুলিশ সার্ভিস সিটিনিউজকে নিশ্চিত করেছে যে, অভিযোগগুলো বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। তবে এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো অভিযোগ দায়ের করা হয়নি এবং আদালতেও এসব অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হয়নি।
ডেইলি ব্রেড ফুড ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) নিল হিদারঙ্গিটন এক বিবৃতিতে বলেন, “আমরা একটি পূর্ণাঙ্গ ও স্বাধীন আর্থিক তদন্ত পরিচালনার জন্য বাইরের আইনি পরামর্শক নিয়োগ দিয়েছিলাম। তদন্তে যে তথ্য উঠে এসেছে, তা আমরা টরন্টো পুলিশ সার্ভিসসহ উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করেছি।”
ডেইলি ব্রেড ফুড ব্যাংক নেটওয়ার্ক টরন্টো অঞ্চলে একটি কেন্দ্রীয় বিতরণ হাব হিসেবে কাজ করে। এই নেটওয়ার্কের আওতায় রয়েছে ১৪৪টি সদস্য সংস্থা, যারা সম্মিলিতভাবে ২০০টিরও বেশি ফুড ব্যাংক কর্মসূচি পরিচালনা করে আসছে। এসব কর্মসূচির মাধ্যমে প্রতি বছর হাজারো পরিবারকে খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হয়।
ফিড স্কারবোরো ছিল এই নেটওয়ার্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ডেইলি ব্রেডের মাধ্যমে তারা প্রতি বছর কয়েক লাখ ডলার মূল্যের খাদ্য সহায়তা পেত। এছাড়া ২০২১ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে ফিড স্কারবোরো মোট ৬ লাখ ২০ হাজার ডলারের অনুদান তহবিলও পেয়েছে বলে জানিয়েছে ডেইলি ব্রেড।
এই ঘটনার ফলে স্কারবোরো এলাকায় খাদ্য সহায়তা কার্যক্রমে কী ধরনের প্রভাব পড়বে, তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তবে ডেইলি ব্রেড জানিয়েছে, তারা তাদের অন্যান্য সদস্য সংস্থার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সহায়তা অব্যাহত রাখার চেষ্টা করবে, যাতে খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভোগা মানুষদের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব কমানো যায়।
এদিকে তদন্তের অগ্রগতি এবং অভিযোগের ভবিষ্যৎ আইনগত পরিণতি নিয়ে নজর রাখছে স্থানীয় গণমাধ্যম ও সংশ্লিষ্ট মহল।

